Image description

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর– এই নয় মাসে দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন অন্তত ১৬ জন। তাদের মধ্যে গ্রেপ্তারের আগেই পুলিশ সদস্যদের শারীরিক নির্যাতনে প্রাণ হারিয়েছেন দুজন। আর গ্রেপ্তারের পর ভয়াবহ শারীরিক নির্যাতনের কারণে মৃত্যু হয়েছে আরও চারজনের। এ ছাড়া গ্রেপ্তারের আগে গোলাগুলির ঘটনাতেও প্রাণহানির তথ্য রয়েছে। সবমিলিয়ে এই নয় মাসে অন্তত ১৬ জন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। 

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য। 

এমন পরিস্থিতিতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে পুলিশের বর্তমান আইজিপি আলী হোসেন ফকিরের বিতর্কিত মন্তব্য নতুন করে উদ্বেগ ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, সরকারের অনুমতি-সাপেক্ষে বিচারবহির্ভূত বলপ্রয়োগের এমন ধারণা কি অতীতের বিতর্কিত শাসনব্যবস্থার স্মৃতি ফিরিয়ে আনছে?

ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটলে তার দায় কি শুধু মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের ওপর বর্তাবে, নাকি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষকেও জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইজিপি আলী হোসেন ফকিরের এ ধরনের মন্তব্য সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক এবং সংবিধান, মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকারের মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা, কোনো অবস্থাতেই বিচারবহির্ভূতভাবে শাস্তি কার্যকর করা নয়। সরকারের উচ্চপর্যায়ের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা বা নির্দেশনার প্রমাণ না থাকলেও আইজিপির এই বক্তব্য ভবিষ্যতে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য আইনি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে তার বক্তব্যের পর সরকারের অবস্থান, পরবর্তী পদক্ষেপ এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না, সেসব বিষয় ভবিষ্যতের কোনো বিচারিক অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

তারা আশঙ্কা করছেন, এই সরকার তার মেয়াদ শেষ করলে যদি আইনের মুখোমুখি হয়, তাহলে বর্তমান সরকারের মেয়াদে সংঘটিত বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের প্রতিটি ঘটনা তদন্তের সময় আইজিপির এই বক্তব্যও প্রাসঙ্গিক হিসেবে সামনে আসতে পারে। এমনকি সংশ্লিষ্টতার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ না থাকলেও তার বক্তব্যের কারণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা, জ্ঞাতসারে অপরাধ সংঘটন কিংবা দায় এড়ানোর চেষ্টা নিয়ে তদন্তের প্রয়োজনীয়তা তৈরি হতে পারে।

তারা আরও বলছেন, এমন বক্তব্যের পরও আইজিপিকে দায়িত্বে বহাল রাখা হলে সরকারের অবস্থান নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে জনপরিসরে এমন একটি ধারণা প্রতিষ্ঠিত হতে পারে যে সরকার বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে নীরব অথবা এ ধরনের বক্তব্যকে পরোক্ষভাবে প্রশ্রয় দিচ্ছে। ভবিষ্যতে আইনি বা বিচারিক প্রক্রিয়ায় আইজিপির বক্তব্যটি রাষ্ট্রীয় অবস্থান, প্রশাসনিক মনোভাব কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জ্ঞাতসারের বিষয়টি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে রেফারেন্স হিসেবেও উপস্থাপিত হতে পারে।

dhakapost

বিশেষজ্ঞরা অতীতের অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে বলছেন, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে গুম, ক্রসফায়ার ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ ঘিরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের ভূমিকা ও দায় নিয়ে দেশে-বিদেশে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছিল। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনি জবাবদিহির বিষয়টিও সামনে এসেছে। তাদের মতে, আইজিপির বর্তমান বক্তব্য ভবিষ্যতে একই ধরনের রাজনৈতিক ও আইনি জবাবদিহির প্রশ্ন তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট হয়ে উঠতে পারে। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান সরকার যদি এখনই সুস্পষ্ট অবস্থান না নেয়, তাহলে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের দায় নির্ধারণের প্রশ্নে ভবিষ্যতে সরকার ও প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদেরও কঠিন আইনি ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে।

বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ২ হাজার ৬৯৩ জনকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে রাজনৈতিক সহিংসতায় প্রাণ হারিয়েছেন ২ হাজার ৬৩০ জন। কারাগারে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করতে হয়েছে ১ হাজার ৪৮ জনকে। দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন অন্তত ১৩৩ জন এবং রাষ্ট্রীয় মদদে শুধু জোরপূর্বক গুমের শিকার হয়েছেন ৬৮৪ জন।

এদিকে, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে আসকের ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বরের প্রতিবেদন বলছে, এ বছর বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়ে প্রাণ দিয়েছেন অন্তত ৩৮ জন। শুধু পুলিশের দ্বারাই ওই বছর প্রাণ হারিয়েছেন ১৮ জন। এ ছাড়া ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর অবধি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন (গণ-অভ্যুত্থানের হত্যাকাণ্ড বাদে) অন্তত ২১ জন। তাদের মধ্যে পুলিশের দ্বারাই এই হত্যাকাণ্ডের শিকার ১১ জন।

এ বিষয়ে সাবেক জ্যেষ্ঠ আমলা ও সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহের বিশ্লেষক মো. শেখাবুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘রাষ্ট্র ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এবং দায়িত্বশীল পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিদের বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক ও সংযত হওয়া উচিত। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সর্বোচ্চ পদে থেকে এ ধরনের স্পর্শকাতর বিষয়ে মন্তব্য করার আগে শব্দচয়ন ও বক্তব্যের সম্ভাব্য রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।’

তিনি বলেন, পুলিশের আইজিপির মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির অসতর্ক বক্তব্য সরকারের জন্য অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক ও বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। এমনকি এ ধরনের মন্তব্য সরকারের মানবাধিকারবিষয়ক অবস্থান, রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জবাবদিহি নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।’

dhakapost

এ বিষয়ে প্রশাসনিক আইন বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার জাহিদ রহমান বলেন, ‘আইজিপির এই বক্তব্য বর্তমান সরকারকে ভবিষ্যতে বড় ধরনের রাজনৈতিক ও আইনি সংকটের মুখে ফেলতে পারে। কারণ, পুলিশের সর্বোচ্চ কর্মকর্তার মুখে সরকারের অনুমতি-সাপেক্ষে ক্রসফায়ারের কথা বলা হলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠবে— বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের দায় কি সরকারও গ্রহণ করছে? ভবিষ্যতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ উঠলে সরকারের অবস্থান কী হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।’

‘হাসিনা সরকারের আমলে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ নিয়ে তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বকে যে ধরনের সমালোচনা ও জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হয়েছে, বর্তমান সরকারের সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত। জনগণ পরিবর্তন চেয়েছে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা চেয়েছে; পুরোনো কোনো বিতর্কিত চর্চার পুনরাবৃত্তি দেখতে চায় না।’

dhakapost

এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আইজিপি যেটা বলেছেন, সেটা একটা ভয়াবহ বক্তব্য। তার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি এটা প্রমাণ করেছেন যে অতীতে যেসব ক্রসফায়ার বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ নানা ঘটনা ঘটেছে, সেগুলো ওপরের নির্দেশেই হয়েছে। এগুলোর সাক্ষ্য-প্রমাণও আমরা তুলে ধরেছি। এটি আবারও প্রমাণিত হলো যে এ ধরনের ঘটনা ওপর-মহলের নির্দেশ ছাড়া হয় না। ভবিষ্যতেও ওপর-মহলের নির্দেশ ছাড়া এমন ঘটনা ঘটার কথা নয়।’

“এ কারণেই আন্তর্জাতিক আইনে ‘কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’র কথা বলা আছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড সাধারণত ওপরের পর্যায়ের নির্দেশনা ছাড়া হয় না। আইজিপি তার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি ভয়াবহ বার্তা দিয়েছেন যে ওপর-মহলের নির্দেশ পেলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হবে। এর অর্থ হচ্ছে, আইনের শাসনের প্রতি তার কোনো আনুগত্য নেই। তিনি ওপর-মহলকে সন্তুষ্ট করতে যেকোনো বেআইনি কাজ করতে প্রস্তুত। তার বক্তব্য থেকে এমন ধারণাই তৈরি হয়। এই ভয়াবহ বক্তব্যের দায় তাকে অবশ্যই নিতে হবে। ভবিষ্যতে যদি এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটে, তাহলে সেই দায়দায়িত্ব অবশ্যই ওপর-মহল, অর্থাৎ সরকারের উচ্চপর্যায়ের দিকেও যাবে।”

