Image description
 

গত বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বিটিআরসি ভবনে হামলার ঘটনার পর যে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল, তা কাটিয়ে আজ সকাল থেকে রাজধানীসহ দেশের সব জেলায় মোবাইল ফোনের দোকানগুলো খোলা হয়েছে। এনইআইআর (NEIR) বা অবৈধ হ্যান্ডসেট বন্ধের প্রযুক্তি চালুর প্রতিবাদে একটি অসাধু চক্র দোকান বন্ধ রাখার হুমকি দিলেও সাধারণ ব্যবসায়ীরা তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

সরেজমিনে রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্ক ও পুলিশ প্লাজা, ফার্মগেট এলাকার দোকানগুলোতে দেখা গেছে, বিক্রেতারা স্বাভাবিকভাবেই তাদের ব্যবসা পরিচালনা করছেন। ব্যবসায়ীদের দাবি, তারা বৈধভাবে ব্যবসা করতে চান এবং সরকারের এনইআইআর উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তবে যারা অবৈধ পথে ফোন এনে সরকারকে হাজার হাজার কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে, তারাই ভয়ভীতি দেখিয়ে বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছিল।

বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী অ্যাসোসিয়েশনের একজন নেতা বলেন, 'মুষ্টিমেয় কিছু ‘ল্যাগেজ পার্টি’ ও সিন্ডিকেটের জন্য আমরা সাধারণ ব্যবসায়ীরা ব্যবসা বন্ধ রাখব না। বিটিআরসি আমাদের আশ্বাস দিয়েছে যে বৈধ হ্যান্ডসেটগুলো নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না, তাই আমরা দোকান খুলেছি।'

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ব্যবসায়ী বলেন, 'আমরা বৈধভাবে ভ্যাট-ট্যাক্স দিয়ে ব্যবসা করি। কতিপয় অবৈধ আমদানিকারকের স্বার্থ রক্ষায় আমরা আমাদের রুটি-রুজি বন্ধ রাখতে পারি না। আমরা নিজেদের অফিসিয়াল শোরুম গুলোর নিরাপত্তার জন্য থানায় সাধারণ ডায়েরি করে রেখেছি আমাদের প্রতিষ্ঠানের যে কোনো হামলা হলে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নিব।'

বিটিআরসি ভবনে হামলার পর আগারগাঁওয়ের বিটিআরসি ভবন ও আশপাশের এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর টহল লক্ষ্য করা গেছে। বিটিআরসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং কোনো দুষ্কৃতকারীকে ছাড় দেওয়া হবে না।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, যারা দোকান খোলা রাখবে তাদের পূর্ণ নিরাপত্তা দেওয়া হবে। কোনো উস্কানি বা হামলার চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মার্কেটগুলো খুলে যাওয়ার পর গ্রাহকদের উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো। তবে এখন অধিকাংশ গ্রাহকই ফোন কেনার আগে *#০৬# ডায়াল করে আইএমইআই (IMEI) নম্বরটি যাচাই করে নিচ্ছেন। বিক্রেতারাও গ্রাহকদের আশ্বস্ত করতে সরকারি ডাটাবেজের মাধ্যমে ফোন চেক করে তবেই বিক্রি করছেন।

কারিগরি সূত্র জানিয়েছে, গত ৪৮ ঘণ্টায় এনইআইআর পোর্টালে হ্যান্ডসেট যাচাইয়ের হার কয়েক গুণ বেড়েছে। সাধারণ মানুষ এখন অনেক বেশি সচেতন। সরকার ইতিমধ্যে ঘোষণা করেছে যে, আগামী ৯০ দিন কোনো ফোন বন্ধ করা হবে না, তবে অবৈধগুলো ‘গ্রে’ ক্যাটাগরিতে চিহ্নিত থাকবে।

সিন্ডিকেটের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে মার্কেটগুলো খুলে যাওয়ায় মোবাইল ফোনের বাজারে স্থবিরতা কেটে গিয়ে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।