সেনাবাহিনীর একটি অভিযানিক দল রাজশাহীর বাগমারায় অভিযান চালিয়ে আলোচিত ‘সিক্স স্টার’ বাহিনীর দুই সন্ত্রাসীকে একটি পয়েন্ট ২২ বোরের এয়ার রাইফেল ও একটি আধুনিক ওয়াকিটকিসহ আটক করে। শুক্রবার ভোরে উপজেলার তাহেরপুর এলাকা থেকে আটক ও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর দুপুরে তাদের অস্ত্রসহ বাগমারা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে বাগমারা থানা পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা না করে শুধু ৫৪ ধারায় সন্দেহমূলক গ্রেফতার প্রতিবেদন দিয়ে দুপুরের পর রাজশাহীর আদালতে পাঠান।
শুক্রবার ছুটির দিন হলেও এক ঘণ্টার নোটিশে বিশেষ আদালত বসিয়ে তাদের জামিনে ছেড়ে দেওয়া হয়। সন্ধ্যার মধ্যেই তারা নিজ নিজ এলাকায় ফেরেন। এ ঘটনা জানাজানি হলে আদালতসংশ্লিষ্টদের মাঝে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। এলাকাবাসীর মাঝে দেখা দেয় মিশ্র প্রতিক্রিয়া। আলোচিত সিক্স স্টার বাহিনীর দুই সদস্যের গ্রেফতারে যারা সামাজিক মাধ্যমে সন্তোষ প্রকাশ করে পোস্ট দিয়েছিলেন, ঘণ্টার মধ্যে জামিন পাওয়ায় তারা দ্রুত সেসব পোস্ট মুছে ফেলেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর একসময়ের রক্তাক্ত জনপদখ্যাত বাগমারার তাহেরপুর এলাকায় গড়ে ওঠে বহুল আলোচিত সিক্স স্টার বাহিনী। তাহেরপুরের একজন যুবদল নেতার পৃষ্ঠপোষকতায় সিক্স স্টার বাহিনীর সদস্যরা পুকুর দিঘি দখল, জোরপূর্বক ফসলি জমি দখল করে পুকুর খনন, আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়, সন্ত্রাসী হামলা, মাছ লুট, হাটবাজার ঘাটে বেপরোয়া চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়ায়। এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে বহুবার পুলিশের কাছে অভিযোগ দেন। কিন্তু পুলিশ কার্যত এই বাহিনীর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এলাকার মানুষ শেষ ভরসা হিসাবে স্থানীয় সেনাক্যাম্প ও র্যাবে অভিযোগ দেন।
এদিকে ২৩ জানুয়ারি শুক্রবার সেনাবাহিনীর একটি অভিযানিক দল মেজর আসিফ রায়হানের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে তাহেরপুর পৌর এলাকার মথুরাপুর মহল্লা থেকে সিক্স স্টার বাহিনীর সদস্য যুবদল কর্মী আব্দুল হালিম (২৯) ও আবু বাশারকে (২৭) আটক করে। সেনাবাহিনী ক্যাম্পে নিয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের হেফাজত থেকে একটি পয়েন্ট ২২ বোরের এয়ার রাইফেল ও একটি আধুনিক ওয়াকিটকি সেট উদ্ধার করেন। ওইদিন সেনাবাহিনী সিক্স স্টার গ্রুপের দুজনকে আটকের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করে।
এদিকে আটক হালিম ও বাশারকে দুপুরেই বাগমারা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওইদিন বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইদুল ইসলাম যুগান্তরকে জানিয়েছিলেন হালিম ও বাশারের অপরাধের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। মামলার পর তাদের আদালতে পাঠানো হবে। তবে আটক দুজনের বিরুদ্ধে কোনো মামলা না দিয়ে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠায় বাগমারা থানা পুলিশ। ওইদিন ছুটির দিন হলেও এক ঘণ্টার নোটিশে আদালত বসিয়ে হালিম ও বাশারকে জামিন দেওয়া হয়।
সেনাবাহিনী এয়ার রাইফেল ও ওয়াকিটকিসহ দুজনকে আটক করার পরও ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানোর বিষয়ে জানতে চাইলে বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইদুল ইসলাম সোমবার বলেন, সেনাবাহিনী যে এয়ার রাইফেল ও ওয়াকিটকিসহ তাদের থানায় দিয়েছিল সেগুলো হালিম ও বাশারের কাছে পাওয়া যায়নি। তাদের বিরুদ্ধে থানায় অন্য কোনো মামলা না থাকায় ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছিল। শুনেছি তারা ওইদিনই জামিনে বেরিয়ে গেছে। ছুটির দিন শুক্রবার কীভাবে জামিন হলো-জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা আদালতের বিষয়। এ বিষয়ে আরও জানতে রাজশাহীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, জরুরি মিটিং করছেন। এ বিষয়ে পরে কথা বলবেন।
উল্লেখ্য, ২৮ নভেম্বর রাতে আলোচিত সিক্স স্টার বাহিনী তাহেরপুর পৌর যুবদলের আহ্বায়ক এসএম আরিফুল ইসলামের চাইনিজ রেস্টুরেন্টে হামলা চালায় ও এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে। থানায় মামলা হলেও পুলিশ ওই ঘটনায় জড়িত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। আসন্ন সংসদ নির্বাচনে এই সিক্স স্টার বাহিনী এলাকায় সহিংসতার বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে বলে একাধিক গোয়েন্দা সূত্রে বলা হয়েছে।