২০২৭ শিক্ষাবর্ষের প্রাথমিক স্তরের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে অপ্রয়োজনে নৌকার ছবি রাখার ঘটনায় জড়িত অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল হায়দারকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে।তিনি জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) প্রাথমিক উইংয়ের সদস্য ছিলেন। তাকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে ওএসডি এবং পঞ্চগড় সরকারি কলেজে সংযুক্ত করা হয়েছে। ইকবাল হায়দার বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা। তিনি রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক।বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজ-২ শাখার উপসচিব এ এস এম শাহরিয়ার জাহানের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে তাকে ওএসডি করা হয়।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আগামী ১ নভেম্বরের মধ্যে অধ্যাপক ইকবাল হায়দারকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হতে হবে।
অন্যথায় একই তারিখে অপরাহ্নে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত হবেন মর্মে গণ্য হবে।জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) কর্মকর্তারা জানান, অধ্যাপক ইকবাল হায়দার আওয়ামী লীগ আমলে ২০১৫ সালে এনসিটিবিতে বিশেষজ্ঞ হিসেব পদায়ন পান। টানা ১০ বছর তিনি বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করেছেন। আওয়ামী লীগ আমলের বিতর্কিত শিক্ষাক্রম প্রণয়নের অন্যতম কারিগর ছিলেন তিনি।২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তিনি এনসিটিবিতে টিকে যান। তদবির করে অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে তিনি এনসিটিবির প্রাথমিক শিক্ষাক্রম উইংয়ের সদস্য পদ বাগিয়ে নেন।
এ ঘটনায় এনসিটিবির কর্মকর্তারা বিস্ময় প্রকাশ করেন।এদিকে, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চলতি বছরের বইগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, প্রাথমিকের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির বইয়ে সব মিলিয়ে মোট ৩৫টি পৃষ্ঠায় ৮৮টিরও বেশি নৌকার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম শ্রেণির বাংলা বইয়ের ১০টি পৃষ্ঠায় মোট ৩২টি নৌকার ছবি রয়েছে।দ্বিতীয় শ্রেণির বাংলা বইয়ের ৮টি পৃষ্ঠায় রয়েছে ২৩টি ছবি। আর তৃতীয় শ্রেণির বাংলা বইয়ের ৯টি পৃষ্ঠায় ২৫টি নৌকার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া চতুর্থ শ্রেণির ৩টি পৃষ্ঠায় ৩টি এবং পঞ্চম শ্রেণির ৫টি পৃষ্ঠায় ৫টি নৌকার ছবি পাওয়া গেছে।
এর আগে গত ২৬ অক্টোবর পাঠ্যবইয়ে দাঁড়িপাল্লা ও নৌকার ছবি রাখার ঘটনায় মোট ১০ জনকে বদলি করা হয়। তবে প্রাথমিকের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির বাংলা বইয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রাকিবুর রহমান এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এ নিয়ে এনসিটিবিতে চলছে নানান আলোচনা-সমালোচনা।