ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) বই ফেরত দিতে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরি হলে শিক্ষার্থীদের গুনতে হয় এক টাকা জরিমানা। তবে জরিমানার পরিমাণ মাত্র এক টাকা হলেও তা পরিশোধের প্রক্রিয়া বেশ দীর্ঘ। এই অর্থ জমা দিতে শিক্ষার্থীদের যেতে হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) এলাকার জনতা ব্যাংকের শাখায়। দীর্ঘ ৫১ বছর ধরে চলে আসা এই নিয়ম নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি সামনে আসার পর জরিমানার অর্থ অনলাইনে আদায়ের ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার পরিচালক।
গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নাবিলা হক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের এক টাকা জরিমানা হওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। এরপরই বিষয়টি আলোচনায় আসে।
জানা যায়, দুর্গাপূজার ছুটির আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান গ্রন্থাগার থেকে একটি বই নিয়েছিলেন নাবিলা। বইটি ফেরত দেওয়ার নির্ধারিত শেষ তারিখ ছিল ২২ অক্টোবর। তবে ছুটি শেষে গত ৩ নভেম্বর বইটি জমা দিতে গেলে নির্ধারিত সময়ের পর ফেরত দেওয়ায় তাকে এক টাকা জরিমানা করা হয়। গ্রন্থাগার কর্তৃপক্ষ জানায়, জরিমানার অর্থ জমা দিতে হবে টিএসসি এলাকার জনতা ব্যাংকের শাখায়। অর্থাৎ মাত্র এক টাকা জরিমানা পরিশোধ করতেও গ্রন্থাগার থেকে ব্যাংকে গিয়ে টাকা জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয় তাকে।
নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নাবিলা হক বলেন, ‘আমি পুজোর ছুটির আগে বিজ্ঞান গ্রন্থাগার থেকে বই নিয়েছিলাম। বই ফেরত দেওয়ার শেষ তারিখ ২২ তারিখ থাকলেও আমি ৩ তারিখে বই জমা দিতে গেলে ২২ তারিখ থেকে হিসাব করে আমাকে এক টাকা জরিমানা করা হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার হল কাছে, তাই আমার অতটা প্যারা হয়নি। কিন্তু বিষয়টা বেশ অদ্ভুত। কারণ আমি যদি অন্য কোনো হলে থাকতাম যেহেতু আমি সায়েন্স লাইব্রেরি থেকে বইটা এনেছি, সেখান থেকে জনতা ব্যাংকের শাখা বেশ দূরে।’
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের পরিচালক অধ্যাপক ড. কাজী মোস্তাক গাউসুল বলেন, ‘আসলে আমারও জানা ছিল না, এক টাকা হলেও ব্যাংকে দিতে হয়। এই জরিমানার নিয়ম অনেক পুরোনো। আমি কাগজপত্র ঘেঁটে দেখলাম, ১৯৭৫ সাল বা স্বাধীনতার আগ থেকেই এই নিয়ম রয়েছে। আমাদের সামনে লাইব্রেরি কমিটির মিটিংও আছে। আমি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলব। যেহেতু এটি সামান্য অর্থ, আমরা হয়ত অনলাইনে নেওয়ার চেষ্টা করব।’
তিনি জানান, গ্রন্থাগারে বই ফেরত দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময় অতিক্রম করা কিংবা বই হারিয়ে ফেলার জন্য পৃথক নিয়ম রয়েছে। বইয়ের বয়স, মূল্য ও ধরন বিবেচনায় জরিমানা বা ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত কোনো বই হারিয়ে গেলে সাধারণত বইটির মূল্য পরিশোধের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা যায়। তবে পুরোনো বইয়ের ক্ষেত্রে নিয়ম ভিন্ন।
উদাহরণ দিয়ে গ্রন্থাগার পরিচালক বলেন, ১৯৬০ সালের কোনো বইয়ের গায়ে যদি ৫০ পয়সা মূল্য লেখা থাকে, তাহলে সেই বইয়ের ক্ষেত্রে আলাদা নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। অর্থাৎ বইয়ের প্রকাশকাল, গায়ে উল্লেখিত মূল্যসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়।
সামান্য এক টাকা জরিমানা আদায়ে ব্যাংকে গিয়ে টাকা জমা দেওয়ার প্রচলিত পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও এটি পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। গ্রন্থাগার পরিচালক জানান, বিষয়টি আসন্ন লাইব্রেরি কমিটির সভায় উত্থাপন করা হবে। সেখানে আলোচনা করে জরিমানার অর্থ অনলাইনে আদায়ের ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। এতে শিক্ষার্থীদের সামান্য অর্থ জমা দিতেও ব্যাংকে যাওয়ার বাড়তি ভোগান্তি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।