আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক এমপি হারুনুর রশীদ বলেছেন, ‘বিএনপির জামায়াতের মতো কোনো হিন্দু শাখা নেই। সব ধর্মাবলম্বীরাই বিএনপি করতে পারেন এবং অনেকেই বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত। দলে ধর্ম নিয়ে কোনো ভেদাভেদ নেই।’
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের পাঠানপাড়া মহল্লায় দলীয় কার্যালয়ে উপজেলার সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীদের সঙ্গে এক মতবিনিময়সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
অন্য ধর্মাবলম্বীদের বিএনপিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, ব্যবসাসহ সব ক্ষেত্রে ধর্মের কারণে কোনো ভেদাভেদ নেই, বৈষম্য নেই। বহু হিন্দু সব ধরনের সরকারি চাকরি করছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত রয়েছে সব ধর্মের অনেক শিক্ষার্থী। যোগ্যতাই এসব ক্ষেত্রে বড় কথা।
ধর্মীয় ভেদাভেদ ছাড়াই একই রকম নাগরিক সুযোগ-সুবিধা ভারতে নেই। আপনারা ভারত গেলে তৃতীয় শ্রেণির নাগরিক হয়ে থাকতে হবে।’
হারুনুর রশিদ বলেন, ‘ধর্ম কোনো দলীয় বিষয় নয়। ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করা যায় না।
ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি হবে কেন? মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতার পক্ষ-বিপক্ষ নিয়েও রাজনীতির কিছু নেই। এ দেশে হিন্দুরা আওয়ামী লীগ বা বিএনপি ছাড়া জামায়াতকে ভোট দিয়েছে এমন শোনা যায়নি।’
হিন্দুদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘শুধু ভোট উপলক্ষে আপনাদের ডাকা হয়নি। বিগত ৫০ বছরে আপনাদের নিয়ে অনেক রাজনীতি হয়েছে। ভুল বোঝানো হয়েছে।
’
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘ধর্ম যার ধর্মীয় উৎসবও তার। এক ধর্মের অনুসারীরা অন্য ধর্মের আচার অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন না। অন্য ধর্মের উপাসনালয়ে যেতে পারেন না। যদিও আপনারা পূজার সময় দাওয়াত দেন অনেকেই সে দাওয়াতে যায়। মুসলমানদের মসজিদ তো পাহারা দিতে হয় না। তবে হিন্দুদের মন্দির কেন পাহারা দিতে হবে? আমরা সহায়তা দেব মন্দিরের নিরাপত্তা আধুনিক করতে। কোনো মুসলমান যদি মন্দির আক্রমণ করে তবে তার কঠিন শাস্তি হবে। নির্বাচন নিয়েও আপনাদের শঙ্কার কারণ নেই। আমরা রয়েছি। নিরাপত্তা দেব।’
উত্তরবঙ্গ বৈষ্ণব সংঘের সভাপতি শ্রীল শ্যাম কিশোর দাস গোস্বামীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান তসিকুল ইসলাম, হারুনুর রশীদের ছেলে রুবায়েত ইবনে হারুন রাফি, উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরাম ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের নেতা হিংগু মুর্মু, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী নেতা কল্পনা মুর্মু, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতা বলরাম পাল, পূজা উদযাপন পরিষদ নেতা অজিত রায়, পূজা উদযাপন ফ্রন্ট নেতা তরুন কুমার সাহা, মৎস্যজীবী নেতা ধর্ম হলদার, হরিজন নেতা রাজন হরিজন প্রমুখ।