Image description
 

চট্টগ্রাম মহানগরীতে ৩৩০ জনের প্রবেশ ও অবস্থানে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ। এ তালিকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সংগঠনের সাবেক মন্ত্রী, মেয়র, কাউন্সিলরসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা যেমন আছেন, একইভাবে আছেন বিএনপির নেতা, সনাতনী জাগরণী মঞ্চের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণও। এ ছাড়া নিষেধাজ্ঞায় তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের নামও রয়েছে।

গতকাল শনিবার বিকেলে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের কমিশনার হাসিব আজিজ এই গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেন। গণবিজ্ঞপ্তিতে নিষিদ্ধ ব্যক্তিদের দুষ্কৃতকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

নগর পুলিশের মুখপাত্র সহকারী কমিশনার আমিনুর রশীদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং আগামী সংসদ নির্বাচন যাতে অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা যায়, সে জন্য উল্লেখিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

গণবিজ্ঞপ্তিতে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সংগঠনের যেসব ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে, তাঁদের বেশির ভাগই ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর থেকে পলাতক। কয়েকজন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।

এ ছাড়া এ তালিকায় নগর বিএনপির এক শীর্ষ নেতাসহ দলটির একাধিক নেতা-কর্মীও রয়েছেন। ২০২৪ সালে চট্টগ্রাম আদালতে সংঘর্ষ ও আইনজীবী সাইফুল ইসলাম হত্যার ঘটনার একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাবন্দী সনাতনী জাগরণী মঞ্চের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীও রয়েছেন তালিকায়।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশের প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জারি করা এই নিষেধাজ্ঞা পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। এই আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী, এম এ লতিফ, মহিউদ্দিন বাচ্চু ও ফজলে করিম চৌধুরী, নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরী, সিডিএর সাবেক চেয়ারম্যান, নগর আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক আবদুচ ছালাম প্রমুখ।

 

সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলরদের মধ্যে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় আছেন শৈবাল দাশ সুমন, নুর মোস্তফা টিনু, গাজী শফিউল আজম, সাহেদ ইকবাল বাবু, শফিকুল ইসলাম, এসরারুল হক, এম আশরাফুল আলম, মোহাম্মদ হোসেন হীরন, আব্দুল কাদের ওরফে মাছ কাদের, মোহাম্মদ ইসমাইল, জহুরুল আলম জসিম, মোরশেদ আলম, মোবারক আলী, নিছার উদ্দিন আহমেদ, মো. নুরুল আমিন, মোহাম্মদ ওয়াসিম উদ্দিন চৌধুরী, আবুল হাসনাত বেলাল, মোহম্মদ গিয়াস উদ্দিন, মোহাম্মদ শহিদুল আলম, হারুন উর রশীদ, চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, নুরুল আলম, মোহাম্মদ সলিম উল্লাহ, মোহাম্মদ জাবেদ, নাজমুল হক ডিউক, আব্দুর সবুর লিটন, মোহাম্মদ ইলিয়াছ, শেখ জাফরুল হায়দার চৌধুরী, নজরুল ইসলাম বাহাদুর, গোলাম মো. জোবায়ের, আতাউল্লা চৌধুরী, আব্দুস সালাম, জহর লাল হাজারী, হাসান মুরাদ বিপ্লব, কফিল উদ্দিন, পুলক খাস্তগীর, হাজী নুরুল হক, মোর্শেদ আলী, মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান, গোলাম মোহাম্মদ চৌধুরী, জিয়াউল হক সুমন, আবদুল বারেক, ছালেহ আহমেদ চৌধুরী।

যুবলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় উপ-অর্থ সম্পাদক হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর, রিটু দাশ বাবলু, মশিউর রহমান দিদার, খলিলুর রহমান নাহিদ, নগর যুবলীগের সভাপতি দেবাশীষ পাল দেবু, নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু ও সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীর, নগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সাইফুল আলম লিমন, সাদ্দাম হোসেন ইভান, সুভাষ মল্লিক সবুজ, সাবেক সংসদ সদস্য ফজলে করিম চৌধুরীর ছেলে ফারাজ করিম চৌধুরীও নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছেন। এ ছাড়া তালিকায় আছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে প্রকাশ্যে গুলি করে আলোচিত দেলোয়ার, ফরিদ ওরফে তৌহিদ, ফিরোজ ও এইচ এম মিঠুর নামও।

তালিকায় নগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শওকত আজম ওরফে খাজার নামও রয়েছে। সাম্প্রতিক স্বর্ণ ছিনতাই মামলায় তদন্তে প্রাপ্ত আসামি নগর ছাত্রদলের বহিষ্কৃত সহসাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ওরফে বার্মা সাইফুল ও তাঁর ভাই সবুজও এই তালিকায় রয়েছেন। সাইফুলের বিরুদ্ধে নগর পুলিশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। সম্প্রতি তিনি গ্রেপ্তার হয়েছেন।

এ ছাড়া এ তালিকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী বিদেশে পলাতক সাজ্জাদ আলী খানের খালাত ভাই মোহাম্মদ, গণ-অভ্যুত্থানের পর একাধিক হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে আলোচিত ও বর্তমানে কারাবন্দী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ ও তাঁর স্ত্রী শারমিন আক্তার তামান্না, একই গ্যাংয়ের সদস্য খোরশেদ, বেলাল উদ্দিন মুন্না, মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন, বোরহান, মোবারক হোসেন ইমন, হেলাল, বায়েজিদে ‘পাহাড়খেকো’ হিসেবে পরিচিত স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা বাহার উদ্দিন ওরফে বাহার ও শামসুদ্দিন বাদল, দেলোয়ার হোসেন দেলু, শাহজাহান বাদশা, বহদ্দারহাটের আলোচিত সন্ত্রাসী শহীদুল ইসলাম বুইশ্যা, ইসমাইল হোসেন টেম্পু, নুরুল আলম ওরফে হামকা নুর ও রবিউল ইসলাম রাজু ওরফে হামকা রাজু, আকবরশাহ এলাকার নুরে আলম নুরু, সম্রাট, সদরঘাটে জাহাঙ্গীর আলম ওরফে জাহাঙ্গীর মাঝিসহ একাধিক সন্ত্রাসীর নাম রয়েছে তালিকায়।