আসামিপক্ষ চাচ্ছে মামলার বিচার কাজ বিলম্ব করতে। উনারা খুব আশায় আছেন, নির্বাচন হয়ে গেলে আর বিচার-টিচার হবে না। জয়-পলকের মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানিতে চিফ প্রসিকিউটরের এমন কথার প্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ বলেন, ‘কেন নির্বাচন হলে কি আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ক্ষমতায় চলে আসবে? এমন কথা বলবেন না।’ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি শেষ হয়েছে।
মামলায় প্রাইমা ফেসি গ্রাউন্ড তুলে ধরে আসামি জয়-পলকের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আবেদন করেছেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। এদিকে আসামিপক্ষের শুনানির জন্য আগামী বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ৩ সদস্যর বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।
এদিন জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে ইন্টারনেট বন্ধ করে গণহত্যার মামলায় সজীব ওয়াজেদ জয় ও জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি করে প্রসিকিউশন। পরে জুনাইদ আহমেদ পলকের আইনজীবী লিটন আহমেদ বলেন, ‘আদালতের আদেশ অনুযায়ী গত শুক্রবারে কারাগারে আসামির সঙ্গে দেখা করতে গেলে আমাদের কারা অধিদপ্তর ল্যাপটপ ও পেনড্রাইভ নিয়ে ঢুকতে পারিনি। তাই আমরা আগামী রোববার ১৭ জানুয়ারি শুনানি করতে চাই।’
লিটন আহমেদ আরও বলেন, ‘জব্দ তালিকার যে ১০টি ভিডিও ফুটেজ তাদের মধ্যে কয়েকটি ওপেন হয়নি।’ তখন চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘আমাদের এখানে সব ঠিক আছে, হয়তো আপনাদের ডিভাইসে সমস্যা।’
পরে লিটন আহমেদ বলেন, ‘আমরা আগামী শুক্রবার কারাগারে যেতে চাই। তখন চেয়ারম্যান বলেন, ‘শুক্রবার কেন আপনারা চাইলে আজই এসব কাজ সারতে পারেন। ডিভাইসের সমস্যা থাকলে আজও ২ ঘন্টা সময় নিয়ে করেন।’
পলকের পক্ষের আইনজীবীরা বলেন, ‘ফর্মাল চার্জ অনেক বড়। পুরোটা পড়তে সময় লাগবে আমাদের। আদালত সবার প্রতি দয়াবান। তখন ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যানসহ অন্য বিচারকরাও বলেন আগামী চারদিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবারের কথা।’
পরে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম দাঁড়িয়ে ট্রাইব্যুনালকে বলেন, ‘তারা ভাবছেন নির্বাচন হলে বিচার হবে না। তাই এসব করে বিচারকার্য বিলম্বিত করছেন।’
চিফ প্রসিকিউটরের এমন কথায় ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ বলেন, ‘কেন ইলেকশন হলে কি আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় চলে আসবে? এমন কথা বলবেন না।’ পরে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বলেন, ‘আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সময় পাবেন। বৃহস্পতিবার শুনানি করবেন।’