পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটে প্রথমবারের মতো জ্বালানি লোড করার জন্য পারমাণবিক জ্বালানির প্রথম চালান সরবরাহ করেছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটম। বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটে পরবর্তী সময়ে পুনরায় জ্বালানি লোড করার জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানির প্রথম চালানও বাংলাদেশে পৌঁছেছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে রোসাটম।
সংস্থাটি বলেছে, দ্বিতীয় ইউনিটের ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টরের জন্য জ্বালানি তৈরি করেছে রোসাটমের জ্বালানি বিভাগের প্রতিষ্ঠান নভোসিবিরস্ক কেমিক্যাল কনসেনট্রেটস প্ল্যান্ট (এনসিসিপি)।
বিশেষ কার্গো বিমানে এসব জ্বালানি বাংলাদেশে আনা হয়েছে। সাইবেরিয়া থেকে প্রথম ইউনিটের জন্যও নতুন পারমাণবিক জ্বালানি পাঠানো হয়েছে। প্রথম ইউনিটের রিঅ্যাক্টরে প্রাথমিক জ্বালানি লোডের পর প্রথম এক বছরের জ্বালানি চক্র শেষ হলে এই জ্বালানি ব্যবহার করে পুনরায় জ্বালানি লোড করা হবে।
বিদ্যুৎকেন্দ্রে পৌঁছানোর পর জ্বালানি বিশেষভাবে নির্মিত সংরক্ষণাগারে রাখা হয়েছে। রিঅ্যাক্টরে লোড করার আগে এগুলোর বাধ্যতামূলক পরীক্ষা করা হবে। এসব পরীক্ষায় জ্বালানির নির্ধারিত কারিগরি মান ও নিরাপত্তা বিষয়টি যাচাই করা হবে।
বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, প্রকল্পের ঠিকাদার এবং জ্বালানি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত যৌথ কমিশন এই পরীক্ষা পরিচালনা করবে। পুরো প্রক্রিয়ায় পারমাণবিক ও বিকিরণ নিরাপত্তার বিধিবিধান অনুসরণ করা হবে বলে জানিয়েছে রোসাটম।
রোসাটমের বিজ্ঞপ্তিতে প্রথম ইউনিটের অগ্রগতির বিষয়েও তথ্য দেওয়া হয়েছে। চলতি বছর প্রথম ইউনিটের ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টরের মূল অংশে পারমাণবিক জ্বালানি লোডের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এরপর অক্টোবর মাসে রিঅ্যাক্টরটি ন্যূনতম নিয়ন্ত্রিত শক্তিস্তরে পৌঁছায়।
রোসাটম জানিয়েছে, প্রকৌশলীরা এখন পর্যায়ক্রমে রিঅ্যাক্টরের শক্তি উৎপাদনের মাত্রা বাড়িয়ে নির্ধারিত পূর্ণ সক্ষমতায় নিয়ে যাওয়ার কাজ করবেন। এরপর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও প্রস্তুতি সম্পন্ন করে প্রথম ইউনিটকে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। পরবর্তী ধাপে পরীক্ষামূলক বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হবে।
রাশিয়ার সহযোগিতায় পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর রয়েছে।
২০১৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের মূল চুক্তি স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ ও রাশিয়া। প্রকল্পটির প্রথম ইউনিটের মূল নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৭ সালের নভেম্বরে। দ্বিতীয় ইউনিটের কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালের জুলাইয়ে।
চলতি বছরের এপ্রিলে প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডের অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। মে মাসে প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোড সম্পন্ন হয়। এরপর অক্টোবরে রিঅ্যাক্টরটি প্রথমবারের মতো নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিভাজন বিক্রিয়ার পর্যায়ে পৌঁছায়।
রূপপুর প্রকল্পের মূল নকশা প্রণয়ন ও নির্মাণের দায়িত্ব পালন করছে রোসাটমের প্রকৌশল বিভাগ। বিদ্যুৎকেন্দ্রটির দুটি ইউনিট পুরোপুরি চালু হলে দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতা যুক্ত হবে।