ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর চাপে কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের ওপর পারমাণবিক হামলা চালাতে পারে ট্রাম্প প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক টাকার কার্লসন এমন মন্তব্য করেছেন। তার মতে, এই হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে ইরানের মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’।
কার্লসনের দাবি, পাহাড়টির প্রায় ৩০০ ফুট গভীরে অবস্থিত ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় ইরান আবারও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম শুরু করেছে বলে ইসরাইলি গোয়েন্দারা দাবি করছেন। প্রচলিত কোনো মার্কিন অস্ত্র দিয়ে এসব স্থাপনা ধ্বংস করা সম্ভব নয়—এমন যুক্তিতে পারমাণবিক হামলার পক্ষে চাপ দিচ্ছেন নেতানিয়াহু।
তিনি আরও বলেন, ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকটের কারণে ক্ষমতায় টিকে থাকতে ট্রাম্পের সমর্থনের ওপর নির্ভর করছেন নেতানিয়াহু । এ পরিস্থিতিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ জোরদার করতে তিনি মার্কিন প্রশাসনের প্রভাবশালী কর্মকর্তাদেরও চাপ দিচ্ছেন।
কার্লসনের আশঙ্কা, ইরানে পারমাণবিক হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসবে। ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় পারমাণবিক বিস্ফোরণের ফলে তেজস্ক্রিয় দূষণ ছড়িয়ে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের কোটি মানুষের পানির উৎস হুমকির মুখে পড়তে পারে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি ও সার সরবরাহব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।
তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করলে বিশ্বজুড়ে নতুন করে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি হবে। রাশিয়া, পাকিস্তান, ভারত, উত্তর কোরিয়াও এ ঘটনাকে নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের যুক্তি হিসেবে দেখাতে পারে। এতে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা ভয়াবহভাবে বেড়ে যাবে।
তবে কার্লসনের দাবি, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ইরানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানোর পক্ষে। তার মতে, যুদ্ধের পরিবর্তে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখা জরুরি।
সূত্র: জিও নিউজ