Image description

যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী বৈদেশিক নীতির কড়া সমালোচনা করেছেন জার্মান প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক ভাল্টার স্টাইনমায়ার। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক এবং গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকির মতো ঘটনাগুলোকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন আর বিশ্বব্যবস্থার রক্ষক নয়; বরং তা ধ্বংসকারী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

স্টাইনমায়ার বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, বিশ্বকে এমন একটি ‘ডাকাতের আস্তানায়’ পরিণত হতে দেওয়া যাবে না। নীতিহীন শক্তিশালী দেশগুলো যা খুশি তাই ছিনিয়ে নেবে এবং পুরো বিশ্বকে গুটিকয়েক পরাশক্তির ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে বিবেচনা করবে—এটা হতে পারে না।

সাবেক এই জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কিন আচরণকে ইতিহাসের দ্বিতীয় ‘মর্মান্তিক ভাঙন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। রাশিয়ার ক্রিমিয়া দখল এবং ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক আগ্রাসনকে তিনি প্রথম ঐতিহাসিক ধাক্কা হিসেবে উল্লেখ করেন।

স্টাইনমায়ার বলেন, যে যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল, এখন তাদের এহেন ‘মূল্যবোধের অবক্ষয়’ দ্বিতীয় বড় বিপর্যয়। তাঁর মতে, বিশ্বে গণতন্ত্র এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি হুমকির মুখে।

  

প্রেসিডেন্টের এই কঠোর অবস্থান মূলত গত কয়েক দিনের অস্থির বিশ্ব পরিস্থিতিরই প্রতিফলন। গত শনিবার মার্কিন অভিযানে মাদুরোর অপহরণকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন ইউরোপীয় নেতারা। এরপরই ‘জাতীয় নিরাপত্তা অগ্রাধিকার’ বলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি ন্যাটো জোটের মধ্যে গভীর ফাটল সৃষ্টি করেছে।

  

জার্মান প্রেসিডেন্ট মনে করেন, বর্তমান সংকট কাটাতে কেবল ইউরোপই যথেষ্ট নয়। তিনি বিশ্বব্যবস্থাকে রক্ষা করতে ব্রাজিল ও ভারতের মতো উদীয়মান শক্তিগুলোকে ‘সক্রিয় হস্তক্ষেপ’ করার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘স্থিতিশীলতার স্বার্থে এই দেশগুলোকে বৈশ্বিক আইনের সুরক্ষায় শামিল করতে হবে।’

উল্লেখ্য, জার্মানিতে প্রেসিডেন্টের পদটি মূলত আলংকারিক হলেও স্টাইনমায়ারের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক গুরুত্ব পাচ্ছে। বার্লিন এখন সরাসরি ওয়াশিংটনের নীতি থেকে নিজেদের দূরত্ব বজায় রাখার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স