ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে এমফিল ও পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তিতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগ্রহী প্রার্থীদের নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে। এমফিল ভর্তিতে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আবেদনের সুযোগ থাকলেও পিএইচডিতে শুধু সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর অথবা এমফিল পাশ শিক্ষার্থীদের আবেদনের সুযোগ রয়েছে। আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতর থেকে আলাদা দুটি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়।
এমফিল প্রোগ্রামে ভর্তির আবেদন
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমফিল প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য আগ্রহী প্রার্থীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ফরমে আবেদনপত্র আহ্বান করা হয়েছে। প্রার্থীদের সংশ্লিষ্ট বিভাগ/ইনস্টিটিউটের শিক্ষকদের মধ্য থেকে তত্ত্বাবধায়ক নির্বাচন করতে হবে এবং তত্ত্বাবধায়কের অধীনে ও মাধ্যমে এমফিল প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য আবেদন করতে হবে। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে (https://du.ac.bd) আবেদন ফরম ডাউনলোড করা যাবে। ভর্তি ফরমের ফিস বাবদ ১ হাজার টাকা আগামী ১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে জনতা ব্যাংক টিএসসি শাখায় জমা দিতে হবে। আবেদনপত্র যথাযথভাবে পূরণ করে আগামী ১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগের চেয়ারম্যান/ইনস্টিটিউটের পরিচালকের অফিসে জমা দিতে হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আবেদনপত্রের সঙ্গে ফিস বাবদ টাকা জমার রশিদের মূলকপি, সকল পরীক্ষা পাশের সনদ ও নম্বরপত্রের ফটোকপি ও সম্প্রতি তোলা ১ কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি সংশ্লিষ্ট তত্ত্বাবধায়ক/বিভাগের চেয়ারম্যান/ইনস্টিটিউটের পরিচালক কর্তৃক সত্যায়িত করে জমা দিতে হবে। এছাড়া, গবেষণার একটি রূপরেখা (Synopsis) জমা দিতে হবে।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়/ইউজিসি স্বীকৃত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়/বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক/স্নাতক (সম্মান) মাস্টার্স ডিগ্রি প্রাপ্ত হলে প্রয়োজনীয় শর্তপূরণ সাপেক্ষে আগ্রহী প্রার্থীরা সরাসরি এমফিল প্রোগ্রামে আবেদন করতে পারবেন। এমবিবিএস/সমমান ডিগ্রিধারী প্রার্থীগণ তাদের ডিগ্রির সঙ্গে সম্বন্ধযুক্ত সংশ্লিষ্ট বিভাগে/ইনস্টিটিউটে আবেদন করতে পারবেন। প্রার্থীদের শিক্ষা জীবনের সকল পরীক্ষায় ২য় বিভাগ/শ্রেণি এবং সিজিপিএ/জিপিএ পদ্ধতিতে ৫.০০ স্কেলে ন্যূনতম ৩.৫০ এবং ৪.০০ স্কেলে ন্যূনতম ৩.০০ থাকতে হবে। প্রতিবন্ধী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীভুক্ত ও হিজড়া প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সকল পরীক্ষায় ন্যূনতম দ্বিতীয় বিভাগ/শ্রেণি থাকতে হবে এবং সিজিপিএ/জিপিএ পদ্ধতিতে ৫.০০-এর মধ্যে ৩.০০ এবং ৪.০০-এর মধ্যে ২.৫০ থাকতে হবে। বাংলাদেশের সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ব্যতীত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিদেশ থেকে স্নাতক/স্নাতক (সম্মান) ও মাস্টার্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ভর্তির ক্ষেত্রে আবেদনপত্র গ্রহণের পূর্বে তাদের অর্জিত ডিগ্রির সমতা নিরূপণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় সমতা নিরূপণ কমিটির আহ্বায়কের (ডিন, ফার্মেসি অনুষদ, মোকাররম হোসেন খন্দকার বিজ্ঞান ভবন সংলগ্ন) নিকট আবেদন করতে হবে।
