Image description

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রশাসনিক ভবনে প্রাথমিক অভিযান পরিচালনা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ সময় মোট নিয়োগে প্রয়োজনের অতিরিক্ত রেকর্ডপত্র এখন পর্যন্ত পাইনি বলে জানান দুদক কর্মকর্তা। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে চট্টগ্রাম দুদক-১ এর সহকারী পরিচালক সায়েদ আলমের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি দল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে এ অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ প্রায় ৪ ঘণ্টা চলে এ অভিযান। 

অভিযান শেষে সংগৃহীত নথিপত্র প্রাথমিক যাচাই করে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দুদক কমিশনের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দুদকের সহকারী পরিচালক সায়েদ আলম। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতারের আমলে যে শিক্ষক এবং কর্মচারী নিয়োগের অভিযোগ ছিল তার ভিত্তিতে আমরা এ অভিযান পরিচালনা করেছি। 

তিনি বলেন, ফার্সি, ফাইন্যান্স, ক্রিমিনোলজি বিভাগ ও ল্যাবরেটরি স্কুলের অধ্যক্ষ নিয়োগে কিছু শিক্ষকের আত্মীয়দের নিয়োগের একটা অভিযোগ এসেছে এবং যারা নিয়োগ প্রাপ্ত হয়েছে তারা সবাই কেউ না কেউ তাদের আত্মীয় হিসেবে আমরা দেখেছি। স্বজনপ্রীতির বিষয় আছে কিনা সেটা পরবর্তীতে আমরা রেকর্ডপত্র দেখে বলতে পারবো। এ ছাড়া আমরা আরো রেকর্ডপত্র যাচাই করে দেখব যে নিয়োগ প্রক্রিয়া বৈধ ছিল কিনা।

সাযেদ জানান, উপাচার্যের অনুপস্থিতির কারণে আমরা লিখিত এবং মৌখিক পরীক্ষার নাম্বারটা পাইনি। পরবর্তীতে আমরা সে রেকর্ডপত্র চেয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন কমিশন বরাবর দিতে পারবো। এখন পর্যন্ত বলতে পারবো না যে নিয়োগ প্রক্রিয়াটা বৈধ না অবৈধ ছিল কিনা, কারণ আমাদের কাছে নাম্বার শিটটা নেই।

তিনি আরও বলেন, অভিযোগ ছিল ফার্সি বিভাগে প্ল্যানিং কমিটির সুপারিশ ছিল না তারপরও এখানে একটা নিয়োগ প্রক্রিয়া হয়েছে। ফার্সি বিভাগে প্ল্যানিং কমিটির সুপারিশ নেই সেটা আমরা রেকর্ডপত্রে দেখেছি। তারপর তারা আইন কানুনের কথা বলেছেন আমরা ওনাদের আইন কানুন পর্যালোচনা করব। আমরা পর্যালোচনা করে সেটা বিস্তারিত প্রতিবেদন কমিশন বরাবর দাখিল করতে পারব। বাংলা বিভাগের একটা অভিযোগ ছিল যদিও আমরা দেখিনি যে ৫৬৫ এবং ৫৬৪তম সিন্ডিকেট সভায় বাংলা কোন ধরনের নিয়োগ হয়েছে। আমরা এটা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদনটা কমিশন বরাবর জমা দিব। উপাচার্য স্যার কালকে আসবেন। কালকে আমরা রেকর্ডপত্র চেয়ে সঙ্গে সঙ্গে বাহক মারফত পাঠিয়ে দিব। 

নিয়োগের স্বচ্ছতার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, তারা তাদের স্বপক্ষে অনেক রকমপত্র দেখিয়েছেন। তারা দাবি করেছেন সবকিছু বৈধভাবে হয়েছে এবং তারা বলেছেন যে উপাচার্য ইয়াহ্ইয়া আমলে সবচেয়ে বেশি স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। আমরা সেটা দেখব। 

তিনি সর্বশেষ সিন্ডিকেটের ব্যাপারে জানিয়ে বলেন, ১৫০ এর অধিক নিয়োগের কথা আসছে কিন্তু সর্বশেষ সিন্ডিকেটের ১৫০ নিয়োগ হয়নি। অভিযোগটা মিথ্যা। সর্বশেষ সিন্ডিকেটের ১৮ জন শিক্ষক নিয়োগ হয়েছে। আর বাকি বেশিরভাগই হচ্ছে কর্মকর্তা এবং কর্মচারী যারা পূর্বে অস্থায়ী নিয়োগ ছিলেন তাদেরকে স্থায়ীকরণ করা হয়েছে। ১৮ জন শিক্ষকসহ সর্বশেষ সিন্ডিকেটে ৮৮ জনের নিয়োগ তারা দেখিয়েছে। স্থায়ী এবং নতুন মিলে ১১৩ জনের নিয়োগ হয়েছে সর্বশেষ সিন্ডিকেটে। 

এদিকে, নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমরা দুদককে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাগত জানাই। বর্তমান প্রশাসনের আমলে গত দেড় বছরে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি। আমরা চাই, দুদক নিয়মিত এসে স্বচ্ছতা যাচাই করুক।

এখন পর্যন্ত নতুন প্রশাসন মোট ৩২১ জনকে নিয়োগ দিয়েছে। এর মধ্যে শিক্ষক ৭৮ জন, কর্মকর্তা ১৬ জন, তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী ৮৮ জন এবং চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ১৩৯ জন। এসব নিয়োগের মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ আগে থেকেই অস্থায়ীভাবে কর্মরত ছিলেন, যাদের স্থায়ী করা হয়েছে।