মোহাম্মদ ওয়ালিউদ্দিন তানভীর
বাংলাদেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠী এখনও দারিদ্র্যসীমার নিচে বা কাছাকাছি অবস্থান করছে—এটি একটি বাস্তবতা। ফলে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে সামাজিক নিরাপত্তা, ভাতা ও সহায়তা কর্মসূচির প্রতিশ্রুতি নতুন কিছু নয়। দরিদ্র জনগণের প্রতি সহানুভূতি দেখানো রাজনৈতিকভাবে জনপ্রিয়ও বটে। তবে প্রশ্ন হলো—এই প্রতিশ্রুতিগুলো কতটা বাস্তবসম্মত, অর্থনৈতিকভাবে টেকসই এবং রাজনৈতিকভাবে নৈতিক?
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের নির্বাচনী প্রচারণায় ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও স্বাস্থ্য কার্ড চালুর ঘোষণা দিয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে এগুলো মানবিক ও জনমুখী উদ্যোগ মনে হলেও, গভীরে গেলে এতে বহু প্রশ্ন ও সন্দেহের জন্ম দেয়।
ফ্যামিলি কার্ডের প্রতিশ্রুতি: হিসাবের বাইরে থাকা বাস্তবতা
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি নিয়ে রাজনৈতিক প্রচারণা যতটা আবেগঘন, এর বাস্তবতা ততটাই জটিল। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে এই কর্মসূচির আওতায় পরিবারপ্রতি কত টাকা সহায়তা দেওয়া হবে—সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট অঙ্ক উল্লেখ নেই। বরং দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিচ্ছেন। কেউ বলছেন, প্রতিটি পরিবার মাসে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা নগদ সহায়তা পাবে, আবার কেউ বলছেন সমপরিমাণ খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য দেওয়া হবে।
এই সহায়তা দরিদ্র পরিবারকে স্বল্পমেয়াদে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে—এতে সন্দেহ নেই। খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার হবে, নারীর হাতে অর্থ গেলে পারিবারিক সিদ্ধান্তে তাদের অংশগ্রহণ বাড়তে পারে, শিশুদের পুষ্টি ও শিক্ষা ব্যয়ে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে—এমন দাবিও করা হচ্ছে। কিন্তু সামাজিক সুবিধা ঘোষণার ক্ষেত্রে শুধু উদ্দেশ্য নয়, তার বাস্তবায়নযোগ্যতা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
এই কর্মসূচি নিয়ে সবচেয়ে মৌলিক প্রশ্নটি এখনো অনুত্তরিত—কয়টি পরিবার এই সুবিধার আওতায় আসবে?
বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৪ কোটি ২৫ লাখ পরিবার রয়েছে। কিন্তু নির্বাচনী প্রচারণায় এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে যেন ফ্যামিলি কার্ড সব পরিবারের জন্যই প্রযোজ্য। বাস্তবে যদি সরকার গঠনের পর প্রাথমিকভাবে মাত্র ২ কোটি পরিবারকেও এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়, তাহলে এর বার্ষিক ব্যয় দাঁড়াবে আনুমানিক ৫০ থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকা। যা সাম্প্রতিক জাতীয় বাজেটের প্রায় ৬ থেকে ৭ শতাংশের সমান।
এই অঙ্কটি কোনো ছোটখাটো ব্যয় নয়। বাংলাদেশের জাতীয় বাজেট ইতোমধ্যেই ঘাটতি বাজেটের ওপর নির্ভরশীল। প্রতিবছর সরকারকে বড় অঙ্কের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণ নিতে হচ্ছে শুধু চলতি ব্যয় মেটানোর জন্য। এই অবস্থায় ফ্যামিলি কার্ডের মতো একটি বিশাল পুনরাবৃত্তিমূলক ব্যয়ের অর্থায়ন কোথা থেকে আসবে—তা স্পষ্ট করা অত্যন্ত জরুরি।
যদি এই অর্থ রাজস্ব খাত থেকে জোগান দেওয়া হয়, তাহলে সরকারকে হয় নতুন করে কর বাড়াতে হবে, নয়তো বিদ্যমান করের বোঝা আরও ভারী করতে হবে। এর প্রভাব সরাসরি পড়বে সাধারণ মানুষের ওপর। অন্যদিকে, যদি উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ কমিয়ে এই কর্মসূচি চালু করা হয়, তাহলে অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিমূলক প্রকল্পগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
আর যদি এই ব্যয় মেটাতে সরকার অতিরিক্ত ঋণের পথ বেছে নেয়, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর ঋণের বোঝা আরও বাড়বে। সুদ পরিশোধে সরকারের ব্যয় বৃদ্ধি পাবে, যার ফলে সামাজিক ও উন্নয়ন খাতে ভবিষ্যৎ বরাদ্দ সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। অন্যদিকে, অতিরিক্ত টাকা বাজারে ছাড়লে মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়তে পারে, যা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করবে সেই দরিদ্র জনগোষ্ঠীকেই, যাদের সাহায্যের কথা বলে এই কর্মসূচি চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে।
এই বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়—ফ্যামিলি কার্ড কি একটি সুপরিকল্পিত, অর্থনৈতিকভাবে টেকসই সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, নাকি এটি মূলত নির্বাচনের আগে দেওয়া একটি জনপ্রিয় কিন্তু অস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি?
