Image description

শীত ও কুয়াশা উপেক্ষা করেই সারা দেশে চলছে বোরো ধান রোপণের মৌসুম। কৃষকরা চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন। চারা রোপণের জন্য জমির কাদা-মাটি সমান করতে মই ব্যবহার করা হয়।

দরিদ্র কৃষক সিরাজ মিয়া টাকার অভাবে গরুর পরিবর্তে নিজেই টানছেন সেই ‘মই’। তিনি চৌদ্দগ্রাম উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের মরহুম ইসমাইল মিয়ার ছেলে। হতদরিদ্র হয়েও ‘কৃষক কার্ড’ বা অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাননি তিনি। সরকারি কোনো প্রণোদনা না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কৃষক সিরাজ মিয়া।

নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে বোরো ধানের বীজতলা তৈরি করা হয়। আর ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে মূল জমিতে চারা রোপণ করেন। এপ্রিল ও মে মাসে পাকা ধান কাটেন কৃষকরা। এখন চলছে চারা রোপণের কাজ।

কিন্তু কৃষিকাজে খরচ বেড়ে যাওয়ায় দরিদ্র কৃষকরা পড়ছেন ভোগান্তিতে। টাকার অভাবে গরিব কৃষক সময়মতো ট্রাক্টর ও অপরের গরু ভাড়া করে কাদা-মাটি সমান করতে পারছেন না। ফলে অনেক কৃষকই নিজে ও পরিবারের সদস্যরা মিলে কাদা-মাটি সমান করার মই টানছেন।

এমনই চিত্র দেখা গেছে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের দুর্গাপুর এলাকার কৃষিজমিতে। ওই গ্রামের দরিদ্র কৃষক সিরাজ মিয়া টাকার অভাবে নিজেই মই টানছেন। গত সোমবার বিকালে তাকে বর্গা চাষের জমিতে মই টানতে দেখা যায়।

দরিদ্র কৃষক সিরাজ মিয়া বলেন, ‘বর্গা নিয়ে প্রায় আশি শতক জমিতে বোরো ধানের চারা রোপণের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। টাকার অভাবে কাদা-মাটি সমান করার জন্য মই নিজেই টানছি। শুনেছি, কৃষকদের সরকার বিনা মূল্যে বীজ ও সার দেয়। বন্যার সময় আমার ছবি ও আইডি কার্ড নিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত সরকারের কাছ থেকে কোনো ধরনের প্রণোদনা পাইনি।’

দরিদ্র কৃষকরা অভিযোগ করেন, প্রকৃত কৃষকরা সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা পায় না। যারা পায়, তাদের অনেকে মৌসুমি কৃষক। আবার অনেকে কৃষির সঙ্গে জড়িত নয়। স্বজনপ্রীতি আর রাজনৈতিক বৈষম্যের কারণে সারা দেশেই দরিদ্র ও প্রকৃত কৃষকরা সরকারি প্রণোদনা থেকে বঞ্চিত থাকে।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জুবায়ের আহমেদ বুধবার আমার দেশকে বলেন, ‘বিষয়টি অবগত হয়েছি। সরেজমিনে পরিদর্শন করে দরিদ্র কৃষক সিরাজ মিয়ার প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত সহযোগিতা করা হবে।’