গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির এক দিন পর বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান চিত্রনায়িকা পরীমনি। জামিনের পর আদালত চত্বর থেকে বের হওয়ার সময় এক গণমাধ্যমকর্মীর সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ান তিনি। এ সময় সমকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রবিউল ইসলাম রাজুর দিকে তেড়ে যাওয়া, গালিগালাজ ও তার ফোন কেড়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মুখ খুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খান। তিনি সাংবাদিক রাজুকে অপদস্থ করার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে তার পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, সমকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রবিউল ইসলাম রাজুকে ব্লেম দিয়ে অপদস্থ করা হয়েছে আমি এই ঘটনাটির তীব্র নিন্দা ও ঘৃণা জানাই। আমরা রাজুর সাথে আছি, ইনশাল্লাহ। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
পোস্টে তিনি লেখেন, ‘শেখ হাসিনার ৯০ পার্সেন্ট পতন হয়ে গেছে, ১০ পার্সেন্ট ধাক্কা দাও।’ তখন গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি পড়ছিল। নুরুল হক নুরকে কোর্টে তোলার জন্য আনা হয়। বৃষ্টির কারণে দু'জন সাংবাদিক ছাড়া বাকিরা বারান্দায়, এদিক সেদিক অবস্থান নেয়। পুলিশ নুরুল হক নুরকে যখন লিফটে তুলবে, তখন সমকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রবিউল ইসলাম রাজু নুরুল হক নুরকে প্রশ্ন করে বলেন, নুর ভাই আন্দোলন তো বন্ধ হয়ে গেছে, আপনার কোনো বার্তা আছে?
‘তখন নুরুল হক নুর বলেন, শেখ হাসিনার ৯০% পতন হয়ে গেছে, ১০% ধাক্কা দাও.....। ভিডিওটি সমকালের পেজ থেকে আপলোড দেওয়ার সাথে সাথে মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। সকল গণমাধ্যম এই ভিডিও প্রচার করে। জাতি পায় নতুন শক্তি, সাহস ও নির্দেশনা। আজকের দিনে হয়ত কিছু মানুষের কাছে এই বক্তব্যের গুরুত্ব নেই। কিন্তু গণঅভ্যুত্থানের সময় এটিই ছিলো সবচেয়ে সাহসী ও ক্ষুরধার বক্তব্য।’
তিনি আরও লেখেন, অনেকে এই বক্তব্য শুনেছে, কিন্তু কেউ পিছনের গল্প জানে না। পিছনের সেই গল্প সৃষ্টির নায়ক সমকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রবিউল ইসলাম রাজু। অত্যন্ত অমায়িক ও ভাল ছেলে সে। তাকে কখনো রাগতে দেখিনি। সবসময় পরিপাটি থাকে। ঠিক পোশাক আশাকে সে যেমন পরিপাটি; আচরণ, কথাবার্তা, ব্যবহারও একইরকম পরিপাটি ও মৃদু। ছেলেটির এক হাতে জন্মগতভাবে ত্রুটি আছে। এটি তাকে কখনো কোনো বাধা সৃষ্টি করতে পারেনি। বরং স্বাভাবিক অনেকের চেয়ে তার ক্যামেরা ধরার স্টাইল ও ভিডিও এডিটিং সুন্দর। আমি তার সাংবাদিকতা জীবনের সফলতা কামনা করি। তাকে যেভাবে ব্লেম দিয়ে অপদস্থ করা হয়েছে আমি এই ঘটনাটি তীব্র নিন্দা ও ঘৃণা জানাই। আমরা রাজুর সাথে আছি, ইনশাল্লাহ।
এর আগে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, নিরাপত্তাকর্মীদের টানাহেঁচড়া ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে এক গণমাধ্যমকর্মীর ওপর ক্ষিপ্ত হন পরীমনি। এ সময় তাকে বলতে শোনা যায়, ‘তুই আমার গায়ে হাত দিলি কেন?’ এরপর ওই সাংবাদিকের দিকে বারবার হাত উঁচিয়ে তেড়ে যান তিনি।
তবে পরীমনির অভিযোগ অস্বীকার করে ওই সাংবাদিক বলেন, ‘আমি কেন আপনার গায়ে হাত দেব?’ এ সময় তিনি পরীমনিকে উদ্দেশ করে আরও বলেন, ‘আপনি আমার ট্রাইপড ভেঙে দিলেন কেন?’
ভিডিওতে পরীমনির সঙ্গে থাকা আরেক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনি টেনে হাত ছিঁড়ে ফেলছেন।’ এ সময় পরীমনির সঙ্গে ওই সাংবাদিকের বাগ্বিতণ্ডা চলতে থাকে।
এর আগে সকালে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির একদিন পর তার জামিন মঞ্জুর করেন আদালত।