Image description

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) গবেষণা ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক সানজিদা আহমেদ তন্বীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘রাজনীতিতে অনাগ্রহী তন্বি বিয়েশাদি করে ব্যস্ত’ এমন মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি। নিজের ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এমন প্রতিবাদ জানান। 

নিজের ফেসবুক পোস্টে তন্বী বলেন, গত দুই দিনে একাধিক ব্যক্তি তাকে একটি লেখা পাঠিয়েছেন। লেখাটি পড়ে এবং লেখকের আইডি পর্যালোচনা করে তার কাছে স্পষ্ট হয়েছে, লেখক শিবির বা ওই ঘরানার সমর্থক। তিনি অভিযোগ করেন, লেখাটির বড় একটি অংশই আপত্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

তন্বী বলেন, ডাকসু নির্বাচনের পর থেকেই পদধারী ও পদবিহীন অনেকেই তার বিরুদ্ধে দোষ খোঁজার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তার ‘অপরাধ’ হলো তিনি তাদের কোর একজন নেতার বিরুদ্ধে নির্বাচন করে তাকে পরাজিত করেছেন। শিবির সংশ্লিষ্ট বা সমর্থকদের দ্বিচারিতা তাকে বিস্মিত করে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ডাকসু নেত্রী আরও বলেন, তিনি নিজের কাজ নিয়ে সীমাবদ্ধতা স্বীকার করলেও সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় ছিলেন এমন অভিযোগ মিথ্যা। তিনি উল্লেখ করেন, তার আয়োজনে দুই দিনব্যাপী একটি বড় কর্মশালা অনুষ্ঠিত হলেও এক শিবির-সমর্থিত সম্পাদক দাবি করেছেন, তিনি নাকি কোনো কাজই করেননি। অথচ ওই সম্পাদক নিজে তখনো একটি কাজও করতে পারেননি বলে দাবি করেন তন্বী।

পোস্টে নিজের ব্যক্তিগত জীবন টেনে আনার কঠোর সমালোচনা করে তন্বী বলেন, বিয়ে করলেই তিনি অযোগ্য হয়ে গেছেন এমন ধারণা তুলে ধরা হয়েছে। অথচ কিছুদিন আগেই একই মহল ডাকসুর সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য ও সিনেট সদস্য সাবিকুন নাহার তামান্নার দুই সন্তানের মা হওয়াকে গৌরবান্বিত করেছে। তার প্রশ্ন, মা হয়ে দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হলে বিয়ে করলে কেন অযোগ্যতা আসে?

তিনি আরও বলেন, বিয়ে যদি অপরাধ হয়, তাহলে তার একদিন আগে বিয়ে করা পুরুষ সহকর্মীরাও কি দোষী নন? নাকি নারী-পুরুষের জন্য আলাদা মানদণ্ড রয়েছে? বিয়ের পর নারীর শুধু সংসারের দায়িত্ব থাকবে এমন মানসিকতারও সমালোচনা করেন তিনি।

জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তাকে কেবল ‘ফেইস’ হিসেবে ভোট পাওয়া বলেও যে চেষ্টা করা হয়েছে, সেটাকেও অযৌক্তিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করেন তন্বী। তিনি বলেন, সমালোচকদের উচিত নিজেদের অবস্থান পর্যালোচনা করা এবং ভিন্নমত সহনশীলতা ও সহযোগিতার মানসিকতা গড়ে তোলা।

রাজনৈতিক ভিন্নমত থাকলেও ব্যক্তিগত আক্রমণ ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য থেকে সরে এসে পরমতসহিষ্ণু হওয়ার শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।