Image description
 

ঢাকার সব সাবরেজিস্ট্রি অফিসে জমি রেজিস্ট্রির পর দলিল প্রাপ্তিতে দীর্ঘ অপেক্ষার শেষ হতে চলেছে। এখন থেকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দলিল সরবরাহ করা হবে, এবং প্রয়োজন হলে সেবাপ্রার্থী মোবাইল ফোন বা মেসেজের মাধ্যমে দলিলের বর্তমান অবস্থা জানতে পারবেন।

 


ঢাকা জেলা সাবরেজিস্ট্রার অহিদুল ইসলাম সোমবার জানান, এই সেবাভিত্তিক উদ্যোগ জেলার সব ২৩টি সাবরেজিস্ট্রি অফিসে প্রথমবারের মতো চালু হয়েছে। তিনি জানান, আগামী বছরের ১ জানুয়ারি থেকে দ্বিতীয় ধাপে কার্যক্রমটি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হবে।


তিনি আরও জানিয়েছেন, জমি রেজিস্ট্রেশনের পর প্রদত্ত রসিদে একটি নির্দিষ্ট মোবাইল নম্বর উল্লেখ করা হবে। সেবাপ্রার্থী সেই নম্বরে যোগাযোগ করে দলিল প্রাপ্তির সম্ভাব্য সময় জানতে পারবেন। ভবিষ্যতে গ্রহীতার মোবাইল নম্বর সংরক্ষণ করা হবে এবং দলিল প্রস্তুত হলে প্রথমে মেসেজ, পরে ফোনের মাধ্যমে সরবরাহের তারিখ জানানো হবে।

 


সেবার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অফিসে কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী ফোন রিসিভ করবেন, তার নাম, পদবি ও নম্বরসহ নির্দেশনাপত্র জারি করা হয়েছে। এছাড়া, জানুয়ারি থেকে দলিল রেজিস্ট্রির ফরম্যাটে ভোটার আইডির নিচে গ্রহীতার মোবাইল নম্বর যুক্ত করা হবে। তবে কেউ ব্যক্তিগত কারণে নম্বর দিতে না চাইলে সেখানে ‘দিতে আগ্রহী নন’ উল্লেখ থাকবে।

 


জমি রেজিস্ট্রেশনের ১১৫ বছরের ইতিহাসে এটি প্রথমবারের মতো নেওয়া উদ্যোগ। সাবরেজিস্ট্রি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে ধীর প্রক্রিয়া ও জটিলতার অভিযোগ থাকলেও, এখন ভোগান্তি কমাতে হেল্প ডেস্ক, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং নিয়মিত গণশুনানির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।


অফিস পরিদর্শনের সময় অহিদুল ইসলাম উল্লেখ করেন, সপ্তাহে অন্তত তিন দিন আকস্মিকভাবে সাবরেজিস্ট্রি অফিসগুলো ঘুরে দেখছেন এবং তাৎক্ষণিক সমাধানের নির্দেশ দিচ্ছেন। এছাড়া পুরোনো দলিল সংরক্ষণের জন্য ভবন সম্প্রসারণ ও বালাম বই স্ক্যান করে ডিজিটালভাবে সংরক্ষণের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।


তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা এখনো শতভাগ সেবা দিতে পারছি না, তবে ধীরে ধীরে সাবরেজিস্ট্রি অফিসের দীর্ঘদিনের নেতিবাচক ধারণা পরিবর্তনে কাজ শুরু হয়েছে।”