Image description

ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমসহ শিক্ষার ছয় প্রকল্পকে আমলা, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও স্কুল শিক্ষকদের আর্থিক চরিত্র হরণ প্রকল্প বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন। বাংলাদেশের আমলারা যত প্রকল্প তৈরি করেন, সেগুলো একমাত্র উদ্দেশ্য দুর্নীতি বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

শনিবার (৭ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে এ মন্তব্য করেছেন অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন। তিনি লিখেছেন, ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব প্রকল্প, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম প্রকল্প, শিক্ষার্থীদের জুতা, স্কুল ড্রেস ও শিক্ষা উপকরণ প্রকল্প, মিড্বি-ডে মিল প্রকল্প, বিনামূল্যে বই বিতরণ। এইসব প্রকল্পকে আমি বলি আমলা, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও স্কুল শিক্ষকদের আর্থিক চরিত্র হরণ প্রকল্প।’

তিনি বলেন, ‘এক টিভি রিপোর্টে শুনলাম শুধু স্কুল ড্রেসের জন্য প্রতি বাচ্চার পেছনে নাকি খরচ হবে ১০ হাজার ৫০০ টাকা। এর মধ্যে ২ হাজার ৫০০ টাকা বড়জোর ড্রেসের পেছনে খরচ হবে। বাকি ৮ হাজার টাকাই মন্ত্রণালয় থেকে ছাত্রের হাতে ড্রেস পৌঁছুতে পৌঁছুতে হওয়া হয়ে যায়। যাত্রাপথে যার কাছেই নোঙর করেছে সেই কিছু টাকা মেরে দিয়েছে।’

এইভাবে কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের দুর্নীতি করার রাস্তা তৈরি হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মিড্-ডে মিল নিয়ে প্রায়ই সংবাদপত্রে সংবাদ হয় যে, প্রধান শিক্ষক ও অন্যান্য শিক্ষকরা খাবার বাড়ি নিয়ে যাচ্ছে বা পচা ডিম্ ও অন্যান্য খাবারের মান নিয়ে প্রশ্ন এসেছে। আর বিনা মূল্যের বই ছাপাতে গিয়ে কি পরিমান সিন্ডিকেট ও দুর্নীতির ডালপালা তৈরি হয়েছে, তা আমাদের পত্রিকাগুলো সাক্ষী দিতে পারবে।’

অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন বলেন, ‘এখন আবার শুরু করেছে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম প্রকল্প। এটি আওয়ামীলীগ আমলের প্রকল্প। সেই সময় হাজার কোটি টাকা খরচ করে অনেক স্কুলে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম তৈরি করেছিল। সেগুলোর কোনো হদিস এখন পাবেন না। সেই হাজার কোটি টাকা খরচ করে কি লাভ হলো? যদি লাভ না হয়ে থাকে আবার কেন সেই প্রকল্প?’ 

‘তার চেয়েও বড় কথা প্রাথমিক স্কুলের ক্লাসরুম কেন মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর দিয়ে করা হবে? ক্লাসরুমগুলোতে বরং উন্নত মানের ব্ল্যাক কিংবা গ্রীন বোর্ড দিন আর ডাস্ট-ফ্রি চক দিন। প্রথমে বিদেশ থেকে আমদানি করে দিন। তারপর দেশেই ডাস্ট-ফ্রি চক তৈরির কারখানা তৈরীর ব্যবস্থা নিন। পৃথিবীর অনেক দেশ এখন ক্লাসরুমে ট্যাব, কম্পিউটার ও মাল্টি মিডিয়া ব্যবহার নিষিদ্ধ করছে আমরা তখন শুরু করছি। কি তামসা’, মন্তব্য করেন তিনি।

অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন বলেন, ‘আসলে এইসব প্ৰকল্প করাই হচ্ছে দুর্নীতির রাস্তা তৈরির জন্য। বাংলাদেশের আমলারা যত প্রকল্প তৈরির প্রকল্প হাতে নেয়, এইগুলোর একমাত্র উদ্দেশ্য হলো দুর্নীতি। মিড্কে-ডে মিলের জন্য কেউ দাবি করেছিল? বিনামূল্যে স্কুল ড্রেসের জন্য কেউ দাবি করেছিল? মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের জন্য কেউ দাবি করেছিল?’ 

‘বিনামূল্যে বইয়ে দেওয়ার জন্য কেউ দাবি করেছিল? ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাবের জন্য কোন শিক্ষক দাবি করেছিল? বাংলাদেশের এমন ইতিহাস আছে যেখানে দাবি ছাড়া সরকার কোন ভালো কাজ করে? তাহলে ডাল মে কুচ না শুধু বহুত কালা হ্যায়। We have to বুঝতে হবে’, যোগ করেন ঢাবির এই অধ্যাপক।