Image description
বাগেরহাটের কচুয়ায় মোবাইল ব্যাংকিং সেবা (এমএফএস) বিকাশের পরিবেশক প্রতিষ্ঠানের বাচ্চু শেখ নামের এক বিক্রয় কর্মীকে চাপাতি দিয়ে কোপ দিয়ে নগদ টাকার ব্যাগ ছিনতাই করা হয়েছে।
 
রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুর পৌনে ১টার দিকে কচুয়া উপজেলার সাইনবোর্ড মোড়ের গোল চত্বরের কাছে এ ঘটনা ঘটে।
 
ছিনতাই হওয়া ব্যাগে প্রায় ৬ লাখ টাকা ছিল বলে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
 
ভুক্তভোগী বাচ্চু শেখ বাগেরহাটে বিকাশের পরিবেশক প্রতিষ্ঠান জাবেদ এন্টারপ্রাইজের ডিএসও (ডিস্ট্রিবিউশন সেলস অফিসার)।
 
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকাশের ডিএসও রাস্তা পার হচ্ছিলেন। দুটি মোটরসাইকেলে করে আসা অজ্ঞাতপরিচয় পাঁচজন রাস্তার মাঝে তাকে চাপ দেন এবং কাছে থাকা ব্যাগ টান দেয়। বাচ্চু ব্যাগ না ছেড়ে ‘ছিনতাইকারী, ছিনতাইকারী’ বলে চিৎকার শুরু করেন। তখন ছিনতাইকারীরা তাদের সঙ্গে থাকা ব্যাগ থেকে চাপাতি বের করে তাকে কোপাতে উদ্যত হন। আশপাশের লোকজনকেও তারা চাপাতি দেখিয়ে ভয় দেখান।
 
 
একপর্যায়ে ছিনতাইকারীরা বাচ্চুকে কোপ দিলে তিনি সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন এবং রাস্তায় পড়ে যায়। এ সময় ছিনতাইকারীরা তার ব্যাগ নিয়ে মোটরসাইকেলে করে বাঁধাল-পিরোজপুর সড়কের দিকে পালিয়ে যায়।
 
বিকাশের পরিবেশক প্রতিষ্ঠান জাবেদ এন্টারপ্রাইজের মহাব্যবস্থাপক মো. হুমায়ুন কবীর কুদরতী বলেন, ‘তাদের ডিএসওরা বিকাশ এজেন্টদের (দোকানি) নগদ টাকা ও ই-মানি সরবরাহ করে থাকেন। প্রতিদিনের মতো রোববার সকালে অফিস থেকে টাকা নিয়ে বাচ্চু শেখ সাইনবোর্ড বাজারে যান। পথে কয়েকটি দোকানে লেনদেন করে বাজারে পৌঁছে তিনি মোটরসাইকেল রেখে একটি দোকানে লেনদেন করেন।’
 
এরপর রাস্তা পার হয়ে অন্য একটি দোকানে যাওয়ার সময় দুটি মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা তার ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। বাচ্চু ব্যাগ ধরে রাখতে চাইলে তাকে চাপাতি দিয়ে কোপাতে যান তারা। এ সময় রাস্তায় পড়ে গিয়ে বাচ্চু শেখ কিছুটা ছিলে গিয়ে জখম হন। পড়ে যাওয়ার পরও তাকে চাপাতি দিয়ে কোপাতে যান ছিনতাইকারীরা। পরে তার কাছ থেকে ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে দুটি মোটরসাইকেলে করে চলে যান তারা।
 
মহাব্যবস্থাপক জানান, ব্যাগে নগদ আনুমানিক ৬ লাখ টাকা ছিল। লেনদেন হয়েছে, ফলে কিছু কমবেশি হতে পারে।
 
 
দিনদুপুরে এমন ঘটনা স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আত্মঙ্ক সৃষ্টি করেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ।
 
বাগেরহাটের কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল মামুন বলেন, ‘খবর শুনে ঘটনাস্থল পরিদর্রশন করেছে পুলিশ। প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে বর্ণনা শোনা হয়েছে। ওই এলাকায় থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
 
দুমাস আগেও একইভাবে মোটরসাইকেলে এসে বাগেরহাট সদর উপজেলার বেমরতা ইউনিয়নের ভদ্রপাড়া গ্রামের হেরেমের মোড় এলাকায় অস্ত্রের মুখে বিকাশের ডিএসওর কাছ থেকে ২ লক্ষাধিক টাকাসহ ব্যাগ ছিনতাই করে ছিল দুর্বৃত্তরা। গেল ৩ সেপ্টেম্বরের ওই ঘটনার আগে পরে এ ধরনের বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে বাগেরহাটে।
 
গত ২৮ অক্টোবর বাগেরহাট সদরের পুরাতন মাজার মোড় এলাকায় বাংলালিংকের এক বিক্রয় প্রতিনিধিকে কুপিয়ে প্রায় নগদ টাকা ও অফিসের ব্যাগ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ১ সেপ্টেম্বর বাগেরহাটের ডাচ্–বাংলা ব্যাংক থেকে ছয় লাখ টাকা নিয়ে যাত্রাপুর এজেন্ট ব্যাংকিং পয়েন্টে যাওয়ার পথে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিচয়ে ছিনতাইয়ের শিকার হন এক ব্যক্তি। গেল দুই মাসে জেলার চিতলমারীসহ বিভিন্ন উপজেলায় অন্তত ১০টির অধিক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।