আসন ভাগাভাগি নিয়ে ১১ দলীয় জোটের জট কাটছেই না। মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও সমঝোতায় আসতে পারেনি আই জোট। মূলত চাহিদার আলোকে আসন না পেয়ে শেষ মুহূর্তে বেঁকে বসেছে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ।
দফায় দফায় আলোচনা শেষে মঙ্গলবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বৈঠকে বসেন ১১ দলের নেতারা। এই বৈঠকে আসন সমঝোতার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে চেয়েছিল দলগুলো। কিন্তু গভীররাত পর্যন্ত চলা বৈঠকে ইসলামী আন্দোলনকে ৪৫টি আসনে ছাড় দেয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়। কিন্তু এতে সন্তুষ্ট হতে পারেনি দলটি। এরইমধ্যে চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করতে সংবাদ সম্মেলনের ডাক দেয় দায় ১১ দলীয় জোট। পরে বুধবার বেলা সোয়া ২টার দিকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করা হয়।
জোট সংশ্লিষ্ট একাধিক নেতা জানিয়েছেন, সংবাদ সম্মেলন নিয়ে অনড় ছিলো জামায়াতে ইসলামী। কিন্তু বুধবার সকালে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম জামায়াত আমিরকে ফোন করে সংবাদ সম্মেলন স্থগিতের অনুরোধ করেন। এরপরই সংবাদ সম্মেলন স্থগিতের ঘোষণা আসে।
এদিকে সমঝোতা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বুধবার বাদ যোহর বৈঠকে বসে ইসলামী আন্দোলনের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম। বৈঠক শেষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্মমহাসচিব ও দলীয় মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পরে দেশ,জাতি ও ইসলামের স্বার্থে পীর সাহেব চরমোনাই ইসলামপন্থীদের একবক্স নীতির ঘোষণা করেন। সেই নীতিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এখনো অটল থেকে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের পারস্পরিক আলোচনা চলমান। ইনশাআল্লাহ দ্রুতই একবক্স নীতির রুপরেখা ও ধরণ পরিস্কার হবে।
সমঝোতার বিষয়ে ১১ দলীয় জোটের শরিক এলডিপির চেয়ারম্যান হলেন কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, সমোঝতার বিষয়ে জামায়াতের পক্ষ থেকে সব দলের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করা হচ্ছে। ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গেই তারা আলোচনা করছে। তবে আজ ১১ দলীয় কোনো সভার সম্ভাবনা নেই বলেও জানান এই নেতা।
প্রসঙ্গত, ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটে প্রাথমিক সমঝোতায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে ৪৫টি আসনে এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)কে ৩০টি আসনে ছাড় দেয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়। এ ছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ১৫টি আসনে, ইসলামী ঐক্যজোটকে ৬টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)কে ৬টি, এবি পার্টি ও বাংলাদেশ ডেমোক্রেটিক পার্টি (বিডিপি)কে ২টি করে এবং খেলাফত আন্দোলন, নেজামে ইসলাম পার্টি ও জাগপাকে একটি করে আসনে ছাড় দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।