Image description
 

আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান মুছাব্বিরের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করা না করলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মুছাব্বিরের নামাজে জানাজার আগে স্বেচ্ছাসেবক দলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইয়াসীন আলী ও সহসভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিন কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

রবিন বলেন, মুছাব্বিরের হত্যাকারী দুষ্কৃতকারীদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি। শনিবার ঢাকা মহানগরসহ সারাদেশে মহানগর ও জেলায় বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করছি। এর মধ্যে মুছাব্বিরের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করা না হলে স্বেচ্ছাসেবক দল কঠোর কর্মসূচি দেবে।

 

বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাতে ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সদস্য সচিব আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে সন্ত্রাসীরা গুলি করলে হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনি মারা যান। বৃহস্পতিবার তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে তেজগাঁও থানায় মামলা করেন।

 
 

বৃহস্পতিবার বাদ জোহর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয় মুছাব্বিরের কফিন। সেখানে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, এসএম জাহাঙ্গীর, মোস্তাফিজুর রহমান, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক, দক্ষিণের সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিনসহ স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহসভাপতি ইয়াসীন আলীসহ নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।

 

জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে যারা জড়িত, তারা যারাই হোক অনতিবিলম্বে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে। এখন পর্যন্ত ওমান হাদি হত্যার মূল হত্যাকারীরা গ্রেপ্তার হয়নি। ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করতে হবে। না হলে ধরে নেব আপনাদের আন্তরিকতায় কোনো ঘাটতি আছে অথবা আপনারা পারবেন না। তাই সরকারকে বলব, কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।

তিনি বলেন, আমাদের নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করার যে লড়াই চলছে কোনো হত্যাকাণ্ড সে লড়াইয়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। কোনো রক্তপাত সেই লড়াইয়ের ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারবে না।

স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু বলেন, মুছাব্বির একজন দেশপ্রেমিক সাহসী সৈনিক। অনেকবার ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার আমলে গ্রেপ্তার হয়েছেন। একবার তাকে গুম করা হয়েছে। আমার মনে আছেন আমাদের নেতা রুহুল কবির রিজভী রাতে সংবাদ সম্মেলন করে মুছাব্বিরকে গুম করার খবর দেশবাসীকে জানিয়েছিলেন। পরে গুম থেকে রক্ষা পেয়ে কারাগারে গেলে তার সাথে আমার দেখা হয়েছিল। জাতীয়তাবাদী দলের একজন সাহসী কর্মী ছিলেন তিনি। তার এই হত্যাকাণ্ড মেনে নেওয়া যায় না।

ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক বলেন, একটি মহল নির্বাচন বানচাল করার জন্য হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করছে। মুছাব্বির একজন সাহসী সৈনিক ছিলেন। শত শত মামলা, নিপীড়ন সহ্য করেছেন কিন্তু রাজপথ ছাড়েনি। মুছাব্বির হত্যা নির্বাচন বানচালকারীদের চক্রান্তের অংশ। উদ্দেশ্য একটাই দেশকে অস্থিতিশীল করা। আমাদেরকে অবশ্যই এ ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন বলেন, সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বলব আপনারা মুছাব্বিরের হত্যাকারীদের দ্রুত খুঁজে বের করুন, নইলে আমরা খুঁজে বের করব। এই হত্যা কোনোভাবে মেনে নেওয়া যায় না।