প্রভাবশালী চক্রের চাঁদার হাট যেন রাজধানীর কাওরান বাজার। চাঁদাবাজি, দখলদারি এবং আধিপত্য বিস্তারের লড়াইকে কেন্দ্র করেই প্রায়ই এখানে নানা অঘটন ঘটে। এমনকি খুনখারাবিও। আলোচিত স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মুচ্ছাব্বির হত্যার নেপথ্যেও এখানকার চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ অন্যতম কারণ। সূত্রগুলো বলছে, কাওরান বাজার থেকে প্রতিদিন গড়ে যে পরিমাণ চাঁদা ওঠে তার পরিমাণ কমপক্ষে ১৭ লাখ টাকা। এ হিসাবে মাসে চাঁদার টাকা ওঠে কমবেশি ৫ কোটি টাকা। সব সময় এই টাকা তোলা হয় প্রভাবশালী মহলের নামে। আগে চাঁদা তুলতেন আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের ডাকসাইটে নেতাকর্মীরা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আওয়ামী যুগের অবসান ঘটে। তবে চাঁদা তোলা বন্ধ হয়নি। এখন চাঁদার ভাগ যাচ্ছে আর একটি প্রভাবশালী গ্রুপের হাতে।
নতুন চাঁদাবাজরা বিচ্ছিন্নভাবে একেকজনের নেতৃত্বে কাওরান বাজারের একেক স্থান থেকে চাঁদা তোলেন। কিন্তু পুরো এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া প্রভাবশালী মহলের ২-৩ জন। এর মধ্যে একজন চান একাই নিয়ন্ত্রণ নিতে। কিন্তু এতে বাধা হয়ে দাঁড়ান স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতা আজিজুর রহমান ওরফে মুচ্ছাব্বির। কাওরান বাজার ছাড়াও পান্থপথের ফুটপাত, তেজগাঁওয়ের কাজীপাড়ার গ্যারেজসহ একাধিক জায়গার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মুচ্ছাব্বিরের সঙ্গে ব্যাপক দ্বন্দ্ব তৈরি হয় ওই চক্রের। তবে মুচ্ছাব্বিরের এক ধরনের জনপ্রিয়তা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতার কাছে তারা পেরে উঠছিলেন না। এ কারণে তাকে চিরতরে সরিয়ে দিতে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। অতঃপর ভাড়াটে খুনিদের হাতে মুচ্ছাব্বিরকে নির্মমভাবে জীবন দিতে হয়।
যুগান্তরের অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এসব তথ্য। এছাড়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির তদন্তেও কাওরান বাজারের চাঁদাবাজির বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। তেজগাঁও থানা বিএনপির পক্ষ থেকে তদন্ত করে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন সম্প্রতি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হকের কাছে জমা দেওয়া হয়।
গত ৭ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৮টার দিকে কাওরান বাজারের বিপরীতে স্টার কাবাবের গলিতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন মুচ্ছাব্বির। এ ঘটনায় কাওরান বাজার ভ্যানচালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান ওরফে মাসুদও গুলিবিদ্ধ হন। তিনি বর্তমানে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মোসাব্বিরের স্ত্রীর মামলার পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তে নেমে শুটারসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তবে এখনো হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি। ডিবির অভিযান অব্যাহত আছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পান্থপথের ফুটপাত দখল করেন স্থানীয় একজন রাজনৈতিক প্রভাবশালী নেতা। যিনি তেজগাঁও এলাকায় অনেক আগে থেকে সন্ত্রাসী গডফাদার হিসাবে পরিচিত। মূলত তার তত্ত্বাবধানে বেশ কয়েকজন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা দলবল নিয়ে চাঁদা তোলায় নেমে পড়েন। চাঁদার বিভিন্ন স্পট এককভাবে নিয়ন্ত্রণে নিতে ব্যর্থ হয়ে তারা যে যার মতো করে চাঁদা তুলে আসছিলেন।
এদিকে বসুন্ধরা শপিংমল এলাকার ফার্নিচারের দোকানপাট থেকে চাঁদার বিরোধ নিয়ে নিজেদের মধ্যে প্রথম দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়। শীর্ষস্থানীয় একজন গডফাদার চেয়েছিলেন তিনি একাই তার লোকজন দিয়ে এই এলাকার সব চাঁদা তুলবেন। কিন্তু অপর পক্ষ সেটি ছাড়তে নারাজ ছিল। একপর্যায়ে এই বিরোধের মধ্যে প্রতিপক্ষ শক্তিশালী গ্রুপটি মুচ্ছাব্বিরকে বড় বাধা হিসাবে চিহ্নিত করে। একই সময় তেজগাঁওয়ের কাজীপাড়া এলাকার একটি মূল্যবান জমিতে গড়ে ওঠা গ্যারেজের দখল নিতে চাইলে মুচ্ছাব্বিরের কারণে সেখানেও তারা ব্যর্থ হয়।
পরিচয় গোপন রাখার শর্তে সংশ্লিষ্ট সূত্র যুগান্তরকে বলেন, অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিটি (গডফাদার) কোনো কিছুর দখল বা নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইলে যে কেউ একবাক্যে তা তাৎক্ষণিক ছেড়ে দেয়। আন্ডারওয়ার্লে£ এটাই ছিল স্বাভাবিক রীতিনীতি। কিন্তু অদম্য সাহসী মুচ্ছাব্বির শুরু থেকেই ওই প্রভাবশালীকে কোনো পাত্তা দিতেন না। তবে বারবার একই ধরনের বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়ার পরও বিশেষ কারণে মুচ্ছাব্বিরের সঙ্গে প্রকাশ্যে ঝামেলায় জড়াতেও চাইতেন না ওই গদফাদার। এ অবস্থায় প্রতিশোধ নিতে ঠান্ডা মাথায় মুচ্ছাব্বিরের সঙ্গে তৃতীয় পক্ষের বিরোধ তৈরির অপেক্ষায় ছিলেন। এরই মধ্যে কাওরান বাজারের চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এক যুবদল নেতার সঙ্গে মুচ্ছাব্বিরের চরম বিরোধ তৈরি হয়। ওই বিরোধকে কেন্দ্র করে গত ডিসেম্বরে চাঁদাবাজির প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের নিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। মুচ্ছাব্বিরের পক্ষে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা মানববন্ধন করলে অপর পক্ষ হামলা চালায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাওরান বাজারকেন্দ্রিক চাঁদাবাজির অগ্নিগর্ভ দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসে।
এদিকে এই সুযোগকে কাজে লাগান প্রভাবশালী গডফাদার। চূড়ান্ত করা হয় হত্যার পরিকল্পনা। তিনি ধরেই নেন, এই মুহূর্তে হত্যার ঘটনা ঘটলে তিনি থাকবেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। কারণ মুচ্ছাব্বিরের সঙ্গে তার প্রকাশ্য কোনো ঝামেলা নেই। প্রকাশ্য ঝামেলা থাকায় মুচ্ছাব্বিরকে হত্যার জন্য সবাই সন্দেহ করবে জনৈক যুবদল নেতাকে। এছাড়া মুচ্ছাব্বিরের সঙ্গে আরও এক শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার বিরোধ ছিল। এসব কারণে দুইয়ে দুইয়ে চার মেলাতে তিনি দূর থেকে এ কিলিং মিশনের রিমোট কন্ট্রোলে চাপ দেন।
জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে কাওরান বাজার থেকে যে টাকা উঠানো হতো তার ৫-১০ শতাংশ টাকা দেওয়া হতো ওই গডফাদারকে। কিন্তু বিপুল অঙ্কের এই কাঁচা টাকার একক নিয়ন্ত্রণ নিতে তিনি মরিয়া হয়ে ওঠেন। মূলত মুচ্ছাব্বির হত্যার নেপথ্যে এ বিষয়টি বেশি ভূমিকা রেখেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এমনটিই মনে করছে।
চাঁদার সাতকাহন : অনুসন্ধানে জানা গেছে, কাওরান বাজার থেকে প্রতিদিন চাঁদা উঠছে ১৭ লাখের বেশি। প্রভাবশালী মহলের বিভিন্ন গ্রুপ বাজারটিকে পৃথকভাবে ভাগ করে এ চাঁদা তোলে। এর মধ্যে মাছের বাজার থেকে চাঁদা তোলেন-জালাল মোল্লা, আজাদ ওরফে ন্যাটা আজাদ, গিয়াস উদ্দিন গেসু, বেল্লাল ও সুরুজ ওরফে ন্যাটা সুরুজসহ অনেকে। মাছের বাজার থেকে প্রতিদিন আনুমানিক ৩ লাখ ৬ হাজার টাকা চাঁদা তোলা হয়। ১০০ ট্রাক থেকে প্রতিদিন এক হাজার করে, ১৫০টি ভ্যান থেকে ৫টি পৃথক গ্রুপ টাকা তোলে ১০ হাজার করে, মাছ বহনের জন্য তৈরি বক্স ও পলিথিন কেনাবেচায় দিনে অন্তত ৪০ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হয়। বরফের দোকান থেকে তিনটি গ্রুপ দৈনিক ৩০ হাজার টাকা, রাস্তার ওপর মাছের আড়তের ৮০টি দোকান থেকে তোলা হয় ৮০০ টাকা করে। ফুটপাতে বসা ১৫টি অস্থায়ী দোকান থেকে নেওয়া হয় এক হাজার ৫০০ টাকা করে।
