Image description

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে প্রতিপক্ষের হামলার একদিন পর পাঁচ বছরের শিশুকন্যা তোয়াবা আক্তারের গলাকাটা মরদেহের উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই দিনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার বাবা গোলাপ হোসেনেরও (৩২) মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর দেড়টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

এর আগে আজ সকাল ৯টার দিকে সিরাজদিখানের লতব্দী ইউনিয়নের রামকৃষ্ণদী গ্রামের একটি ইটভাটার পাশের একটি জমি থেকে থেকে শিশু তোয়াবা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

গোলাপ হোসেন উপজেলার লতব্দী ইউনিয়নের রামকৃষ্ণদী গ্রামের জয়নাল মিয়ার ছেলে। তবে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে একই ইউনিয়নের দোসরপাড়া গ্রামের শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করতেন।

নিহতের পরিবারের সদস্যদের দাবি, প্রতিবেশী সোহরাব হোসেনের সঙ্গে জমি নিয়ে তাদের বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।

মুন্সিগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. কামরান হোসেন বলেন, আজ সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গোলাপ হোসেনের সঙ্গে বলা কথার সূত্র ধরে প্রতিবেশী সোহরাব হোসেনকে আটক করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, গোলাপের শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়দের সঙ্গে সোহরাবের জমিসংক্রান্ত মামলা-মোকদ্দমা চলছে। এ বিরোধের জেরে উভয় পক্ষের কয়েকজনের কারাভোগের তথ্যও পাওয়া গেছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।

পুলিশ, নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বিকেলে রামকৃষ্ণদী গ্রামের একটি ইটভাটায় কর্মরত নিজের বাবার সঙ্গে দেখা করেন গোলাপ হোসেন। রাত ৮টার দিকে মেয়ে তোয়াবাকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি খাসকান্দির উদ্দেশে রওনা হন তিনি। পথে রামকৃষ্ণদী বাজারে মেয়েকে নিয়ে চা পান করেন গোলাপ। পরে পাথরঘাটা গ্রামে পৌঁছালে একজনের নেতৃত্বে কয়েকজন মুখোশধারী ব্যক্তি তাদের পথরোধ করে। এ সময় গোলাপকে বেধড়ক মারধর ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহতের পর শিশুকন্যাকে ছিনিয়ে নেয় তারা। এর একপর্যায়ে সেখান থেকে পালিয়ে বাবার বাড়িতে পৌঁছান গোলাপ।

জেলার এএসপি কামরান হোসেন বলেন, গোলাপকে মারধর ও জোর করে বিষ খাওয়ানোর অভিযোগ উল্লেখ করে গতকাল রাতেই ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করেন তার বাবা জায়নাল মিয়া। হাসপাতালের নথিতে বিষক্রিয়া ও শরীরে আঘাতের বিষয়টি উল্লেখ ছিল বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি তার পেটের আঘাতের চিকিৎসা করা হয়। তাকে হাসপাতালে ভর্তি থাকতে বলা হলেও ভোরের দিকে তিনি সেখান থেকে এসে আব্দুল্লাহপুরের স্বদেশ হাসপাতাল নামে বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি হন। তবে অবস্থার অবনতি হলে সাড়ে ১১টার দিকে তাকে আবারও ঢামেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই দুপুরে তার মৃত্যু হয়।

শিশু তোয়াবার নানি তাসলিমা বলেন, প্রতিবেশী সোহরাবের সঙ্গে আমার ছেলের জমিসংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। এর জেরেই মেয়ের জামাই-নাতনিকে হত্যা করা হয়েছে বলে তাঁর ধারণা।

গোলাপের মা হাসু বেগম বলেন, সোহরাবদের সঙ্গে তাঁর ছেলের জায়গাজমি নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। সোহরাবকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এ ঘটনা সম্পর্কে অনেক তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

এর আগে সকাল ৯টার দিকে শিশুটির গলা কাটা ও চোখ উপড়ে মরদেহ ইটভাটার পাশের একটি পরিত্যক্ত জমি থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।

জেলার এএসপি কামরান হোসেন বলেন, আজ সকালে রামকৃষ্ণদী গ্রামের একটি ইটভাটার পাশে শিশুর মরদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় সিরাজদিখান থানা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) দল। শিশুটির পরিচয় শনাক্তের চেষ্টার একপর্যায়ে জানা যায়, সে গোলাপ হোসেনের মেয়ে। পরে গোলাপের অবস্থান জানতে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে, তিনি আব্দুল্লাহপুরের স্বদেশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুলিশের একটি দল সেখানে গিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলে। পরে তাকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যান স্বজনেরা।

ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, গোলাপকে মারধর ও জোর করে বিষ খাওয়ানোর অভিযোগ উল্লেখ করে বুধবার রাতেই ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের নথিতে বিষক্রিয়া ও শরীরে আঘাতের বিষয়টি উল্লেখ ছিল বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি তার পেটের আঘাতের চিকিৎসা করা হয়। তাকে হাসপাতালে ভর্তি থাকতে বলা হলেও ভোরের দিকে তিনি সেখান থেকে এসে আব্দুল্লাহপুরের স্বদেশ হাসপাতালে ভর্তি হন। তবে অবস্থার অবনতি হলে তাকে সাড়ে ১১টার দিকে আবারও ঢামেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এএসপি কামরান হোসেন বলেন, স্বদেশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গোলাপ পুলিশকে জানিয়েছেন, সোহরাব নামে এক ব্যক্তির নেতৃত্বে কয়েকজন মুখোশধারী তার ও শিশুকন্যার ওপর হামলা চালান। তার বক্তব্যের ভিত্তিতে সোহরাবকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার সময় তিনি কোথায় ছিলেন এবং অন্য কারও সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়েছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গোলাপ হোসেনের মরদেহের ময়নাতদন্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হবে। অন্যদিকে, শিশু তোয়াবার মরদেহের সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটনে সিরাজদিখান থানা-পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে বলে জানান এএসপি কামরান হোসেন।