র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) জন্য কেনা হচ্ছে একশ প্যাট্রল পিকআপসহ ১০৯টি গাড়ি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং অভিযান জোরদার করতে স্বল্প সময়ে বড় ধরনের কেনাকাটার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে সরকারের কেনাকাটা করতে হয়। কিন্তু গাড়িগুলো কেনা হবে সরাসরি পদ্ধতিতে, কোনো দরপত্রের মাধ্যমে নয়। কারণ, নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় সময় স্বল্পতার কারণে এ পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে সম্প্রতি অর্থ বিভাগ সম্মতি দিয়েছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
আজ র্যাবের গাড়ি কেনার প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে ‘সরকারের অর্থনৈতিকসংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে’। সেখানে সভাপতিত্ব করবেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।
গাড়ি কেনার জন্য একটি সার-সংক্ষেপ তৈরি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সেখানে মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি বলেছেন, র্যাবের জন্য গাড়ি কেনার বিষয়টি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবহিত আছেন এবং অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটিতে উপস্থাপনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানোর সম্মতি দিয়েছেন।
সার সংক্ষেপে দরপত্র ছাড়া গাড়ি কেনার আইনগত ব্যাখ্যাও দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সেখানে বলা হয়েছে, ‘রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে বা বিপর্যয়কর কোনো ঘটনা মোকাবিলার জন্য অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সুপারিশক্রমে, ধারা ৩২ মতে সরাসরি বা অন্য কোনো ক্রয়পদ্ধতি অনুসরণ করে ক্রয়কার্য সম্পন্ন করতে পারবে।’ ব্যাখ্যায় আরও বলা হয়, ‘জাতীয় নিরাপত্তা বা প্রতিরক্ষার স্বার্থে সরকার ভিন্নরূপ কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করিলে, এই আইন অনুসারে সরকারি ক্রয় সম্পন্ন করতে হবে।’
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ইসি। তবে উদ্বেগ রয়েছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সম্প্রতি বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৮ লাখ ৯৭ হাজার ১১৭ জন সদস্য মোতায়েন থাকবে নির্বাচন উপলক্ষ্যে। জাতীয় নির্বাচনে জনআকাক্সক্ষা বাস্তবায়ন ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সে লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। র্যাবের জন্য যেসব গাড়ি কেনা হবে এর মধ্যে প্রতিটি জিপের (২৫০০ সিসি) সম্ভাব্য মূল্য পড়বে এক কোটি ৪৯ লাখ টাকা, প্যাট্রল জিপের ৬৪ লাখ টাকা এবং মাইক্রোবাস ৪৮ লাখ টাকা। এসব গাড়ি কেনা হবে ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় র্যাব ফোর্সেস এর সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নেওয়া প্রকল্পের অর্থায়ন থেকে। এ প্রকল্পে বিভিন্ন ধরনের এক হাজার ৫৭০টি যানবাহন এবং ১৩১টি সরঞ্জমাদি কেনার সংস্থান রয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন ধরনের ৮০৯টি যানবাহন ও ১০১টি সরঞ্জাম কেনা হয়েছে।
অবশিষ্ট ৭৬১টি যানবাহন ও ৩০টি সরঞ্জামাদি এখনো কেনা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে ১১২টি জিপ কেনার জন্য ১৬৬ কোটি টাকা, ৩৪৯টি প্যাট্রল পিকআপের জন্য ২২৩ কোটি টাকা এবং ১৭৪টি মাইক্রোবাসের (এসি) জন্য ৮৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা আছে।
প্রকল্পটি নেওয়া হয় মূলত যানবাহন সমস্যা দূরীকরণের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কার্যকরী ও যুগোপযোগী ভূমিকা পালনে র্যাব ফোর্সেস এর সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য। এর ব্যয় ধরা হয় এক হাজার ৩৪ কোটি টাকা। ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত এ প্রকল্পের মেয়াদ থাকলেও পরে ২০৭ কোটি টাকা ব্যয় কাটছাঁট করে ২০২৬ সাল পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়। সেক্ষেত্রে প্রকল্পের সংশোধিত ব্যয় দাঁড়ায় ৮২৭ কোটি টাকা। এ প্রকল্পটি ২০২৫ সালের ৯ নভেম্বর পরিকল্পনা উপদেষ্টা অনুমোদন দিয়েছেন। আর ডিসেম্বরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ প্রকল্পের প্রশাসনিক আদেশ জারি করা হয়। এ প্রকল্পের ক্রমপুঞ্জিত ব্যয় ২৮৭ কোটি টাকা, আর্থিক অগ্রগতি ৩৪ দশমিক ৭০ শতাংশ এবং বাস্তব অগ্রগতি ৫১ দশমিক ৫২ শতাংশ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষ্যে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থেকে সদস্য মোতায়েন থাকবে। এর মধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য থাকবে এক লাখ, বাংলাদেশ নৌবাহিনী পাঁচ হাজার, বাংলাদেশ বিমানবাহিনী তিন হাজার ৭৩০ (স্থলভাগ এক হাজার ২৫০), বাংলাদেশ পুলিশ এক লাখ ৪৯ হাজার ৪৪৩, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর পাঁচ লাখ ৭৬ হাজার ৩১৪, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ৩৭ হাজার ৪৫৩, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড তিন হাজার ৫৮৫, র্যাব সাত হাজার ৭০০ এবং সাপোর্ট সার্ভিস হিসাবে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর ১৩ হাজার ৩৯০ জন।