Image description

বেসরকারি স্কুল-কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি নীতিমালায় পরিবর্তন আসতে পারে। নীতিমালা সংশোধনের পর নতুন করে আবেদন নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে নীতিমালার কোন কোন ধারায় পরিবর্তন আনা হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।গতকাল বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে শিক্ষকদের বদলি নিয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরগুলোর কর্মকর্তা এবং সভায় উপস্থিত একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়।সভা সূত্র জানায়, নিজ জেলা, বদলির ক্ষেত্রে জটিলতা, সব এমপিওভুক্ত শিক্ষকের বদলির সুযোগ এবং আবেদনে ভুল সংশোধনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিদ্যমান জটিলতা সমাধানে নীতিমালা সংশোধনের পক্ষে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনেকে।নাম প্রকাশ না করার শর্তে সভায় উপস্থিত এক কর্মকর্তা বলেন, শিক্ষকদের বদলি নীতিমালায় কিছু পরিবর্তন আসবে। সংশোধনের পর নতুন করে আবেদন নেওয়া হবে কি না, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। বড় ধরনের পরিবর্তন এলে নতুন করে আবেদন নেওয়া হতে পারে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব আবদুল খালেক দেশে ফেরার পর এ বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।সভায় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, এনটিআরসিএর সুপারিশে দূরের প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের বদলির সুযোগ থাকা প্রয়োজন। তবে সভায় উপস্থিত কয়েকজন প্রতিষ্ঠানপ্রধান চলমান প্রক্রিয়ায় বদলির ফল প্রকাশের পক্ষে মত দেন। তাদের আশঙ্কা, নীতিমালা পরিবর্তন করে নতুন করে আবেদন নেওয়া হলে শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হতে পারে।সভায় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বদলির সুযোগ থাকবে, তবে তা হতে হবে নিয়মের মধ্যে। কোনোভাবেই স্বেচ্ছাচারিতা বা নিয়মবহির্ভূত সুযোগ দেওয়া হবে না। বদলি প্রক্রিয়া সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে ত্রুটিমুক্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। শিক্ষাসচিব দেশে ফেরার পর মন্ত্রণালয়ে আলোচনা করে বদলি প্রক্রিয়ার পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।জানা যায়, বেসরকারি এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের শিক্ষকরা দীর্ঘদিন বদলির দাবি জানিয়ে আসছিলেন। পরে এ সংক্রান্ত নীতিমালা করে গত ২১ আগস্ট থেকে আবেদন নেওয়া শুরু হয়। এক দফা সময় বাড়িয়ে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বদলির আবেদন নেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ে ১৩ হাজার ৬৭৭ জন শিক্ষক বদলির আবেদন করেন। তবে প্রায় দেড় মাসেও বদলির ফল প্রকাশ করা হয়নি।