নির্বাচনে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক পর্যায়ে নেয়ার দাবি জানিয়েছেন পাবনার নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। বক্তারা বলেন, ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাস্তবতায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনো কর্তৃত্ববাদী আচরণ থেকে পুরোপুরি বের হতে পারেনি। পেশীশক্তি ব্যবহার করে ভিন্নমত দমনের সংস্কৃতি পরিবর্তন না হলে সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক উত্তরণ সম্ভব নয়। নির্বাচনের আগেই ভোটারদের জন্য ভীতিমুক্ত সবার জন্য সমান পরিবেশ সৃষ্টির দাবী জানান বক্তারা।

 

শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকালে পাবনা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) আয়োজিত ‘গণতন্ত্র শক্তিশালীকরণ কার্যক্রম, সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক উত্তরণ: নাগরিক ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এসব তথ্য উঠে আসে।

সুজন পাবনার সভাপতি আব্দুল মতীন খানের সভাপতিত্বে ও সম্পাদক আশরাফ আলীর সঞ্চালনায় বৈঠকে শিক্ষক, সাংবাদিক, অধ্যাপক, চিকিৎসক, সমাজকর্মী, ছাত্র প্রতিনিধিসহ নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। 

বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন, সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দীলিপ কুমার, রাজশাহী বিভাগীয় সমন্বয়কারী মিজানুর রহমান, পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার, সাবেক সভাপতি এবিএম ফজলুর রহমান, শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ, কলেজ শিক্ষক শেখ আল মাহমুদ, মতমাইন্না মতিন কাকলী, সমাজকর্মী ও শিক্ষক উম্মে হাবিবা, সংবাদকর্মী রাজিউর রহমান রুমী, রফিকুল ইসলাম সুইট, রিজভী জয়, সংস্কৃতিকর্মী ভাস্কর চৌধুরী, শিক্ষার্থী রাকিব আলী, আলহাজ্ব হোসেন ও রনি সরকারসহ অনেকেই।

পাবনা প্রেসক্লাব সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার বলেন, ভোট নিয়ে সাধারণ মানুষ এখনো শঙ্কিত। থানা থেকে অস্ত্র লুট হয়েছে। অস্ত্রের বিস্তার, ব্যবহার ও অপরাধ বেড়েছে। সেগুলো উদ্ধার হয়েছে কতটুকু, চিহ্নিত সন্ত্রাসী কয়জন গ্রেপ্তার হয়েছে? আবার বাকস্বাধীনতায় নতুন আতঙ্ক মব সন্ত্রাস। 

সমাজকর্মী হাবিবুর রহমান বলেন, বিগত দিনের নির্বাচনি অভিজ্ঞতা ও বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় ভোট নিয়ে মানুষের মধ্যে আস্থার তীব্র সংকট এখনো দেখা যাচ্ছে। মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। গণভোট নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসচেতনতা ও বিতর্ক রয়েছে।

সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক দিলীপ কুমার বলেন, সারাদেশ থেকে আসা নাগরিক মতামতে প্রশাসন নির্বাচন কতটুকু সুষ্ঠু, অবাধ ও উৎসবমুখর করতে পারবে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সংস্কার কমিশন গুলোর দেয়া অধিকাংশ প্রস্তাব সরকার বাস্তবায়ন করেনি। গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে সচেতনতা ও সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এক্ষেত্রে নাগরিকদেরও সঠিক দায়িত্বটুকু পালনের আহ্বান জানান তিনি।