গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছেন জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়াডেফুল। ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত এই আর্কটিক ভূখণ্ড দখলের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একাধিক হুমকির পরও জার্মানি মনে করছে, এমন কোনো বাস্তব ঝুঁকি নেই।
স্থানীয় সময় সোমবার (১২ জানুয়ারি) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়াডেফুল বলেন, গ্রিনল্যান্ডে একতরফা সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র যে সত্যিই ভাবছে—এমন কোনো ইঙ্গিত তিনি পাননি। খবর এএফপির।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠকের পর ওয়াডেফুল বলেন, আমি মনে করি, আর্কটিক অঞ্চলে উদ্ভূত নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের সবারই একটি যৌথ স্বার্থ রয়েছে এবং আমরা সেটিই করব।
ওয়াডেফুল জানান, ন্যাটো বর্তমানে এ বিষয়ে আরও ‘নির্দিষ্ট পরিকল্পনা’ তৈরির প্রক্রিয়ায় রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রসহ মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
এই মন্তব্য এমন এক সময় এসেছে, যখন চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের শীর্ষ কূটনীতিকদের মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে সোমবার গ্রিনল্যান্ড সরকার আবারও স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ‘কোনো পরিস্থিতিতেই’ তারা যুক্তরাষ্ট্রের দখল বা নিয়ন্ত্রণ মেনে নেবে না।
একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্যরাও এক বিবৃতিতে জানান, একটি দ্বিদলীয় প্রতিনিধি দল শুক্রবার ও শনিবার ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেন সফর করবে। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠেয় ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে যাওয়ার পথে এই সফর হবে।
ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস কুনস বলেন, প্রতিনিধি দলটি ব্যবসায়ী ও সরকারি নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ‘আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদার এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা’ নিয়ে আলোচনা করবে।
অন্যদিকে রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিস বলেন, ‘আমাদের মিত্রদের সমর্থন করা এবং ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করা—এই বিষয়ে কংগ্রেসের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
সোমবার গ্রিনল্যান্ড ও ন্যাটো জানায়, আর্কটিক অঞ্চলের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারে তারা যৌথভাবে কাজ করছে। এটি এমন একটি বিষয়, যাকে সামনে রেখে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।
ট্রাম্পের দাবি, আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান তৎপরতা যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে, আর সে কারণেই গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া জরুরি।