মাকে সঙ্গে নিয়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিল করেছেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার বাহাদুরপুরে অনুষ্ঠিত ওই মিছিলের ছবি-ভিডিও সামাজিকমাধ্যমে প্রকাশের পর ছাত্রলীগের পাঁচ কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে মিছিলে অংশ নেওয়া নজরুলের মাকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে কোনো তথ্য জানায়নি পুলিশ।
রোববার (৮ নভেম্বর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সাইফুল প্রামাণিক (২০), ইরান প্রামাণিক (২২), নয়ন মোল্লা (২০), রাব্বি হোসেন (২২) ও সুহান শেখ ওরফে সোহান (২৩)। তাদের সবার বাড়ি পাংশা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাগমারা ও মেঘনা এলাকায়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার পাঁচজন নিষিদ্ধ ঘোষিত বাহাদুরপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী। ২০২৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর পাংশা থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর ১৫(১) ও ১৫(৩) ধারায় করা একটি মামলার তদন্তে পাওয়া তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে পুলিশি পাহারায় তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়।
এর আগে, শনিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে কয়েকটি ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেন। সেগুলো পাংশার বাহাদুরপুরে অনুষ্ঠিত মিছিলের বলে দাবি করেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে নজরুল ইসলাম লেখেন, নিজের গ্রাম থেকেই মুক্তির আন্দোলন শুরু করছেন তিনি। ওই মিছিলে তার মা অংশ নিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন। অতীতে নিজের ও পরিবারের ওপর হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগ তুলে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।
প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, মাস্ক পরা এক নারী ব্যানারের সামনে হাত উঁচিয়ে স্লোগান দিচ্ছেন। তার পেছনে আরও কয়েকজনকে স্লোগান দিতে দেখা যায়।
পাংশা থানা-পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৭ নভেম্বর ভোরে বাহাদুরপুর এলাকায় সরকারবিরোধী অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্যে একত্রিত হয়ে মিছিলে অংশ নেন গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা। তদন্তে এ বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
পাংশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাঈনুল ইসলাম বলেন, মিছিলে অংশ নেওয়ার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মিছিলের নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মোহাম্মদ নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তারের জন্য তদন্ত চলছে। তাঁকে গ্রেপ্তারে আইনি প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।