মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) আমার মাকে বলেছেন, ওপর লেভেলের চাপ আছে বলেই আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। আমার প্রশ্ন, ওপর লেভেলের লোক কে? বুধবার (৭ জানুয়াররি) এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন ‘জুলাইযোদ্ধা’ তাহরিমা জান্নাত সুরভী।
সুরভী বলেন, মামলার বাদী সাংবাদিক দুর্জয় যখন মামলা দায়ের করে, তখনও শুনেছি ওপর লেভেলের চাপ আছে। অথচ, কোর্টে ম্যাজিস্ট্রেট যখন প্রশ্ন করল, এক নম্বর বিবাদীর বিরুদ্ধে আপনার কাছে কোনো প্রমাণ আছে কি না, তিনি বললেন, না। তাহলে কেন আমার রিমান্ড মঞ্জুর হইল—ওই ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আমার প্রশ্ন।
‘দুর্জয় আমার কাছে আপসনামা নিয়ে আসে। আমি সেখানে সই করিনি। আমি তার বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার একটি মামলা করেছিলাম। সেই প্রেক্ষিতে আমার কাছে আপসনামা নিয়ে আসে।’
শারীরিক ও মানসিবভাবে অসুস্থ থাকার কথা উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে সুরভী বলেন, আমি এটিও বলব, যে প্রমাণগুলো আমি সামাজিকমাধ্যমে ছেড়েছি, সেগুলো যদি একটু ভালোভাবে খেয়াল করেন, তাহলেই বুঝবেন।
গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্ন রেখে সুরভী বলেন, আপনারা ঢাকার সাংবাদিক, আপনারা যখন ঢাকার বাইরে কাজে যাবেন, অবশ্যই অফিসকে ইনফর্ম করবেন। আমি যদি ওকে নিউজের কথা বলে গাজীপুর নিয়ে যাই, ও কেন অফিসকে ইনফর্ম করল না? অফিসকে ইনফর্ম না করে ও গেছে, এ জন্য ওকে বাংলাদেশে প্রতিদিন থেকে বের করে দিয়েছে। তিনি বলেন, এই মামলা থেকে শুধু জামিন দিলেই হবে না। আমাদের জামিন দিতে হবে। কারণ, এই মামলায় আমি আর থাকতে চাচ্ছি না।
এর আগে, গত ২৪ ডিসেম্বর দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীতে যৌথবাহিনীর অভিযানে সুরভীকে তার নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। টঙ্গী এলাকার সেলিম মিয়ার মেয়ে সুরভী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী ও ‘জুলাইযোদ্ধা’ হিসেবে পরিচিত। গ্রেপ্তারের সময় তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। তাকে ঘুম থেকে তুলে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় পুলিশ। এ সময় পুলিশের সঙ্গে কয়েকজন সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। গ্রেপ্তারের পর ঘুমন্ত অবস্থা থেকে পুলিশ সুরভীকে নিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
শীর্ষনিউজ