Image description

পাঁচ দফা দাবিতে টানা আট দিন ধরে সড়ক অবরোধ চলছে রাঙামাটির সাজেকে। এতে সাজেকের সঙ্গে দেশের অন্যান্য এলাকার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অবরোধের কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকটে পড়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল থেকেও সাজেকের বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ করেন সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা।

বাঘাইহাটের ১০ নম্বর এলাকা ও মাচালংয়ের ১৪ কিলোমিটার এলাকায় সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়। অবরোধের কারণে সড়কে কোনো যানবাহন চলাচল করছে না।

সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএসের সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধসহ পাঁচ দফা দাবিতে সংগঠন দুটি অনির্দিষ্টকালের জন্য এ কর্মসূচি ঘোষণা করে। এখন পর্যন্ত অবরোধকে কেন্দ্র করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা সংঘাতের খবর পাওয়া যায়নি।গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) সাজেকের পরিস্থিতি নিরসনে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া, রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আলোচনা হয়। উজোবাজারে অনুষ্ঠিত ওই আলোচনায় পাঁচ দফা দাবির চারটি মেনে নেওয়া হলেও বাকি একটি দাবি নিয়ে ঐকমত্য না হওয়ায় আলোচনা অমীমাংসিতভাবে শেষ হয়।

এরপর আন্দোলনকারীদের সঙ্গে নতুন করে আলোচনার বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে সাজেকের পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।এদিকে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে জেলা প্রশাসনের গঠন করা তিন সদস্যের কমিটি গত সোমবার বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রশাসনের সম্মেলনকক্ষে স্থানীয় হেডম্যান ও কার্বারিদের সঙ্গে মতবিনিময় করে। তবে আন্দোলনকারী কার্বারি সংগঠনের কেউ ওই সভায় অংশ নেননি। বর্তমানে কমিটির কার্যক্রমও স্থগিত রয়েছে।

কমিটির সদস্য ও সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক শান্তি বিজয় চাকমা বলেন, জেলা প্রশাসনের দায়িত্ব পাওয়ার পর স্থানীয় হেডম্যান ও কার্বারিদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়েছে। সভার বিস্তারিত জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। পরবর্তী সময়ে প্রয়োজন হলে কমিটিকে আবারও ডাকা হবে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।

সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন বলেন, অবরোধের কারণে সাজেক সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে সড়কে অবরোধকারীদের পিকেটিং দেখা যায়নি এবং এখন পর্যন্ত কোথাও সংঘাতের খবর পাওয়া যায়নি।

বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান বলেন, অবরোধকারীদের সঙ্গে পুনরায় আলোচনার বিষয়ে এখনো কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। সড়ক অবরোধ চললেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

শীর্ষনিউজ