Image description

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে নির্মমভাবে কুপিয়ে আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। দুই ছাত্রকে ভবনের ছাদে কুপিয়ে সেখান থেকে ফেলে দেওয়া হয়। ভবনের ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া দুই ছাত্রের মধ্যে একজনের নাম রাজিউর রহমান রাজু। তিনি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র, তবে বিভাগের নাম জানা যায়নি। আরেকজনের নাম এখনো জানা যায়নি।

রোববার (৩১ আগস্ট) দুপুরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত কয়েকজনকে শিক্ষার্থীরা উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেছে। আহত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। এখন বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

রোববার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেইটসহ আশপাশের এলাকায় স্থানীয় গ্রামবাসী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে চলা সংঘাত এখনো অব্যাহত আছে। গ্রামের লোকজনকে বড় রামদাসহ আরও বিভিন্ন ধারালো, দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলায় অংশ নিতে দেখা গেছে।

একাধিক সূত্র জানায়, রাতভর সংঘর্ষের পর রোববার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পরীক্ষা কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। শিক্ষার্থীরাও ক্লাসে যোগ দেননি। রাতে সংঘর্ষের পর স্থানীয় লোকজন সকালে আবার সড়কে অবস্থান নিতে শুরু করে। দুই নম্বর গেইট এলাকার বিভিন্ন ভাড়া বাসায় বিশ্ববিদ্যালয়ের যে শিক্ষার্থীরা থাকেন, তারা যার যার বাসায় আটকা পড়ে যান।

বেলা ১১টার পর ক্যাম্পাস থেকে ছোট ছোট দলে শিক্ষার্থীরা ওই এলাকায় যাওয়া শুরু করেন। ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা একজোট হয়ে দুই নম্বর গেইট এলাকায় গেলে ফের স্থানীয়দের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। তখন উপ-উপাচার্য কামাল উদ্দিনসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের লোকজন পরিস্থিতি শান্ত করতে সেখানে যান। কিন্তু সংঘর্ষের মধ্যে ইটের আঘাতে উপ-উপচার্যসহ শতাধিক শিক্ষার্থী ও গ্রামবাসী আহত হন।

 

সোশ্যাল মিডিয়ায় আসা ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে গুলি ছুড়তে দেখা যায়। ধানক্ষেতের মধ্যে এক শিক্ষার্থীকে দা দিয়ে কোপাতে দেখা যায় কয়েকজন গ্রামবাসীকে। বিকেল ৩টার দিকেও দুপক্ষের মধ্যে থেমে থেমে সংঘর্ষ চলছিল। দুপক্ষ দুই দিকে লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান নিয়ে ছিল এবং বৃষ্টির মতো ঢিল ছুড়ছিল।

এর আগে, শনিবার (৩০ আগস্ট) মধ্যরাতে একই এলাকায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় জোবরা গ্রামবাসীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। পুলিশ, চবির নিরাপত্তা বাহিনী এবং প্রক্টরের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। বর্তমানে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসাকেন্দ্রের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু তৈয়ব বলেন, রাতে অন্তত ৬০ জন আহত শিক্ষার্থীকে তারা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছেন। তাদের মধ্যে ২১ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) রাসেল বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে আছি। এখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।