Image description

ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা এবং উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় সপ্তাহব্যাপী অভিযানে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার সাইবার ইউনিট পাঁচ চীনা নাগরিকসহ একটি অনলাইন প্রতারক চক্রের আট সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে।

তাদের কাছ থেকে সাইবার অপরাধে ব্যবহৃত ৫১ হাজারেরও বেশি সিম কার্ড, ভিওআইপি গেটওয়ে ডিভাইস ও মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তাররা হলেন চেন লিং ফেং, জেং কং, জেং চ্যাংকিয়াং, ওয়েন জিয়ান কিউ, হুয়াং ঝেং জিয়াং, মো. জাকারিয়া (২৬), নিয়াজ মাসুম (২০) ও কামরুল হাসান ওরফে হাসান জয় (৩৮)।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিসি (সাইবার উত্তর) হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের ওয়েব-ভিত্তিক অপরাধ তদন্ত দল ডিবি সাইবার সাপোর্ট সেন্টারে দায়ের করা অভিযোগ তদন্ত করার সময় ঢাকায় সক্রিয় একাধিক দেশি-বিদেশি প্রতারক চক্র চিহ্নিত করেছে।

গত ৭ জানুয়ারি বসুন্ধরায় অভিযানে নিয়াজ মাসুম ও হাসান জয় গ্রেপ্তার হন। তাদের কাছ থেকে ১৪টি ভিওআইপি গেটওয়ে ডিভাইস, ৫১ হাজার ৬৭টি সিম কার্ড, চারটি মোবাইল ফোন, দুটি সিপিইউ ও একটি ল্যাপটপ জব্দ করা হয়।

পরে ১২ জানুয়ারি উত্তরায় পাঁচজন চীনা নাগরিক এবং একজন বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে সাতটি অবৈধ ভিওআইপি গেটওয়ে ডিভাইস, ৪৭টি মোবাইল ফোন, ১৮৪টি সিম কার্ড ও পাঁচটি ল্যাপটপ জব্দ করা হয়।

ডিসি জানান, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, এই চক্র টেলিগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ এবং অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপ ব্যবহার করে ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন, লাভজনক বিনিয়োগ, কম দামের পণ্য এবং ঘরে বসে কাজ বিজ্ঞাপন দিয়ে লোকেদের প্রলুব্ধ করত।

ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া অর্থ পরে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তরিত করা হতো এবং ভিওআইপি গেটওয়ে মেশিনের মাধ্যমে বিদেশে স্থানান্তর করা হতো।

চীনা নাগরিকদের আগমন এবং ভিসার অবস্থা নিয়ে ডিসি বলেন, যে তাদের পাসপোর্ট যাচাই করা হচ্ছে। তাদের কাছ থেকে জব্দ করা ডিজিটাল ডিভাইসগুলোতে চীনা সফটওয়্যার অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহৃত হচ্ছে বলে জানা গেছে।

হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবাদার আরও বলেন, নিয়াজ ও হাসান জয়কে এরইমধ্যে আদালতে হাজির করা হয়েছে এবং বাকি গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে।