Image description

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, মায়েদের জন্য পর্যাপ্ত বাস সার্ভিসের পাশাপাশি ডে কেয়ার ও বেবি কেয়ার সেন্টারের ব্যবস্থা করা হবে। পর্যায়ক্রমে সব আমরা করব। তিনি বলেন, বিগত ১৫ বছর আমরা এ ধরনের মা পেয়েছি। তাদের একজন শরীফ ওসমান হাদির মা। আজ বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে মিরপুরের মনিপুর স্কুলে ঢাকা-১৫ আসনের মহিলা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমরা মায়েদের জন্য ৫ ঘণ্টা কর্মঘণ্টার কথা বলতেই কিছু লোক হইচই শুরু করে দিলো। আমরা কী বলেছি- তা বোঝার চেষ্টাই করেনি। আমরা যেসব মা সন্তান লালন করতে গিয়ে চাকরিটাই ছেড়ে দেন, তাদের জন্যই ৫ ঘণ্টা কর্মঘণ্টার কথা বলেছি।  

তিনি আরও বলেন, আল্লাহ তায়ালা মায়েদের মতো একটা জাতি পৃথিবীতে দিয়েছেন, যাদের উদরে আমরা জন্মগ্রহণ করেছি। প্রত্যেক মানব শিশু তার মায়ের উদরে ২৮৫ দিন বা তার দশ দিন কম বেশি সময় অবস্থান করে। এরপর আল্লাহ তাআলার ইচ্ছায় পৃথিবীতে আসে। দুনিয়াতে আসার পর কয়েকটি শ্বাস নিয়ে কিছু শিশু মৃত্যুবরণ করে। আর কিছু শিশু বেঁচে থাকে। একটি শিশু মায়ের উদরে বেড়ে উঠে। শিশু মায়ের শরীরের রক্ত পুষ্টি থেকে জীবনধারণের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান গ্রহণ করে। 

আমীরে জামায়াত বলেন, আপনারা এমনই মায়ের জাতি, আপনাদের এই ঋণ কেমনে শোধ করব। আমি খুঁজে পাচ্ছি না। মা একটা কন্যা সন্তানকে বড় করে তোলেন, লালন পালন করেন। একটা সন্তানের দেখাশোনার বড় অংশই মায়ের উপর বর্তায়। বাবাদের এসব কাজে থাকে না। কন্যা সন্তানটি যখন বড় হয়, তখন একটা সৎ পাত্রের হাতে উপহার দেয়া হয়। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় উপহার হলো নিজের উদরে ও বুকে লালন করা কন্যা সন্তানকে অপরের কাছে দেয়া। আমি প্রত্যেক পুরুষদের বলি তারা যেন তাদের স্ত্রীদের সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করেন। আপনাদের কাজ ছোট বাড়ির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বাড়ির কাজ আঞ্জাম দিয়ে বাহিরেও আপনাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। 

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু ইসলামের সাথে যুদ্ধের কঠিন মুহূর্তে নারীরা দায়িত্ব পালন করেছেন। ওহুদের যুদ্ধে সকল সাহাবিরা কাফেরদের আক্রমণের মুখে দিক বিদিক হয়ে গিয়েছিল। তখনো আল্লাহর রাসূলকে নিরাপত্তা দিয়েছেন সাহাবী হযরত নুসাইবা (রা:)। ইয়ারমুকের যুদ্ধে মুসলমানদের সাহস যুগিয়েছিলেন আবু সুফিয়ানের স্ত্রী হিন্দা। মুসলমান হওয়ার পরে তিনি জানপ্রাণ দিয়ে দ্বীনের পক্ষে কাজ করেছিলেন। নুসাইবা আর হিন্দার উত্তরসূরিদের চোখ রাঙানি দিয়ে থামিয়ে দেয়া যাবে না। 

মহিলা সাহাবিদের ত্যাগের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, আফরার বিধবা স্ত্রী দুই সন্তানকে কোলে নিলেন, ডুক ডুক করে কেঁদে দিলেন। সন্তানরা বললো, মা তুমি কাঁদো কেন? তোমাদের বাবা নেই, আল্লাহর রাসূলের শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে। তোমাদের বাবাও নেই যুদ্ধে যাওয়ার জন্য। সন্তান বললো, আমরা যাবো৷ আমাদের গোসল করিয়ে দাও। সন্তানরা রাসূলের কাছে চলে গেলো। রাসূল বললো, তোমরা কম বয়সি যেতে পারবে না। ছোট্ট দুই শিশু বলে, আমরা মায়ের সাথে কথা দিয়ে এসেছি। রাসূল বললেন, তাহলে কুস্তি লড়াই করো, যে জিতবে সেই যাবে। ছোট ভাই বড় ভাইকে বললো, তুমি প্রথমে ইচ্ছা করে হেরে যাবে। আমি তো তোমার সাথে পারবো না। আল্লাহর রাসূল যুদ্ধের যাওয়ার অনুমতি দিলেন। যুদ্ধে যাওয়ার পর প্রথমে খুঁজ নিলেন, আবু জাহেল কে? আবু জাহেলের পরিচয় জানার পর ছুঁ মেরে আবু জাহেলের কাছে গিয়ে আঘাত করলো। আমরা এমন মা পেয়েছি। এসব মায়েদেরই উত্তরসূরি আমরা। 

আমীরে জামায়াত বলেন, যারা আমাদের লালন করলেন, আবার সমান সময় কর্মকাণ্ড দিতে হলো। এটা কি মায়েদের প্রতি অপমান নয়? বিভিন্ন জায়গায় নারীদের জন্য পর্যাপ্ত ওয়াশরুমের ব্যবস্থা নেই। আমরা তা নিশ্চিত করবো। ১২ তারিখে দুটি ভোট। হ্যাঁ মানে বাংলাদেশ, হ্যাঁ মানে আজাদি। দূর অতীতে যাওয়ার দরকার নেই। ৫ আগস্টের পরে কার আমলনামা কেমন, তা মূল্যায়ন করে ভোটটি দেবেন। একটি পরিশীলিত, সভ্য, উন্নয়নমুখী সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা চেষ্টা করে যাবো। এখানে থাকা যুবতী যারা আছে, তাদের বলবো, তোমাদের হাতে বেকার ভাতা দিব না। তোমাদের যথার্থ শিক্ষা দেবো। ভাষাগত দক্ষতা অর্জনের ব্যবস্থা করবো। বেকার ভাতা অপমান করার শামিল।

বাংলাদেশকে বিজয়ী করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন। ১২ তারিখের বিজয় হবে বাংলাদেশের মানুষের বিজয়। বাংলাদেশের মানুষের বিজয় মানে জামায়াতে ইসলামীর বিজয় বলে পরিগণিত হবে। 

জামায়াতের মহিলা কর্মীদের উপর হামলার বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যারা মায়েদের গায়ে হাত বাড়িয়েছো, তওবা করো ক্ষমা চাও। তবে বলে দিচ্ছি, আমাদের চেয়ে আমাদের মায়েদের জীবনের মূল্য বেশি। মাকে সম্মান করো, অন্যথায় ভবিষ্যৎ পরিণতির জন্য প্রস্তুত হও, সতর্ক করেন আমীরে জামায়াত।