Image description

গত ডিসেম্বর মাসের প্রথম ২৯ দিনে দেশে ৩ বিলিয়ন ডলারের প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স এসেছে। এতে ব্যাংকগুলোতে ডলারের উদ্বৃত্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ব্যাংক থেকে ডলার কেনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন ডলার বা ৩ হাজার ৩০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। এটি গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ রিজার্ভ।

এর আগে ২০১৭ সালে প্রথমবারের মতো রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছিল। ২০২১ সালে তা রেকর্ড ৪৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় রিজার্ভ ২৬ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছিল।

প্রবাসী আয় বাড়ার কারণে ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কিনছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর পাশাপাশি বিদেশি ঋণও আসছে। এতে রিজার্ভের পরিমাণ বাড়ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) মোট রিজার্ভ বেড়ে হয়েছে ৩ হাজার ৩১৮ কোটি ডলার। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাবপদ্ধতি বিপিএম ৬ অনুযায়ী রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮৫১ কোটি ডলার।

প্রবাসী আয় বাড়ার কারণে ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কিনছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর পাশাপাশি বিদেশি ঋণও আসছে। এতে রিজার্ভের পরিমাণ বাড়ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার নিলামের মাধ্যমে সাতটি ব্যাংক থেকে ৮ কোটি ৯০ লাখ ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৩০ পয়সা দরে এসব ডলার কেনা হয়। ফলে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার কেনার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ১৩ বিলিয়ন বা ৩১৩ কোটি ডলারে। এর মধ্যে শুধু ডিসেম্বর মাসেই ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ডিসেম্বর মাসের প্রথম ২৯ দিনে প্রবাসী আয় ৩ বিলিয়ন ডলার বা ৩০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ২৯ দিনে দেশে এসেছে মোট ৩০৪ কোটি ডলার।

গত বছরের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে প্রবাসী আয়ে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। গত মার্চ মাসে প্রবাসী আয়ে নতুন রেকর্ড হয়। ওই মাসে ৩২৯ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় দেশে এসেছিল। এটি এখন পর্যন্ত একক মাসে আসা সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়। চলতি মাসে প্রবাসী আয় আবারও ৩০০ কোটি ডলারের ঘর ছাড়িয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে মোট ৩ হাজার ৩৩ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। এর আগের ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এসেছিল ২ হাজার ৩৯১ কোটি ডলারের প্রবাসী আয়।