সবচেয়ে বেশি চাঁদাবাজি হয় সবজির বাজার ঘিরে। এখানে দিনে চাঁদা তোলা হয় অন্তত সাড়ে ১২ লাখ টাকা। এর মধ্যে ফুটপাতের ৩০টি দোকান থেকে নেওয়া হয় দুই হাজার টাকা করে। আবার এসব অস্থায়ী দোকানের অনেকগুলো প্রভাবশালী চক্রের দখলে রয়েছে। রাস্তার ওপর ছোট-বড় আড়ত প্রায় ৩০০টি। এসব আড়ত থেকে প্রতিদিন চাঁদা ওঠে ৩ হাজার টাকা করে। সবজির ভ্যান থেকে মৌসুম অনুযায়ী (অন্তত ৩ মাস) ৫ লাখ টাকা করে নেওয়া হয়। এ কাজে যুক্ত ২০টি গ্রুপ। এই গ্রুপগুলো প্রতি মৌসুমে এককালীন টাকা নেয়, যা দিনে গড়ে ১ লাখ ১১ হাজারের বেশি। ফুলকপি ও পাতাকপির মতো আইটেম বিক্রিতে প্রতি ট্রাক থেকে নেওয়া হয় দুই হাজার টাকা করে। এ ধরেনর ট্রাকের সংখ্যা ২০টির বেশি। এছাড়া ভারত থেকে প্রতিদিন আমদানি করা ট্রাক আসে গড়ে ২০টি করে। এসব ট্রাক থেকে নেওয়া হয় থেকে তিন হাজার টাকা করে। সবজি বাজারের চাঁদাবাজিতে যাদের নাম উঠে এসেছে তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন কাজী বাবু, ন্যাটা আজাদ, মজিদ মিলন ওরফে পিকআপ মিলন, ইউসুফ হোসেন মিন্টু ওরফে ফুট মিন্টু, শাহীন ওরফে ডাকাত শাহীন, পলাশ, শাহ আলম, তজিমুদ্দিন, মিঠু, আনিস, হানিফ মাস্টার, ফারুক ওরফে ভাইগ্না ফারুক, রাসেল জমাদ্দার, এল রহমান ও বেল্লাল প্রমুখ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কাওরান বাজার পিকআপ স্ট্যান্ডের চাঁদা আদায় করে আব্দুল মজিদ মিলন ওরফে পিকআপ মিলন। এখান থেকে দিনে অন্তত ২৫০টি পিকআপ চলাচল করে। এসব পিকআপ থেকে প্রতিদিন তোলা হয় ১০০ টাকা করে।
বাপেক্স ভবনের সামনে মাইক্রোবাসের স্ট্যান্ড। সেখান থেকে ৩০টি করে মাইক্রো চলাচল করে রামপুরার দিকে। এই স্ট্যান্ড থেকে প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা তোলা হয়। এছাড়া পেট্রোবাংলার সামনে থেকে হাতিরঝিল ও রামপুরামুখী সিএনজি ও মাইক্রো চলাচল করে। ১৬০টি সিএনজিকে প্রতিদিন দিতে হয় ১৪০ টাকা করে। আর ২০টি মাইক্রোবাসকে দিতে হয় এক হাজার ৫০০ টাকা করে। এছাড়া এই রুটে চলাচল করতে চাইলে প্রতি মাইক্রোকে এককালীন ২০ হাজার টাকা করে গুনতে হয়। এমনকি রাতে ওই এলাকা থেকে কোনো পিকআপ মালামাল নিলে ভাড়ার ২০ শতাংশ নেওয়া হয় চাঁদা হিসেবে। অন্যদিকে কাব্যস সুপার মার্কেটের সামনে থেকে একটি প্রতিষ্ঠানের মালামাল পরিবহণে প্রতিদিন তিন হাজার টাকা দিতে হয়। এখানকার চাঁদাবাজিতে মিলনের সঙ্গে রয়েছেন বেলায়েত, বিল্লাল, ন্যাটা সুরুজ ও ইউসুফ মজুমদার।
আরও জানা গেছে, মুরগির বাজার থেকে প্রতি কেজিতে ১৫ টাকা হারে অন্তত দুই লাখ টাকা নেওয়া হয় প্রতিদিন। কাওরান বাজারে ৪৫টির মতো মুরগির দোকান রয়েছে। এখান থেকে চাঁদা আদায় করেন এল রহমান, ইউসুফ মজুমদার, রাসেল, রহিম, আমানুল্লাহ আমান, জাহাঙ্গীর ও রহিম। এছাড়া এসব চাঁদাবাজের সহায়তায় মুরগির ওজনেও কম দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার কাওরান বাজারের পেট্রোবাংলার সামনে এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা হয় যুগান্তর প্রতিবেদকের। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আমরা ভাবছিলাম আর চাঁদা দেওয়া লাগবে না। কিন্তু চাঁদা দেওয়া থেকে কারও মুক্তি মেলেনি। তিনি জানান, চাঁদাবাজিতে নতুন মুখের আবির্ভাব ঘটেছে। এক দল যায়, আরেক দল আসে। সবাই এক। আগে এখানে দৈনিক ৫০ টাকা চাঁদা দিতে হতো, এখন গুনতে হয় ১০০ টাকা। ব্যবসা করতে হলে দিতেই হবে।