চাকুরিরত প্রার্থীদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের অনাপত্তিসহ ১ বছরের ছুটি নিয়ে এমফিল প্রোগ্রামে যোগদান করতে হবে। যোগদান পত্রের সঙ্গে ছুটির অনুমোদন পত্র জমা দিতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এক্ষেত্রে ছুটি নেয়ার প্রয়োজন নেই। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে অনুমতি নিয়ে গবেষণায় যোগদান করতে হবে। ভর্তি ফি জমা দেওয়ার ৩ মাসের মধ্যে ছুটির অনুমোদন পত্র জমা না দিলে রেজিস্ট্রেশনের বিষয় বিবেচনা করা হবে না। আবেদনকারী যদি কোনো উচ্চতর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অথবা গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকেন, সেক্ষেত্রে বিভাগের/ইনস্টিটিউটের একাডেমিক কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট অনুষদ সভার সুপারিশের ভিত্তিতে একাডেমিক পরিষদ তা শিথিল করতে পারে।
পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তির আবেদন
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে (জানুয়ারি-জুন) পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য আগ্রহী প্রার্থীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ফরমে আবেদনপত্র আহ্বান করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে (https://du.ac.bd) আবেদন ফরম ডাউনলোড করা যাবে। আবেদনপত্র যথাযথভাবে পূরণ করে সংশ্লিষ্ট বিভাগের চেয়ারম্যান/ইনস্টিটিউটের পরিচালকের অফিসে জমা দিতে হবে। আবেদনপত্রের সঙ্গে জনতা ব্যাংক টিএসসি শাখায় ১ হাজার টাকা জমার রশিদের মূলকপি, সকল পরীক্ষার নম্বরপত্রের ফটোকপি ও সম্প্রতি তোলা ১ (এক) কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি সংশ্লিষ্ট তত্ত্বাবধায়ক/বিভাগের চেয়ারম্যান/ইনস্টিটিউটের পরিচালক কর্তৃক সত্যায়িত করে জমা দিতে হবে। একইসঙ্গে গবেষণার একটি রূপরেখা (Synopsis) জমা দিতে হবে। বিদেশ থেকে অর্জিত ডিগ্রির সমতা নিরূপণের পর ভর্তির আবেদন করতে হবে। কোনো তথ্য গোপন বা ভুল তথ্য দিলে ভর্তি বাতিল বলে গণ্য হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য প্রার্থীকে এমফিল পাশ অথবা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৪ বছর মেয়াদি স্নাতক সম্মান ও ১ বছর মেয়াদি মাস্টার্স ডিগ্রি অথবা ৩ বছর মেয়াদি স্নাতক সম্মান ও ১ বছর মেয়াদি মাস্টার্স ডিগ্রির অধিকারী হতে হবে। প্রার্থীদের সকল পরীক্ষায় কমপক্ষে ২য় বিভাগ/শ্রেণিসহ ন্যূনতম ৫০% নম্বর থাকতে হবে। সিজিপিএ নিয়মে মাধ্যমিক/সমমান থেকে স্নাতক/স্নাতকোত্তর পর্যন্ত সকল পরীক্ষায় সিজিপিএ ৫-এর মধ্যে ৩.৫ অথবা সিজিপিএ ৪-এর মধ্যে ৩ থাকতে হবে।
প্রার্থীদের স্বীকৃতমানের জার্নালে প্রকাশিত কমপক্ষে ২টি গবেষণা প্রবন্ধ থাকতে হবে। কলা অনুষদ, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ও বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ক্ষেত্রে অন্তত ১টি গবেষণা প্রকাশনা একক নামে হতে হবে। ৩ বছর মেয়াদি স্নাতক সম্মান এবং ১ বছর মেয়াদি মাস্টার্স ডিগ্রি ধারীদের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের স্নাতক পর্যায়ে কোন স্বীকৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে ২ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে অথবা কোন স্বীকৃতমানের গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে ২ বছরের গবেষণা সংক্রান্ত কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে অথবা সরকারি, বেসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে ২ বছরের চাকুরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এ ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্যের জন্য এমফিল-পিএইচডি শাখায় যোগাযোগ করা যাবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।