Image description

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিতে এবার ভারত, পাকিস্তান, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের ২৬টি দেশ ও ৭টি আন্তর্জাতিক সংস্থার নির্বাচনী প্রধানদের নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে নাসির কমিশন। এই ২৬ দেশ ও ৭টি সংস্থা থেকে মোট ৮৩ জনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসি।

পর্যবেক্ষকদের আতিথেয়তার বিষয়ে ইসি জানায়, এসব দেশ ও সংস্থা থেকে আগত মোট ৮৩ জন বিদেশি পর্যবেক্ষকের আবাসন (একোমোডেশন) ও খাবারের (ফুড) যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করবে নির্বাচন কমিশন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা তুলে ধরতেই কমিশনের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

যেসব দেশ ও সংস্থার প্রধানদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে ইসি। দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে- প্রতিবেশী দেশ ভারতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন গনেশ কুমার। পাকিস্তানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার সিকান্দার সুলতান রাজা এবং নেপালে রাম প্রসাদ ভাণ্ডারি।

অন্যান্য দেশের মধ্যে রয়েছেন; ভুটানের ডিকি পেমা (প্রধান নির্বাচন কমিশনার), শ্রীলঙ্কার আর এম এ এল রত্নায়েকে (চেয়ারম্যান, নির্বাচন কমিশন), মালদ্বীপের মোহাম্মদ জাহিদ (প্রেসিডেন্ট, নির্বাচন কমিশন), থাইল্যান্ডের নারাং কলানওয়ারিন (চেয়ারম্যান), ইন্দোনেশিয়ার মোহাম্মদ আফিফুদ্দিন (চেয়ারম্যান), ফিলিপাইনের অ্যাটর্নি জর্জ এরউইন এম গার্সিয়া (প্রধান কর্মকর্তা), জাপানের ফুরুয়া মাসাতাকা (চেয়ার, সেন্ট্রাল ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট কাউন্সিল), দক্ষিণ কোরিয়ার রো তায়ে-আক (চেয়ারম্যান, ন্যাশনাল ইলেকশন কমিশন)।

এছাড়া, পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে কানাডার চিফ ইলেক্টরাল স্টিফেন পেরাল্ট, ফ্রান্সের কনস্টিটিউশনাল কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট রিচার্ড ফেরান্ড এবং রাশিয়ার চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এলা আলেকজান্দ্রোভনা পামফিলোভা, অস্ট্রেলিয়ার জেফরি পোপ এপিএম (ভারপ্রাপ্ত নির্বাচন কমিশনার), নিউজিল্যান্ডের কার্ল লে কুয়েন (চিফ ইলেক্টরাল অফিসার), তুরস্কের আহমেদ ইয়েনার (চেয়ারম্যান, সুপ্রিম ইলেকশন বোর্ড), জর্ডানের এইচ ই ইঞ্জিনিয়ার মুসা মায়তাহ (চেয়ারম্যান, বোর্ড অব কমিশনারস), নাইজেরিয়ার প্রফেসর জোশ ওজো আমুপিতান (চেয়ারম্যান), সাউথ আফ্রিকার সাই মামাবোলো (চিফ ইলেক্টরাল অফিসার)। এছাড়া কাজাখস্তান, উজবেকিস্তান, জর্জিয়া, রোমানিয়া, মালয়েশিয়া ও মঙ্গোলিয়ার নির্বাচনী প্রধানদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংস্থার মধ্যে রয়েছে, সার্ক মহাসচিব মো. গোলাম সারওয়ার, কমনওয়েলথ মহাসচিব শার্লি বচওয়ে এবং ওআইসি মহাসচিব হিসেন ব্রাহিম তাহা, এনডিআইর তামারা উইটেস (প্রেসিডেন্ট), আইআরআই প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল টুইনিং, আনফ্রেলের চেয়ারম্যান এইচ ই রোহানা এন হেতিয়ারাচ্চি, এ-ওয়েব এর সেক্রেটারি এইচ ই ড. হার্নান পেনাগোস জিরাল্ডো।

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন (২০২৪) : এই নির্বাচনে ৪০টি পর্যবেক্ষক প্রতিষ্ঠানের ৫১৭ জন বিদেশি এবং স্থানীয় ৮৪টি প্রতিষ্ঠানের ২০ হাজার ২৫৬ জন দেশি পর্যবেক্ষক অংশ নেন।

একাদশ সংসদ নির্বাচন (২০১৮) : ৮১টি দেশি প্রতিষ্ঠানের ২৫ হাজার ৯০০ জন প্রতিনিধি ভোট পর্যবেক্ষণ করেন। বিদেশি পর্যবেক্ষক হিসেবে কমনওয়েলথ, ওআইসি, ফেমবোসা ও এএইএ থেকে আমন্ত্রিত ৩৮ জন এবং বিভিন্ন মিশনের ১২৫ জন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

দশম সংসদ নির্বাচন (২০১৪) : সব দল অংশ না নেওয়ায় এই নির্বাচনে পর্যবেক্ষক সংখ্যা ছিল সবচেয়ে কম। মাত্র ৪ জন বিদেশি এবং স্থানীয় ৮ হাজার ৮৭৪ জন পর্যবেক্ষক এতে অংশ নেন।

নবম সংসদ নির্বাচন (২০০৮) : এ বছর রেকর্ড সংখ্যক ১ লাখ ৫৯ হাজার ১১৩ জন দেশি এবং ৫৯৩ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ভোট পর্যবেক্ষণ করেছিলেন।

ইইউ ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান রেকর্ড বলছে, ২০১৮ এবং ২০১৪ সালের নির্বাচনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও যুক্তরাষ্ট্র কোনো পর্যবেক্ষক পাঠায়নি। পরবর্তী সময়ে ওই দুটি নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে তারা বিভিন্ন সময় প্রশ্ন উত্থাপন করেছিল। তবে আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এবার আগেভাগেই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আমন্ত্রণ জানালো কমিশন।