যা বললেন ডিএমপি কমিশনার
জানতে চাইলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি কমিশনার) শেখ সাজ্জাত আলী যুগান্তরকে বলেন, কাওরান বাজারের চাঁদাবাজি এবং এলাকার আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করেই মোছাব্বির হত্যার ঘটনা ঘটেছে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আমরা এরই মধ্যে চারজনকে গ্রেফতার করেছি। একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে। তিনজনকে রিমান্ডে এনে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, মোছাব্বির হত্যাকাণ্ডের পর কাওরান বাজার এলাকার চাঁদাবাজরা গাঢাকা দিয়েছে। তাদের ধরতে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চলছে। একই ধরনের তথ্য জানান, ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম।
বেমালুম সব অস্বীকার
যাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে তাদের বক্তব্য নিতে গেলে কাজী বাবু এবং মিন্টুসহ অনেকের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফোন ধরেননি বিল্লাল হোসেনসহ কয়েকজন। তবে হোয়াটঅ্যাপে কথা হয়েছে বেশ কয়েকজনের সঙ্গে। এদের মধ্যে আব্দুল মজিদ মিলনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পিকআপ স্ট্যান্ড থেকে চাঁদা তোলার। তবে তিনি যুগান্তরকে বলেন, ‘আমি পিকআপ স্ট্যান্ডের সভাপতি। কেউ এখান থেকে চাঁদা তুললে অবশ্যই আমাকে না জানিয়ে তুলতে পারবে না। চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি, ৫ আগস্টের পর এখান থেকে কোনো চাঁদা কেউ তোলে না। আমি নিজেও না। কেউ শত্রুতা করে চাঁদাবাজির সঙ্গে আমার নাম জড়াতে পারে।’
ন্যাটা সুরুজ বলেন, ‘কাওরান বাজার থেকে আপাতত দৈনিক ভিত্তিতে টাকা তোলা বন্ধ আছে। তবে মাসিক ভিত্তিতে চলমান আছে। এই চাঁদবাজির সঙ্গে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তিনি বলেন, মাছ বাজারের অবৈধ যেসব দোকান থেকে লাখ লাখ টাকা উঠত, সেসব দোকান এরই মধ্যে উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। আবার যখন এসব দোকান চালু হবে তখন টাকা তোলা শুরু হবে। এখন যেভাবে আছে, সেভাবে থাকলেই ভালো।’
মাছ বাজার থেকে চাঁদা তোলার অভিযোগ জালাল মোল্লাল বিরুদ্ধে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, ‘মাছ বাজারে আমার আড়ত আছে। আমি বৈধভাবে ব্যবসার পাশাপাশি রাজনীতি করি। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই হয়তো আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে।’
বিএনপির তদন্ত প্রতিবেদনে যা আছে
এদিকে তেজগাঁও থানা বিএনপির পক্ষ থেকে সম্প্রতি ২৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক (বর্তমানে স্থগিত) বিল্লাল হোসেনের চাঁদাবাজি নিয়ে তদন্ত করা হয়। এ সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাওরান বাজারের প্রগতি টাওয়ারের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে অবস্থিত সাইফুল ইসলামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল করে নিয়েছেন বিল্লাল। তিনি ‘জীবনের ফুট’ থেকে প্রতি মাসে ২০ হাজার করে টাকা নেন। ‘মনিরের ফুট’ থেকে নেন ৩০ হাজার টাকা করে। জাফরী ভবনের সামনে দুটি চায়ের দোকান থেকে প্রতি মাসে নেন ৪৮ হাজার টাকা। এছাড়া কাঁচামাল সংগ্রহের গাড়ি থেকে প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা, জুতার মার্কেট ও সুরমা হোটেলের কর্নার থেকে ২০ হাজার টাকা, সাইফুলের কাঁচামালের দুটি দোকান থেকে প্রতি মাসে ৬০ হাজার টাকা এবং ঢাকা ব্যাংকের সামনে অবস্থিত ‘মোতালেব মিজি’ থেকে মাসে চাঁদা নেন ১৫ হাজার টাকা।