কোটি টাকার সোলার লাইট কেলেংকারির পর এবার মহেশপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী সোহেল রানার বিরুদ্ধে সরকারী জমিতে ভবন নির্মানের নকশা অনুমোদন করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এনিয়ে এলাকায় হৈচৈ পড়ে গেলেও সরকারী রাস্তা উদ্ধারে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে না।
এ ঘটনায় পৌরসভা ও উপজেলা প্রশাসনের একাধিক নোটিশ ও নির্দেশ উপেক্ষা করে ভবন মালিক কাজ চলমান রেখেছেন। ফলে প্রশাসনের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, ২০২১ সালের পহেলা এপ্রিল মহেশপুর উপজেলা শহরের পৌর এলাকার পশু হাসপাতাল পাড়ায় ৪ দশমিক ৪৫ শতক জমি ক্রয় করেন মহেশপুর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা রায়হান উদ্দিনের মেয়ে রাজিয়া খাতুন। জমি দাতা ছিলেন একই এলাকার মাছুমা খাতুন।
জমি বিক্রয়ের সময় দলিলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিলো সরকারি রাস্তার সাথে সংযুক্ত হিসেবে ৭ ফুট প্রশস্ত একটি চলাচল রাস্তা দিতে হবে। কিন্তু জমি বিক্রেতা মাছুমা খাতুন ও তার ছেলে আতিকুর রহমান পাপ্পু দলিলে উল্লেখিত ওই রাস্তার অংশ দখল করে সেখানে পাকা ভবন নির্মাণ শুরু করেন।
অভিযোগ রয়েছে, রাস্তার অস্তিত্ব গোপন রেখে তারা পরিকল্পিতভাবে নির্মাণ কাজ শুরু করেন। এ কাজে মহেশপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সোহেল রানা দলিলের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উপেক্ষা করে গোপনে নকশা পাশ করে দেন, যা পুরো নির্মাণ কার্যক্রমকে অবৈধ করে তুলেছে।
ভুক্তভোগী পরিবার বিষয়টি জানতে পেরে মহেশপুর পৌরসভায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ তদন্তে নেমে দলিলে উল্লেখিত রাস্তার অস্তিত্বের প্রমান পায়। তদন্ত শেষে নির্মাণ কাজ বন্ধের নোটিশ দেওয়া হলেও মাছুমা খাতুন ও তার ছেলে আতিকুর রহমান পাপ্পু তা উপেক্ষা করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সরাসরি নির্মাণ কাজ বন্ধের নির্দেশ প্রদান করলেও সেই নির্দেশও মানা হয়নি। প্রশাসনের এমন স্পষ্ট নির্দেশ অমান্য করে কাজ চলমান থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
রাজিয়া খাতুন অভিযোগ করেন, মহেশপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী সোহেল রানার প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় দখলদার মাছুমা খাতুন ও তার ছেলে পাপ্পু নির্মান কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
মহেশপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সোহেল রানা জানান, আমরা তাদের নোটিশ দিয়েছি কিন্তু কাজ বন্ধ করছে না। এখন আমরা আইনগত পথে হাটছি। তাদের নকশা বাতিল করা হবে।
মহেশপুর পৌরসভার প্রশাসক ও মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার বলেন, আমরা জমি দাতার কাছে কারণ দর্শাণোর নোটিশ দিয়েছি। তারা জবাব দিয়েছে। এখন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঝিনাইদহ স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক রিথীন্দ্র নাথ রায় বলেন, এ ধরণের কোন ঘটনা ঘটে থাকলে পৌরসভার আইনা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। সরকারী ভাগাড় বা রাস্তা কাউকে দখল করতে দেওয়া হবে না।