Image description

বিপিসির মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) মোরশেদ হোসাইন আজাদের চাকরিতে বয়স ‘চুরি’ ও ভুয়া সনদে সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন বিষয়ে আগামীকাল বুধবার শুনানি হাইকোর্টে অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার এ সংক্রান্ত গঠিত মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করা হবে। বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভুঁইয়ার সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চে এটি শুনানীর তালিকায় রয়েছে।

রিটকারীর আইনজীবী মোহাম্মদ হাবিব জানান, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মোরশেদ হোসাইন আজাদের বিরুদ্ধে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে সনদ-বয়স জালিয়াতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও দুর্নীতির অভিযোগে গত বছর ২৩ অক্টোবর হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক ছাত্র সংগঠন ‘স্টুডেন্টস ফর সোভারেনটি’-এর আহ্বায়ক মুহম্মদ জিয়াউল হক। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১২ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর ডিভিশন বেঞ্চ দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) মোরশেদ হোসাইন আজাদের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশনা দেন। একই সাথে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) গঠিত তদন্ত কমিটিকে তখন ২০ কর্মদিবসের মধ্যে যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন। উক্ত তদন্তের রিপোর্ট এর একটি কপি আদালত জমা দেওয়ার জন্য আদালত নির্দেশ দিয়েছিলেন, যেটি ৭ জানুয়ারি বুধবার উক্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা। এ সময়ে তা দিতে না পারায় তা ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়।

রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০০৯ সালের ১৩ মার্চ বিপিসির উপ-ব্যবস্থাপক (বিপণন) পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সময় মোরশেদ হোসাইন আজাদের বয়স ছিল ৩৬ বছর ৪ মাস ২১ দিন, অথচ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী সর্বোচ্চ বয়সসীমা ছিল অনূর্ধ্ব ৩৩ বছর। এছাড়া চাকরিতে আবেদনের সময় অভিজ্ঞতা দেখাতে ‘গ্লোয়ার ট্রেডিং’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ভুয়া অভিজ্ঞতা সনদ দাখিল করা হয়, যা পরবর্তীতে অডিটে ধরা পড়ে। অডিট আপত্তি উত্থাপিত হলেও এ বিষয়ে কোনো কার্যকর তদন্ত হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়।

রিট আবেদনে আরও বলা হয়, ছাত্রলীগের প্রভাবশালী এই নেতা দলীয় প্রভাব বিস্তার করেন এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন।

২০২১ সালের ৫ ডিসেম্বর যমুনা অয়েল কোম্পানির মোংলা ইন্সটলেশনের তৎকালীন ব্যবস্থাপক (পরিচালন) এ কে এম জাহিদ তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিস্তারিত অভিযোগ দুদকে দাখিল করলেও তা যথাযথভাবে তদন্ত করা হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়।