
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে নির্বাচনি ডামাডোল। নির্বাচনকে সামনে রেখে পঞ্চগড়ের দুটি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী ও মনোনয়নপ্রত্যাশীরা এরই মধ্যে শুরু করেছেন আগাম প্রচার। দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে সভা-সমাবেশ ছাড়াও উঠান বৈঠকে নির্বাচনি কার্যক্রম শুরু করেছেন তারা। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী চূড়ান্ত হয়েছে। আর চূড়ান্তের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থীও। একটি আসনে শক্ত প্রার্থী হতে পারেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সারজিস আলম। এছাড়া অন্য দলগুলোর তৎপরতা এখনো দেখা যাচ্ছে না।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপির ভোটবাক্স, জামায়াতের জনবান্ধব রাজনীতি এবং জুলাই বিপ্লবের অংশীজন হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টি—ভোটের মাঠে এ ত্রিমুখী লড়াই দেখতে পারেন পঞ্চগড়বাসী। বিশেষ করে পঞ্চগড়-১ আসনে এ ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘসময় ধরে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকারের সাজানো ভোট ভোট খেলায় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। নিজেদের ভোট দিতে না পারায় আগামী নির্বাচনে ভোটাররা সঠিক মানুষ খুঁজে নিতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।
সীমান্ত এ জনপদের মানুষের প্রত্যাশা ছাত্র-জনতার সংগ্রাম এবং ত্যাগের মাধ্যমে জুলাই অভ্যুত্থানে দেশমুক্ত হয়েছে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের হাত থেকে। বহু প্রাণ ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে দ্বিতীয়বারের মতো স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের সুযোগ। আগামী নিবার্চনে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠবে এমন প্রত্যাশা সবার।
অন্যদিকে ফ্যাসিবাদী সরকারের বিদায়ের এক বছরের মাথায় দেশে যে রাজনৈতিক সহিংসতা, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, ক্ষমতার দাপট, মামলা-হামলাসহ নানা অরাজকতা চলছে, তাতে সাধারণ মানুষ তাদের আস্থা হারিয়ে ফেলছেন। দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে মানুষ কিছুটা নিরাশ। তাদের ধারণা—অন্তর্বর্তী সরকার ভোটের আগে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক করতে না পারলে বিপর্যস্ত হতে পারে নির্বাচন।
পঞ্চগড়-১ (সদর, তেঁতুলিয়া ও আটোয়ারী)
জাতীয় সংসদের পঞ্চগড়-১ আসন। এ আসনে নির্বাচনের জন্য বিএনপির প্রার্থী প্রায় চূড়ান্ত। জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার মুহাম্মদ জমির উদ্দিন সরকারের ছেলে ব্যারিস্টার নওশাদ জমির আগামী নির্বাচনে এ আসনে প্রার্থী হচ্ছেন—এটা প্রায় নিশ্চিত। তবে বিএনপি থেকে অন্য কোনো সম্ভাব্য প্রার্থীর তৎপরতা চোখে পড়ছে না। জানতে চাইলে নওশাদ জমির আমার দেশকে বলেন, দেশপ্রেম গণতন্ত্র এবং স্বাধীনতার মূল্যবোধ বিক্রি করে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার দেশ চালিয়েছে। মানুষের অধিকার হরণ করেছে। এখন সময় এসেছে মানুষ বিএনপিকে দেশ গড়ার সুযোগ হাতে তুলে দেবে।’
বিএনপির এ মনোনয়নপ্রত্যাশী বলেন, ‘জাতীয় অর্থনীতিতে পঞ্চগড় জেলার ভূমিকা অনেক। এখানকার চা-শিল্প, পাথর, বালু, পর্যটন দেশের অর্থবাণিজ্যে বড় ভূমিকা রাখছে। জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি এলে সম্ভাবনার সব দ্বার উন্মোচন করে পঞ্চগড়ের মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা হবে।’
পঞ্চগড় বিএনপির প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব জাহেরুল ইসলাম কাচ্চু বলেন, ‘সন্ত্রাস, সহিংসতা, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে দলের যে নির্দেশ—তা আমরা মেনে চলছি। দলে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে কেউ সুযোগ নেবে তা বিএনপি মেনে নেবে না। শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে তার জায়গা দলে নেই। বিএনপি নেতৃত্ব দেওয়া দল, হাই কমান্ড থেকে যাকে মনোনীত করা হবে, আমরা তার হয়েই কাজ করব।’
এদিকে জামায়াতে ইসলামী থেকে আগেভাগেই প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। দলের জেলা আমির মাওলানা ইকবাল হোসাইন এ আসনে একক প্রার্থী হচ্ছেন। জুলাই অভ্যুত্থানের পর অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে জেলায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে জামায়াত ইসলামী। কেন্দ্রীয় মহাসমাবেশসহ বেশকিছু সভা-সমাবেশ করেছে দলটি। সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে পিছিয়ে নেই জামায়াতের প্রার্থী । ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী একটি আদর্শ নিয়ে চলে। আমরা ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য মানুষের কাছে যাচ্ছি, তাদের সাড়াও পাচ্ছি। আল্লাহ সহায় হলে ইনশাআল্লাহ জামায়াত মানুষের সেবা করার সুযোগ পাবে।’
এছাড়া জাতীয় সমাজতান্তিক দলের (জাসদ) কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সাবেক সংসদ সদস্য নাজমুল হক প্রধান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, জাগপার কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও দলীয় মুখপাত্র রাশেদ প্রধান ছাড়াও ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন, জাকের পার্টি থেকে প্রার্থী দেওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে। আবার জোটবদ্ধ নির্বাচন হলে প্রার্থীর সংখ্যাও কমে আসতে পারে বলে জানা গেছে।
এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমও গণসংযোগে পিছিয়ে নেই। অন্যায়, ঘুস, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিহাদ’ ঘোষণা করেছেন তিনি। পঞ্চগড়ের সন্তান হিসেবে এখানকার মানুষ তাকে মূল্যায়ন করবে—এমনটি আশা করেন তিনি। দল গঠনের পর বিশাল গাড়িবহর নিয়ে শোডাউন দেওয়ার পর থেকেই তিনি আলোচনায় আসেন। এরপর কয়েকবার তিনি পঞ্চগড়ে এসে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন।