Image description

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ১১ দলীয় জোটের মধ্যে আসন বণ্টন নিয়ে উত্তেজনা বাড়ছে। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং আল্লামা মামুনুল হকের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস জোটে থাকবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আসন বণ্টন নিয়ে বিভিন্ন দলের অসন্তোষ ও দাবি–দাওয়া এই দ্বিধার মূল কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
জামায়াত সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার রাজধানীর পুরানা পল্টনের ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে অনেক নেতা রামপুরার একটি মাদ্রাসায় বৈঠকে অংশ নেন। সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজের পরে শুরু হয় শুরা কাউন্সিলের বৈঠক। বৈঠকে কেন্দ্রীয় থেকে তৃণমূল নেতারা জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতার বিষয়ে নিজেদের অসন্তোষ তুলে ধরেন। রাত সোয়া ১০টা থেকে শুরু হওয়া বৈঠক শেষ হয় রাত একটার দিকে। বৈঠকের সময় ভবনের নিচতলায় কয়েকজন নেতা–কর্মী নজরদারি করেছেন যাতে বাইরের কেউ বৈঠকে প্রবেশ না করতে পারে।
দলীয় সূত্র বলছে, ইসলামী আন্দোলন শুরু থেকেই ‘ওয়ান বক্স’ নীতিতে কাজ করছে, যেখানে এক আসনে এক প্রার্থী থাকবে। সমঝোতায় বাংলাদেশের খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি এবং জামায়াত অংশ নিয়েছে। তবে জামায়াত কিছু আসনের বিষয়ে একক সিদ্ধান্ত নিলে অন্যান্য দল অসন্তুষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে ইসলামী আন্দোলনের দাবি ছিল শতাধিক আসনে প্রার্থী দেওয়া, কিন্তু জামায়াত সর্বোচ্চ ৪০টি আসন দিতে চায়।
ইসলামী আন্দোলনের এক নেতা জানিয়েছেন, আসন সমঝোতার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত চরমোনাই পীরের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে। পীর যদি সমঝোতায় না থাকতে চান, তাহলে শুরা বা মজলিসে আমেলার সুপারিশও কার্যকর হবে না।
এদিকে মামুনুল হকের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, জামায়াতের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। তবে তাদের ২৫–৩০টি আসনের দাবি পূরণ হবে না, জামায়াত সর্বোচ্চ ২০টি আসনে ছাড় দিতে পারে। যদি কাঙ্ক্ষিত আসন না পাওয়া যায়, তারা কিছু আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী রাখার সম্ভাবনা দেখছেন।
আজ বুধবার বিকেলে জামায়াত ১১ দলীয় আসন সমঝোতা চূড়ান্ত ঘোষণা করতে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে। এতে ১১ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন। এর পরই দেখা যাবে, চরমোনাই পীর ও মামুনুল হক জোটে থাকছেন কি না।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আসন সমঝোতা ছাড়া এই জোটের নির্বাচনী শক্তি ও পরিকল্পনা প্রভাবিত হতে পারে।