চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সে চুরির ঘটনা ঘটেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়সহ অন্তত পাঁচটি দপ্তরের দরজার তালা ও লক কেটে কম্পিউটারের সিপিইউ ও হার্ডডিস্কসহ বিভিন্ন মূল্যবান যন্ত্রপাতি চুরি করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় ভবনের বেশ কয়েকটি সিসিটিভি ক্যামেরা নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়। ঘটনার সময় উপজেলা পরিষদ ভবনে কোনো নৈশপ্রহরী ছিলেন না বলে জানা গেছে।
গতকাল শুক্রবার সকালে উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সে গিয়ে চুরির বিষয়টি আঁচ করতে পারেন এক উদ্যোক্তা। পরে তিনি বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্তৃপক্ষকে জানান।
খবর পেয়ে একই দিন দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবদুর রহমান ও চন্দনাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম দিদারুল ইসলাম সিকদার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় পাশের একটি পরিত্যক্ত ভবন থেকে কয়েকটি কম্পিউটার মনিটর ও সিপিইউর খোলা অংশ পাওয়া যায়।
উপজেলা প্রশাসনের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, চুরি হওয়া দপ্তরগুলোর মধ্যে রয়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, উপজেলা কৃষি কার্যালয়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কার্যালয়, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় ও সমবায় কার্যালয়। এ ছাড়া উপজেলা ডিজিটাল সেন্টারসহ অন্যান্য কক্ষ থেকেও কম্পিউটার ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতি চুরি হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
সূত্র জানায়, চোরেরা বিভিন্ন অফিস কক্ষের দরজার তালা ও লক কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে কম্পিউটারের মনিটর ও সিপিইউ পাশের একটি পরিত্যক্ত ভবনে নিয়ে যায়। সেখানে সিপিইউ খুলে মূল্যবান হার্ডডিস্ক ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ নিয়ে যায় তারা। চুরির ঘটনা আড়াল করতে ভবনের বেশ কয়েকটি সিসিটিভি ক্যামেরাও নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়।
এদিকে উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় একাধিক দপ্তরে চুরির ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ভবনে নৈশপ্রহরী না থাকা এবং সিসিটিভি ক্যামেরা নিষ্ক্রিয়ের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মোহাম্মদ ইফতেখার হোসাইন তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, চন্দনাইশ উপজেলার সকল সরকারি দপ্তরে ভয়াবহ চুরি। কম্পিউটারের হার্ডডিস্কসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ নথি গায়েব। কিসের আলামত?
চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবদুর রহমান বলেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ব্যানার তৈরির জন্য একজন উদ্যোক্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। শুক্রবার সকালে তিনি উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সে এসে চুরির বিষয়টি আঁচ করতে পেরে আমাকে খবর দেন। পরে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। চোরের দল বিভিন্ন দপ্তরে প্রবেশ করে কিছু গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি নিয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি কোনো স্বার্থান্বেষী মহল বা চক্র উপজেলা প্রশাসনের সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে।
চন্দনাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম দিদারুল ইসলাম সিকদার বলেন, খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। চুরি হওয়া কিছু জিনিসপত্র পাশের একটি পরিত্যক্ত ভবনে পাওয়া গেছে। তবে কী কী মালামাল চুরি হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো আমাদের জানানো হয়নি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ থানায় লিখিত অভিযোগও করেননি।