শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে চেয়ার বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জামায়াতে উপজেলা সেক্রেটারি নিহত হয়েছেন।
আজ বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে নেওয়ার পথে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম নিহত হয়েছেন। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর-৩ আসনে জামায়াত মনোনীতি প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল।
জানা গেছে, আজ দুপুরে ঝিনাইগাতী মিনি স্টেডিয়াম মাঠে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে চেয়ার বসানোকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
ইশতেহার অনুষ্ঠানে বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল এবং জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে চেয়ার বসানোকে কেন্দ্র করে প্রথমে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত শতাধিক কর্মী-সমর্থক আহত হন।
পরে সন্ধ্যায় দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে গুরুতর আহত অবস্থায় শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিমকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান বলে নিশ্চিত করেছেন শেরপুর-৩ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল।
সংঘর্ষের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে দুইজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। এ ছাড়া তাদের সঙ্গে থাকা একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।