Image description

সরকারী সিদ্ধান্ত মেনে ২-৪ জানুয়ারী খুরুজের জোড় ও ২২-২৪ জানুয়ারী বিশ্ব ইজতেমা হচ্ছে না। সরকারী সিদ্ধান্ত সকল পক্ষ মেনে নেয়ায় উত্তেজনা নিরসন হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (০১ জামনুয়ারী)  বিবদমান দুই পক্ষ কালের কন্ঠকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

তাবলীগ জামাত বাংলাদেশ (শুরায়ী নেজাম)-এর মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান কালের কন্ঠকে জানানা, তাবলীগ জামাত বাংলাদেশ (শুরায়ী নেজাম) ২-৪ জানুয়ারী খুরুজের জোড় করছে না।

প্যান্ডেল খোলা হচ্ছে ফলে এখন খালি হচ্ছে ইজতেমা ময়দান।

তিনি বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে খুরুজের জোড়সহ কোনো ধরনের সমাবেশ বা অনুষ্ঠান আয়োজন না করার অনুরোধ জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-৬ শাখা থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এ বিষয়ে বলা হয়, মুরুব্বিগণ সবসময় প্রশাসনের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।

এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। তিনি বলেন, “আগামী ২-৪ জানুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিতব্য খুরুজের জোড়ে যারা অংশগ্রহণ করতেন, অর্থাৎ যারা আল্লাহর রাস্তায়ায় চিল্লা ও  তিন চিল্লার জন্য বের হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তাদেরকে টঙ্গী ইজতেমা মাঠে জমায়েত না হয়ে নিজ নিজ জেলা ও এলাকা থেকেই বের হওয়ার জন্য মুরুব্বিদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। যারা পাঁচ দিনের জোর থেকে আল্লাহর রাস্তায় বের হয়েছিলেন তাদেরকেও ইজতেমা মাঠে এখন না এসে ওয়াক্ত পুরা করে আসার জন্য মুরুব্বিদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তিনি আরো জানান, টঙ্গী মাঠে কোনো ধরনের সমাবেশ হচ্ছে না।
” খুরুজের জোড় উপলক্ষে টঙ্গী মাঠে যে প্যান্ডেল নির্মাণ করা হয়েছিল, তা ইতোমধ্যে খুলে ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ থেকে একটি টিম ও বিষয়গুলা পর্যবেক্ষণ করেন।

এদিকে তাবলীগ জামাত বাংলাদেশের (সাদপন্থী) গণমাধ্যম সমন্বয়ক মো: সায়েম কালের কন্ঠকে বলেন, খুরুজের মজমার আয়োজন করেছিল জুবায়ের পন্থীরা। আমরা স্বরাষ্ট মন্ত্রনালয়, ধর্ম মন্ত্রনালয়, নির্বাচন কমিশনার, গাজীপুর পুলিশ কমিশনারের কাছে প্রতিবাদ লিপি পাঠিয়েছি । আমরা নির্বাচনের আগে টঙ্গীর ময়দানে এক পক্ষের খুরুজের মজমা বন্ধ করার আহবান জানাচ্ছি।

তা না হলে  জুবায়ের পন্থীরা খুরুজের নামে ইজতেমা করলে আমরা ২২,২৩ ও ২৪ জানুয়ারী ইজতেমা করব বলে সরকারকে লিখিতভাবে  জানিয়েছি। যেহেতু তারা খুরুজ করবে না তাই আমরাও ২২-২৪ ইজতেমা করব না। আমরা সরকারী সিদ্ধান্তের সাথে একমত।

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ আলম হোসেন কালের কন্ঠকে বলেন, বিশ্ব ইজতেমা নির্বাচনের পরে হবে। নির্বাচন কমিশনের পরিপত্রে ধর্মীয় কাজের ক্ষেত্রে স্পষ্ট করে সব কিছু বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ব ইজতেমার আইন শৃঙ্খলার দায়িত্বপ্রাপ্ত গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি শাহীন খান কালের কন্ঠকে বলেন,  সরকারী আদেশ প্রতিপালনের জন্য সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।