কোনো বড় সামাজিক কর্মসূচি চালু করতে হলে তার লক্ষ্যভিত্তিক সুবিধাভোগী নির্ধারণ, স্বচ্ছ যাচাই প্রক্রিয়া, প্রশাসনিক সক্ষমতা এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের স্পষ্ট রূপরেখা থাকা প্রয়োজন। ফ্যামিলি কার্ডের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত এসব বিষয়ের কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ফলে এই প্রতিশ্রুতির বাস্তবতা ও টেকসইতা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে।
সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ইতোমধ্যেই বিশাল ব্যয়
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—বাংলাদেশে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নতুন কিছু নয়। বরং প্রতিবছরই এই খাতে বিপুল অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির জন্য প্রস্তাবিত ব্যয় প্রায় ১ লাখ ১৬–১৭ হাজার কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের প্রায় ১৪.৭–১৫ শতাংশ এবং জিডিপির প্রায় ১.৮–১.৯ শতাংশ।
বর্তমানে যেসব ভাতা ও কর্মসূচি চালু রয়েছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
• বয়স্ক ভাতা: প্রায় ৬১ লাখ গ্রহীতা, বরাদ্দ প্রায় ৪,৭৯১ কোটি টাকা
• প্রতিবন্ধী ভাতা: প্রায় ৩৪ লাখ গ্রহীতা, বরাদ্দ প্রায় ৩,৭৫০–৩,৮০০ কোটি টাকা
• বিধবা ও স্বামী-নিগৃহীতা ভাতা: প্রায় ২৯ লাখ নারী, বরাদ্দ প্রায় ২,২৭৮ কোটি টাকা
• মাতৃত্বকালীন ভাতা: ৮–১০ লাখ দরিদ্র মা, মাসে ৮৫০ টাকা (৩৬ মাস পর্যন্ত)
• অনগ্রসর ও সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠী ভাতা: প্রায় ৬০ হাজার গ্রহীতা, বরাদ্দ প্রায় ২২৩ কোটি টাকা
এছাড়াও হিজড়া, বেদে ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, চা-শ্রমিক, ভিক্ষাবৃত্তিনির্ভর মানুষ, গুরুতর অসুস্থ রোগী, মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবার, এবং খাদ্যভিত্তিক কর্মসূচির মাধ্যমে কোটি মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছাচ্ছে।
অর্থাৎ, সামাজিক নিরাপত্তার ছাতার বাইরে এমন কোনো ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী প্রায় নেই।
তাহলে ফ্যামিলি কার্ড নতুন কী দিচ্ছে?
এই পর্যায়ে এসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি সামনে আসে—ফ্যামিলি কার্ড আসলে নতুন কী মাত্রা যোগ করছে? সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দৃষ্টিকোণ থেকে এটি কি কোনো মৌলিক সংস্কার, নাকি বিদ্যমান কর্মসূচিগুলোরই নতুন নামকরণ?
বাংলাদেশে ইতোমধ্যেই বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতা, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি, ভিজিডি, ভিজিএফসহ অসংখ্য সামাজিক নিরাপত্তা উদ্যোগ চালু রয়েছে। এসব কর্মসূচির উদ্দেশ্য এক—ঝুঁকিপূর্ণ ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে ন্যূনতম জীবনমান নিশ্চিত করা। এই বাস্তবতায় ফ্যামিলি কার্ড যদি কেবল একই ধরনের নগদ বা খাদ্য সহায়তা প্রদান করে, তাহলে তা কার্যত বিদ্যমান কর্মসূচিরই পুনরাবৃত্তি হবে।
এক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—একই ধরনের সুবিধা দেওয়ার জন্য নতুন করে এত বড় রাজনৈতিক প্রচারণার প্রয়োজন কী? সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি তো কোনো দলীয় অনুগ্রহ নয়, এটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব ও নাগরিক অধিকার। তাহলে সেটিকে নতুন মোড়কে উপস্থাপন করে নির্বাচনী হাতিয়ার বানানোর যৌক্তিকতা কোথায়?
অন্যদিকে, যদি ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সব সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে একীভূত করার পরিকল্পনা থাকে, তাহলে সেটি অবশ্যই একটি বড় নীতিগত পরিবর্তন। কিন্তু এমন বড় সংস্কারের ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন—তা এখনো অনুপস্থিত। কারা এই কার্ড পাবে? এক পরিবারে একাধিক ভাতা পাওয়া যাবে কি না?বিদ্যমান ভাতাগুলো কি বাতিল হবে, নাকি সমন্বিত হবে? ভুল তালিকাভুক্তি, রাজনৈতিক প্রভাব ও দুর্নীতি ঠেকাতে কী ধরনের যাচাই প্রক্রিয়া থাকবে?