‘দায়িত্বে অধিষ্ঠিত থেকে আইজিপির এমন বক্তব্য অত্যন্ত ভয়াবহ ইঙ্গিত বহন করে। এমন বক্তব্য দেওয়ার পর তার এই পদে থাকার কোনো অধিকার নেই। এ বিষয়ে ক্ষমা চাওয়া বা বক্তব্য প্রত্যাহার না করে উল্টো বিভিন্ন বিবৃতি দিয়ে তিনি বিষয়টিকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছেন।’

 সাবেক সচিব ও লেখক একেএম আবদুল আউয়াল মজুমদার বলেন, আইজিপির বক্তব্যটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আইন ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা অপরিহার্য। কোনো বক্তব্য বা পদক্ষেপের কারণে যেন ভবিষ্যতে সরকার কিংবা রাষ্ট্রকে আইনি জটিলতায় পড়তে না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকা উচিত। একই সঙ্গে এ ধরনের স্পর্শকাতর বিষয়ে দায়িত্বশীল ও সতর্ক ভাষা ব্যবহার করা প্রয়োজন। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।  

কী বলেছিলেন আইজিপি আলী হোসেন ফকির?

এর আগে গত ২৬ অক্টোবর সকালে রাজধানীর চকবাজারের শাহজাহান ইমাম টাওয়ারে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ইসলামিক ব্যাংকিং সেবা ‘কমিউনিটি ইসলামিক’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইজিপি আলী হোসেন ফকির বলেন, ‘পুলিশ কঠোর হলে বলা হয় “ফ্যাসিস্ট পুলিশ”, আবার নীরব থাকলে বলা হয় “দুর্বল পুলিশ”। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে সরকার যদি অনুমতি দেয় এবং প্রয়োজন হয়, তবে পুলিশ ক্রসফায়ার করতেও পিছপা হবে না।’ তার এই বক্তব্যের পর সমালোচনার মুখে পুলিশের পক্ষ থেকে এর একটি ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, তবে তার জবাবদিহি ও পদত্যাগের দাবিও তুলছেন কেউ কেউ।

এদিকে আইজিপির এই বিতর্কিত মন্তব্যের পর বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়। ওই বিবৃতিতে বলা হয়, আইজিপির বক্তব্যের মূল তাৎপর্য ছিল– আইনের সীমার মধ্যে থেকে পরিস্থিতি অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পুলিশ সদস্যদের পেশাগত আত্মবিশ্বাস ও দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা নিশ্চিত করা।

আইজিপির এই বক্তব্য নিয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আইজিপি একই বক্তব্যে আইন ও সংবিধান অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের কথা বলেছেন, আবার সরকারের অনুমতি পেলে ক্রসফায়ার করার কথাও বলেছেন– এই দুই অবস্থান সাংঘর্ষিক। কোনো সরকারের অনুমতি বিচারবহির্ভূত হত্যাকে বৈধ করতে পারে না।’

আরেকজন মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন বলছেন, ‘দেশে আইনশৃঙ্খলা অবনতি হওয়া মানে পুলিশের ব্যর্থতার যে দায়, সেই দায়টা এখন ক্রসফায়ারের দিকে নিয়ে যাওয়ার যে চেষ্টা, সেটি আইনের চরম বরখেলাপ।’

এদিকে ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির বক্তব্য ঠিক হয়নি। এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান জিরো টলারেন্স বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘সস্তা বাহবা ও ক্রেডিট নেওয়ার জন্য আইজিপির দেওয়া বক্তব্য দেশের ক্ষতি করবে এবং সরকারকে স্বস্তির বদলে বিব্রত ও ভীত করবে। পুলিশ বাহিনীতে অনেক সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তা রয়েছেন, তাদের নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে দিলে সমাজ থেকে অপরাধ দূর করা সম্ভব।’