রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ফ্যামিলি কার্ড দেখানো এবং ফ্ল্যাট অফার করাকে নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকা-১৭ আসনে তার প্রধান প্রতিপক্ষ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এস এম খালিদুজ্জমান।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয় থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক সংগ্রহ করার পর তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে এমন অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, “ঢাকা-১৭ আসনে আমার প্রধান প্রতিপক্ষ তারেক রহমান গতকাল কড়াইল বস্তিতে ভোটারদের ফ্যামিলি কার্ড দেখানো এবং ফ্ল্যাট দেওয়ার যে প্রলোভন দেখিয়েছেন, তা মূলত ভোটারদের প্রভাবিত করার অপচেষ্টা। এটি নির্বাচনী আচরণবিধির পরিপন্থি। আমরা মনে করি, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন; যে যত বড়ই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আসতে হবে। আমরা দেশে এমন এক আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই, যেখানে কোনো ব্যক্তি বা দল নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা করার সাহস পাবে না।”
সুষ্ঠু নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে এই জামায়াত নেতা বলেন, “একটি অবাধ ও সুন্দর নির্বাচনের জন্য আজ পুরো জাতি তাকিয়ে রয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবে আমাদের অসংখ্য ছাত্র-জনতা ও মা-বোনদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছি, সেখানে আর কোনো মায়ের বুক খালি হোক— তা আমরা চাই না। একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য প্রত্যেকের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে হবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা বিশ্বাস করি, আসন্ন নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে জেঁকে বসা স্বৈরতন্ত্র ও পরিবারতন্ত্রের অবসান ঘটবে এবং দেশ গণতন্ত্রের পথে ধাবিত হবে। এই ঐতিহাসিক নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা একটি সাম্য ও সমৃদ্ধির বাংলাদেশ পাব, যেখানে নাগরিকরা তাদের ন্যায্য অধিকার নিয়ে বসবাস করতে পারবেন।”
প্রধান উপদেষ্টা ও সেনাপ্রধানের আশাবাদের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ডা. খালিদুজ্জামান বলেন, “তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে এবারের নির্বাচন হবে ঈদের আনন্দের মতো একটি ঐতিহাসিক উৎসব। আমরাও সেই কাঙ্ক্ষিত পরিবেশের অপেক্ষায় আছি। এখন পর্যন্ত নমিনেশন জমা দেওয়া থেকে শুরু করে প্রচারণার যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা ইতিবাচক। নির্বাচন একটি খেলার মাঠের মতো, যেখানে জয়-পরাজয় থাকবে। কিন্তু জোর করে কারও ওপর মতাদর্শ চাপিয়ে দেওয়া বা ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে চাই।”
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি আমার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি এবং তিনিও কোনো বিশৃঙ্খলা চাইবেন না। আমরা সবাই মিলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করব, যাতে ভোটাররা নির্ভয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।”