Image description

লক্ষ্যটা খুব বড় ছিল না। ওভারপ্রতি প্রয়োজন ছিল সাত রানেরও কম। কিন্তু চতুর্থ ও পঞ্চম ওভারে মাত্র ছয় বলের ব্যবধানে চার উইকেট হারিয়ে হঠাৎ করেই চাপে পড়ে যায় চট্টগ্রাম রয়্যালস। ২৮ রানে চার উইকেট হারানোর পর ম্যাচ যেন রাজশাহীর দিকেই হেলে পড়েছিল।

সেই বিপর্যয় সামাল দেন মেহেদী হাসান ও হাসান নেওয়াজ। দুজনের পঞ্চম উইকেট জুটিতে আসে গুরুত্বপূর্ণ ৪০ রান। পরে নেওয়াজের সঙ্গে আসিফ আলী যোগ করলে চাপ কিছুটা কমে, ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে যোগ হয় আরো ৩৫ রান।

তবে শেষদিকে রিপন মণ্ডল ও তানজিম হাসান সাকিবের আঁটসাঁট বোলিংয়ে ম্যাচে ফেরে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।

শেষ ওভারে চট্টগ্রামের দরকার ছিল ১০ রান। অফ স্পিনার এসএম মেহরবের প্রথম তিন বলে ৮ রান এলেও পরের দুই বলে ডট দিয়ে নাটক বাড়ান নেওয়াজ। কিন্তু শেষ বল লং অফে ঠেলে দেওয়া শটে নওয়াজ ও শরীফুল ইসলাম তুলে নেন প্রয়োজনীয় দুই রান। উল্লাসে মাতে চট্টগ্রাম শিবির।

গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতার অভাব ও ফিল্ডিংয়ের ভুল রাজশাহীর জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। অন্যদিকে চাপের মুখে ঠান্ডা মাথার ব্যাটিংয়ে নাটকীয় জয় তুলে নেয় চট্টগ্রাম রয়্যালস।

এর আগে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন চট্টগ্রামের অধিনায়ক শেখ মেহেদী হাসান। শুরুটা ভালো হলেও চতুর্থ ওভারে মোহাম্মদ ওয়াসিম আউট হতেই ভেঙে পড়ে রাজশাহীর ব্যাটিং লাইনআপ। নাজমুল হোসেন শান্ত, তানজিদ হাসান তামিমরা সুবিধা করতে পারেননি।

দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ১৯ রান করেন মোহাম্মদ ওয়াসিম ও এসএম মেহরব। আকবর আলী ১৬ বলে ১৭ রান করেন, আর শেষদিকে তানজিম হাসান সাকিব ১৪ বলে ১৪ রান করে অপরাজিত থাকেন। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে রাজশাহীর সংগ্রহ দাঁড়ায় ১২৮ রান।

চট্টগ্রামের পক্ষে আমের জামাল ২৩ রান খরচ করে নেন তিন উইকেট। দুটি করে উইকেট শিকার করেন শরীফুল ইসলাম ও তানভীর ইসলাম।

জবাব দিতে নেমে শুরুতেই খেই হারায় চট্টগ্রাম। নাঈম শেখ, মাহমুদুল হাসান জয় ও সাদমান ইসলাম দ্রুত বিদায় নেন। অধিনায়ক শেখ মেহেদী ২৫ বলে ২৮ রান করে আউট হলে দায়িত্ব পড়ে হাসান নেওয়াজ ও আসিফ আলীর ওপর।

আসিফ আলী ২৫ বলে ২৭ রান করে বিদায় নিলেও নওয়াজ একপ্রান্ত আগলে রাখেন। শেষ পর্যন্ত ৩৬ বলে ৩৫ রানে অপরাজিত থেকে শেষ বলেই নিশ্চিত করেন দলের জয়।

এই জয়ে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে ৭ ম্যাচে ৫ জয় নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে অবস্থান আরো দৃঢ় করল চট্টগ্রাম রয়্যালস।