সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় শ্বশুরবাড়িতে এক আবেগঘন পরিবেশে নির্বাচনী প্রচারণার সূচনা করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বুধবার দিবাগত গভীর রাতে বিরাইমপুর গ্রামে আয়োজিত এক পথসভায় তিনি দেশের কৃষি ও পানি সমস্যার স্থায়ী সমাধানে শহীদ জিয়ার ঐতিহাসিক ‘খাল খনন’ কর্মসূচি পুনরায় চালু করার ঘোষণা দেন।
তারেক রহমান উপস্থিত জনতা ও প্রবীণদের কাছে জানতে চান তারা শহীদ জিয়ার আমলের খাল খনন কর্মসূচি দেখেছেন কি না। প্রবীণরা ইতিবাচক সাড়া দিলে তিনি বলেন, কৃষকদের পানির সমস্যা দূর করতে এই কর্মসূচি আবারও ফিরিয়ে আনা হবে। এছাড়া কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ এবং সাধারণ মানুষের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারকে স্বাবলম্বী করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। এই জনকল্যাণমূলক কাজগুলো করার সুযোগ পেতে তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষকে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান।
সিলেট অঞ্চলের প্রবাসীদের অবদানের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে চায়। প্রতিটি জেলায় বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ এবং বিদেশি ভাষা শেখানোর বিশেষ ব্যবস্থা করা হবে, যাতে বিদেশে যাওয়ার সময় তারা আরও ভালো সুযোগ ও সম্মান পায়। আগামীর সুন্দর দেশ গড়ার দায়িত্ব তিনি যুবকদের কাঁধে তুলে নেওয়ার আহ্বান জানান।
শ্বশুরবাড়িতে উপস্থিত হয়ে তারেক রহমান নিজেকে ওই এলাকার সন্তান হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি বলেন, ডা. জুবাইদা যেমন আপনাদের সন্তান, আমিও আপনাদেরই পরিবারের সদস্য। এই আত্মীয়তার সূত্র ধরে তিনি আগামী নির্বাচনে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানান। দীর্ঘ ১৫-১৬ বছর ধরে মানুষ ভোট দিতে পারেনি উল্লেখ করে তিনি বাকস্বাধীনতা ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকার করেন।
তারেক রহমান মাজার জিয়ারত শেষে বিরাইমপুর পৌঁছালে স্থানীয়রা ‘দুলাভাই দুলাভাই’ স্লোগানে চারপাশ মুখরিত করে তোলেন। নেতাকর্মীদের এই উচ্ছ্বাসের জবাবে তিনি হাস্যোজ্জ্বল মুখে বলেন, শুধু দুলাভাই নয়, বোনের (জুবাইদা রহমান) খবরও নিতে হবে। অনুষ্ঠান শেষে বেগম খালেদা জিয়ার আরোগ্য এবং প্রয়াত সকল স্বজনের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।