ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামপন্থি দলগুলোর প্রার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, এবার নির্বাচনে মোট প্রার্থীর ৩৬ শতাংশের বেশি ইসলামপন্থি দল থেকে অংশ নিয়েছে, যা বিগত পাঁচটি নির্বাচনের মধ্যে সর্বোচ্চ।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল ‘নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ প্রতিবেদন’ শীর্ষক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে।
ড. ইফতেখারুজ্জামান উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে অর্থ, ক্ষমতা ও ধর্ম একত্রিত হওয়ায় সুস্থ রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ক্রমেই সীমিত হয়ে আসছে। তিনি বলেন, অসুস্থ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার প্রভাব বাড়ছে, আর সুস্থ রাজনীতি ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, কৃষি জমির ক্ষেত্রে একটি প্রার্থীর ৫০ একরের বেশি জমি থাকা উচিত নয়, তবে এই সীমা লঙ্ঘনের প্রেক্ষিতে প্রার্থিতা বাতিল করার জন্য সুনির্দিষ্ট আইন নেই। তিনি মনে করেন, যারা সীমা লঙ্ঘন করেছেন, তাদেরকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দায়বদ্ধ করা উচিত এবং অবৈধ অতিরিক্ত জমি রাষ্ট্রের মাধ্যমে ভূমিহীনদের মধ্যে বিতরণ করা উচিত।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছে এবং চূড়ান্ত প্রার্থীর সংখ্যা ১৯৮১। এর মধ্যে প্রায় ১৩ শতাংশ প্রার্থী স্বতন্ত্র। নারীদের অংশগ্রহণ এবারের নির্বাচনেও নগণ্য এবং পাঁচ শতাংশের নারী প্রার্থী নির্ধারণের লক্ষ্য পূরণ হয়নি।
অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদের ভিত্তিতে ৯৫১ জন প্রার্থী কোটিপতি, এর মধ্যে ২৭ জন শতকোটিপতি। দুইজন প্রার্থীর বিষয়ে দ্বৈত নাগরিকত্বের তথ্য আছে, তবে তারা হলফনামায় তা উল্লেখ করেননি। এছাড়া একজন প্রার্থীর স্ত্রীর নামে দুবাইয়ে ফ্ল্যাট রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন টিআইবির পরিচালক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, সহকারী কো-অর্ডিনেটর কে এম রফিকুল আলম, ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর জাফর সাদিক এবং সহকারী কো-অর্ডিনেটর রিফাত রহমান।