Image description
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ড. ফখরুদ্দীন আহমদ শপথ নিচ্ছেন © ফাইল ছবি

আজ ১১ জানুয়ারি (রবিবার)। বাংলাদেশে দিনটি ওয়ান-ইলেভেন (১/১১) নামে পরিচিত। দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বড় পরিবর্তনগুলোর একটি। ১৯ বছর আগে ২০০৭ সালের এই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অনাস্থা সৃষ্টি হওয়ার প্রেক্ষাপটে দেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয় সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার।  

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি ছিল বৃহস্পতিবার। দিনভরই চারদিকে ছিল নানা গুজব, গুঞ্জন। সার্বিক পরিস্থিতি ছিল থমথমে। বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের সঙ্গে বৈঠক শেষে বিমানবাহিনী প্রধান, নৌবাহিনী প্রধান, পুলিশের মহাপরিদর্শক, র‍্যাব, বিডিআরসহ সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানদের নিয়ে সেনা সদরে বৈঠক করেন তৎকালীন সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদ।

রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ১৪১ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেন। এরপর নানা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে রাত সাড়ে ১১টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগের কথা জানান।

পরবর্তীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় ড. ফখরুদ্দীন আহমদকে। তিনি নতুন উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করেন।

ওয়ান-ইলেভেন সৃষ্টির প্রাক্কালে সেনাবাহিনীর তৎকালীন প্রধান জেনারেল মইন ইউ আহমদ সব আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে চলে আসেন। তিনিই এক অনুষ্ঠানে ১১ জানুয়ারির জরুরি অবস্থা জারির দিনটিকে ওয়ান-ইলেভেন বা এক এগারো (১/১১) নামে আখ্যায়িত করেন। জরুরি অবস্থা জারির পর রাজনৈতিক দলগুলোর সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করা হয়।

রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হলেও বিভিন্নভাবে আন্দোলন গড়ে ওঠে। এক পর্যায়ে আন্দোলন রাজপথে নেমে আসে। পরিস্থিতি অনুধাবন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার এক পর্যায়ে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। সেই সঙ্গে ঘরোয়া রাজনীতিরও অনুমতি দেয়।