সুন্দরবনে হরিণ শিকার রোধে অভিযান চালিয়ে ২৪৬টি অবৈধ ফাঁদ উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (১৫ ডিসেম্বর) দিনভর অভিযান চালিয়ে সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের আওতাধীন কলাগাছিয়া, চুনকুড়ি ও মুন্সীগঞ্জ বন টহল ফাঁড়ির বিভিন্ন এলাকা থেকে এসব ফাঁদ উদ্ধার করা হয়।
বন বিভাগ সূত্র জানায়, অভিযানে হরিণ শিকারের উদ্দেশ্যে পাতা দড়ির তৈরি ফাঁদগুলো জব্দ করা হয়। তবে অভিযানের খবর পেয়ে শিকারিরা আগেই পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
উদ্ধারকৃত ফাঁদের মধ্যে কলাগাছিয়া বন টহল ফাঁড়ির ফুলখালী খাল এলাকা থেকে ২০০টি, চুনকুড়ি বন টহল ফাঁড়ির চালতেবাড়ি খাল এলাকা থেকে ১৭টি এবং মুন্সীগঞ্জ বন টহল ফাঁড়ির ভুতোশিং ও কলুখালি এলাকা থেকে ২৯টি ফাঁদ উদ্ধার করা হয়।
বন বিভাগ আরো জানায়, চলতি মাসের ৯ জানুয়ারি মাহমুদা নদীর বাওনে বারামখালী খাল এলাকা থেকে নৌকার ভেতরে ফাঁদ রাখার অভিযোগে তিনজনকে আটক করা হয়। এর আগে ৬ জানুয়ারি কেয়াখালী (নিষিদ্ধ খাল) এলাকা থেকে ৬০টি হরিণ শিকারের ফাঁদ ও একটি ফাঁদে আটক অবস্থায় একটি হরিণ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া গত বছরের ২৭ নভেম্বর মরগাং বনাঞ্চল এলাকা থেকে ১৬০টি, ১৩ নভেম্বর মুন্সীগঞ্জ বনাঞ্চল এলাকা থেকে ৪৫টি এবং ১২ অক্টোবর কোবাদক ফরেস্ট স্টেশনের আওতাধীন সাপখালী খাল এলাকা থেকে ৬০টি হরিণ শিকারের ফাঁদ উদ্ধার করা হয়।
সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মশিউর রহমান জানান, উদ্ধারকৃত ফাঁদগুলো ধ্বংস করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় বন আইনে মামলা করা হয়েছে। সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী, বিশেষ করে হরিণ রক্ষায় নিয়মিত টহল ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে। অবৈধ শিকার বন্ধে বন বিভাগ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
প্রসঙ্গত, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় হরিণ শিকার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।