Image description

দাগ অনুযায়ী জমি কিনে এক দাগে নামজারি ও ভোগদখল করলে ভবিষ্যতে মালিকানা নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে জমির দলিল, নামজারি ও বাস্তব দখলের মধ্যে সামঞ্জস্য রাখা জরুরি। অন্যথায় সহশরিক বা বঞ্চিত ওয়ারিশদের করা মামলায় ক্রেতা বিপাকে পড়তে পারেন।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও আইনগবেষক সিরাজ প্রামাণিকের জানান, একাধিক দাগ থেকে জমি কেনা হলে নামজারিও প্রতিটি দাগ অনুযায়ী করতে হবে। যেমন, কোনো ব্যক্তি একটি দাগ থেকে ৫ শতাংশ, অন্য দাগ থেকে ৩ শতাংশ এবং তৃতীয় দাগ থেকে ২ শতাংশ জমি কিনলে প্রতিটি দাগের জমি আলাদাভাবে নামজারি করতে হবে। বাস্তবে এক জায়গায় ভোগদখলে থাকলেও দাগভিত্তিক মালিকানার হিসাব পরিবর্তন করা যাবে না।

তিনি বলেন, বিক্রেতার মালিকানা বা হিস্যার চেয়ে বেশি জমি দলিলে দেখানো হলে ভবিষ্যতে বিরোধ দেখা দিতে পারে। সহশরিক বা অন্য কোনো ওয়ারিশ আদালতে মামলা করলে জমির মালিকানা ও বিক্রেতার প্রাপ্য অংশ যাচাইয়ের ভিত্তিতে দলিল বা নামজারির বৈধতা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

এক দাগে জমি ভোগদখলে রাখতে করণীয়

বাস্তবে এক দাগে একত্রে জমি ভোগদখল করতে চাইলে সহশরিকদের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে বিনিময় দলিল বা এওয়াজ বদল করে তা যথাযথভাবে নিবন্ধন করা যেতে পারে। এতে জমির অবস্থান ও মালিকানার বিষয়ে আইনি ভিত্তি তৈরি হয়।

অন্যদিকে, ওয়ারিশরা পারস্পরিক সম্মতিতে আপস-বণ্টননামা দলিল নিবন্ধন করলে প্রত্যেকে নির্দিষ্ট দাগে নিজের বরাদ্দ অনুযায়ী নামজারি করতে পারবেন। এতে নির্ধারিত জমির মালিকানা, বিক্রি ও হস্তান্তরের ক্ষেত্রে আইনি স্বচ্ছতা তৈরি হয়।

জমি কেনার আগে যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন

আইনজীবী সিরাজ প্রামাণিকের পরামর্শ, শরিকানা সম্পত্তি কেনার আগে জমির দলিল, খতিয়ান, ওয়ারিশ সনদ ও মালিকানার ধারাবাহিকতা ভালোভাবে যাচাই করা উচিত। শুধু ওয়ারিশ সনদের ভিত্তিতে নামজারি করলেও প্রত্যেক শরিকের মালিকানা নির্দিষ্ট দাগ অনুযায়ী বিবেচিত হবে। তাই জমি কেনার আগে বিক্রেতার প্রকৃত হিস্যা ও দখল সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, আপস-বণ্টননামা দলিল নিবন্ধনের মাধ্যমে শরিকদের নির্দিষ্ট জমির সীমানা ও মালিকানা স্পষ্ট করা সম্ভব। এতে ভবিষ্যতের মামলা-মোকদ্দমা ও জমি নিয়ে বিরোধের ঝুঁকি কমে।