এসব প্রশ্নের কোনো স্পষ্ট উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি। প্রশাসনিক কাঠামো কেমন হবে, স্থানীয় সরকার কতটা যুক্ত থাকবে, ডিজিটাল ডাটাবেস কীভাবে তৈরি ও হালনাগাদ হবে—এসব বিষয়ে নীরবতা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। অভিজ্ঞতা বলছে, যাচাই ও নজরদারির দুর্বলতায় সবচেয়ে বেশি সুবিধা পায় প্রভাবশালী গোষ্ঠী, আর প্রকৃত দরিদ্র মানুষ বঞ্চিত হয়।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—প্রচার ও বাস্তবতার ফারাক। নির্বাচনী প্রচারণায় ফ্যামিলি কার্ডকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে যেন এটি একটি সর্বজনীন অধিকার, যা সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গেই সব পরিবার পেয়ে যাবে। অথচ বাস্তবতায় সীমিত সংখ্যক পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করার কথাই আলোচনায় রয়েছে। এই দ্বৈত বার্তা জনগণের মধ্যে অযৌক্তিক প্রত্যাশা তৈরি করছে, যা পরবর্তীতে হতাশা ও আস্থাহীনতায় রূপ নিতে পারে।
রাজনীতিতে প্রতিশ্রুতি দেওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু প্রতিশ্রুতি যদি বাস্তবসম্মত না হয়, কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে অস্পষ্ট রেখে জনপ্রিয়তা বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়, তাহলে সেটি জনকল্যাণের বদলে রাজনৈতিক সুযোগসন্ধান হিসেবেই প্রতীয়মান হয়।
সুতরাং, ফ্যামিলি কার্ড যদি সত্যিই একটি নতুন সামাজিক নিরাপত্তা উদ্যোগ হয়, তাহলে তার মৌলিকত্ব কোথায়, অতিরিক্ত মূল্য সংযোজন কী, এবং বিদ্যমান ব্যবস্থার তুলনায় এটি জনগণের জীবনে কী ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে—সে প্রশ্নের স্পষ্ট, তথ্যভিত্তিক উত্তর দেওয়া এখন সময়ের দাবি।
ফেইক কার্ড ও ভোটের রাজনীতি
বাস্তবে বলা হচ্ছে ৫০ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। অথচ দেশের চার কোটির বেশি পরিবারের ঘরে ঘরে ডেমো বা ফেইক কার্ড বিতরণ করে বলা হচ্ছে—ধানের শীষে ভোট দিন, বিএনপি জিতলে সবাই এই কার্ড পাবেন।
যে সুবিধা সবাই পাবে না, সেটার আশা সবাইকে দেওয়া কি রাজনৈতিক প্রতারণা নয়?
এর পাশাপাশি, এই কার্ড ভোট কেনার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না—সেই প্রশ্নও গুরুতর। কার্ডপ্রাপ্ত সুবিধাভোগীরা এর বিনিময়ে ভোট দেওয়ার নৈতিক চাপ অনুভব করতে পারেন, যা নির্বাচনী আচরণবিধির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বাংলাদেশের অতীত অভিজ্ঞতা বলছে—এ ধরনের কর্মসূচি প্রায়ই স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। ফলে প্রকৃত দরিদ্র মানুষ বঞ্চিত হয়, আর দলীয় নেতাকর্মীরাই সুবিধাভোগী হয়। সামাজিক নিরাপত্তা তখন নাগরিক অধিকার নয়, বরং দলীয় অনুগ্রহে পরিণত হয়।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি শোনাতে আকর্ষণীয়, ভোটের আগে জনপ্রিয় এবং আবেগঘন। কিন্তু অর্থনৈতিক বাস্তবতা, প্রশাসনিক সক্ষমতা ও রাজনৈতিক নৈতিকতার প্রশ্নে এটি এখনো অস্পষ্ট ও বিতর্কিত।
ভোগভিত্তিক নগদ সহায়তা সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে দারিদ্র্য দূর করে না। টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন দক্ষ জনশক্তি তৈরি, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও উৎপাদনমুখী অর্থনৈতিক পরিকল্পনা।
ইতিহাস বলে, চটকদার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার রাজনীতি আর টেকসই নয়। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর তরুণ সমাজ আগের মতো সহজে এসব প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস করছে না। এই প্রেক্ষাপটে ফ্যামিলি কার্ড যদি বাস্তবসম্মত, স্বচ্ছ ও অধিকারভিত্তিক না হয়, তাহলে তা জনকল্যাণ নয়—বরং আরেকটি নির্বাচনী কৌশল হিসেবেই ইতিহাসে জায়গা নেবে।